ঈদুল আযহা ও কুরবানী
ঈদুল আযহা ও কুরবানীর পরিচয়
যুলহাজ্জ মাসের ১০ তারিখে আমরা ঈদুল আযহার সালাত ও কুরবানী আদায় করি। ঈদ শব্দের অর্থ পুনরাগমন। যে উৎসব বা পর্ব নির্ধারিত দিনে বা সময়ে প্রতি বৎসর ঘুরে ঘুরে আসে তাকে ঈদ বলা হয়। প্রতি সপ্তাহে জুমুআর দিনকে সাপ্তাহিক ঈদ বলা হয়।
হাদীস শরীফে রাসূল (সা) বলেছেন, “মহান আল্লাহ আমাদেরকে বাৎসরিক ঈদ হিসেবে দুটি দিন দিয়েছেন: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দিন।” (আবূ দাউদ, আস-সুনান ১/২৯)
ইসলাম সামাজিক আনন্দ ও উৎসবকে ইবাদত ও জনকল্যাণের সাথে সুংযুক্ত করেছে। ঈদুল ফিতরের দিনে প্রথমে ফিতরা আদায়, এরপর সালাত আদায় এবং এরপর সামাজিক আনন্দ, উৎসব ও শরীয়ত সম্মত খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর ঈদুল আযহায় প্রথমে সালাত আদায়, এরপর কুরবানী করা ও গোশত বিতরণ করা এবং এরপর আনন্দ, খেলাধুলা বা বৈধ বিনোদনের নিয়ম করা হয়েছে। যেন আমাদের আনন্দ পাশবিকতায় বা স্বার্থপরতায় পরিণত না হয়।
ঈদুল আযহার দিনে গোসল করা, যথাসাধ্য পরিস্কার ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা, এক পথে যাওয়া ও অন্য পথে ফিরে আসা ইত্যাদি বিষয়ে আমরা জানি। ঈদুল আযহার দিনে কিছু না খেয়ে খালিপেটে সালাতুল ঈদ আদায় করতে যাওয়া সুন্নাত। সম্ভব হলে ঈদের সালাতের পরে দ্রুত কুরবানী করে কুরবানীর গোশত দিয়ে “ইফতার” করা বা ঈদের দিনের পানাহার শুরু করা ভালো।
কুরবানীর সময় ও গুরুত্ব
রাসূল (স) সাধারণভাবে সূর্যোদয়ের ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ঈদের সালাত আদায় করতেন। বিভিন্ন হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, ঈদুল ফিতরের সালাত তিনি একটু দেরী করে সূর্যোদয়ের ১ বা দেড় ঘন্টা পরে পড়তেন এবং ঈদুল আযহার সালাত একটু তাড়াতাড়ি সূর্যোদয়ের আধাঘন্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে আদায় করতেন। আমাদেরও সুন্নাত সময়ে সালাতুল ঈদ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। তবে প্রয়োজনে কিছু দেরী করা নিষিদ্ধ নয়। তবে সর্বাবস্থায় ঈদুল আযহার সালাত একটু আগে আদায়ের চেষ্টা করতে হবে, যেন কুরবানীর দায়িত্ব পালন করে যথাসময়ে কুরবানীর গোশত খাওয়া ও বন্টন করা সম্ভব হয়।
ঈদুল আযহার অন্যতম ইবাদত ‘‘আযহা” বা কুরবানী আদায় করা। রাসূল (স) বলেন: من وجد سعة لأن يضحي فلم يُضح فلا يحضر مصلانا
“যার সাধ্য ছিল কুরবানী দেওয়ার, কিন্তু
কুরবানী দিল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে উপস্থিত না হয়।” (হাকিম, আল মুসতাদরাক ৪/২৫৮)
উট,
গরু বা মহিষ, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা কুরবানী দিতে হবে। রাসূল (স)সাধারণত
কাটান দেওয়া বা খাসী করা পুরুষ মেষ, ভেড়া বা দুম্বা কুরবানী দিতেন। এছাড়াও তিনি গরু ও উট কুরবানীও
দিয়েছেন।
তিনি স্বাস্থ্যবান
ভাল পশু কুরবানী দিতে উৎসাহ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে রোগা, অসুস্থ, খোড়া, কানা ইত্যাদি ত্রুটিযুক্ত পশু কুরবানী দিতে নিষেধ করেছেন।
এছাড়াও রাসূল (স) বলেন,“যদি তোমাদের কেউ কুরবানীর নিয়্যাত করে তবে যুলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ দেখার পরে সে যেন কুরবানী না দেওয়া পর্যন্ত তার চুল ও নখ স্পর্শ
না করে।” (সহীহ মুসলিম ৩/১৫৬৫-১৫৬৬)
কুরবানীর বিধান
عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِه„ فِي يَوْمِنَا هٰذَا أَنْ نُصَلِّيَ ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ مَنْ فَعَلَه“ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلُ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَه لأَهْلِه لَيْسَ مِنَ النُّسُكِ فِي شَيْءٍ فَقَامَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ وَقَدْ ذَبَحَ فَقَالَ إِنَّ عِنْدِي جَذَعَةً فَقَالَ اذْبَحْهَا وَلَنْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ قَالَ مُطَرِّفٌ عَنْ عَامِرٍ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلاَةِ تَمَّ نُسُكُه“ وَأَصَابَ سُنَّةَ الْمُسْلِمِينَ.
বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের এ দিনে আমরা সর্বাগ্রে যে কাজটি করব তা হল সালাত আদায় করব। এরপর ফিরে এসে আমরা কুরবানী করব। যে ব্যক্তি এভাবে তা আদায় করল সে আমাদের নীতি অনুসরণ করল। আর যে ব্যক্তি আগেই যবেহ করল, তা এমন মাংসরূপে গণ্য যা সে তার পরিবারের জন্য আগাম ব্যবস্থা করল। এটা কিছুতেই কুরবানী বলে গণ্য নয়। তখন আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার দাঁড়ালেন, আর তিনি সালাতের) আগেই যবেহ করেছিলেন। তিনি বললেনঃ আমার নিকট একটি বকরীর বাচ্চা আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাই যবেহ কর। তবে তোমার পরে আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না। মুতাররাফ বারা’ থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতের পর যবেহ করল তার কুরবানী পূর্ণ হল এবং সে মুসলিমদের নীতি গ্রহণ করল। [৯৫১; মুসলিম ৩৫/১, হাঃ ১৯৬১, আহমাদ ১৬৪৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৪)
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم انْكَفَأَ إِلٰى كَبْشَيْنِ أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ فَذَبَحَهُمَا بِيَدِه„ تَابَعَه“ وُهَيْبٌ عَنْ أَيُّوبَ وَقَالَ إِسْمَاعِيلُ وَحَاتِمُ بْنُ وَرْدَانَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَنَسٍ.
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’টি শিং বিশিষ্ট মেষ কুরবানী করা। যে দু’টি মোটাতাজা ছিল বলেও উল্লেখিত হয়েছে।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি সাদা কালো রং এর শিংওয়ালা ভেড়ার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং নিজ হাত দিয়ে সে দু’টিকে যবেহ করলেন।
ইসমাঈল ও হাতিম ইবনু ওয়ারদান এ হাদীসটি আইউব, ইবনু সীরীন, আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আইয়্যূব থেকেও এরকমই বর্ণনা করেছেন। [৫৫৫৩; মুসলিম ৩৫/৩, হাঃ ১৯৬৬, আহমাদ ১২১৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪৩)
আরো পড়তে এখানে ক্লিক করুন। সাইটটি ফলো করে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।
.jpg)