ধৈর্য ধারণের ফল

 



ধৈর্য ধারণ করা মহৎ গুণ। আমরা বিভিন্ন সময় বিপদাপদে নিপতিত হই। দু;খ-কষ্টে পড়ি। ইসলামী শরীয়ার প্রায় সব আমল করতেই ধৈর্যের ভিষণ প্রয়োজন। কুরআন ও হদীসে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে নেক আমলে অটল অবিচল থাকার অনেক সুফল ঘোষণা করা হয়েছে। আসুন আমরা বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করি।

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেনঃ

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱصۡبِرُواْ وَصَابِرُواْ وَرَابِطُواْ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ۞

“হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা ধৈর্য অবলম্বন কর এবং সহিষ্ণু ও সুপ্রতিষ্ঠিত হও; এবং আল্লাহকে ভয় কর যেন তোমরা সুফল প্রাপ্ত হও।” (সূরা আলে ইমরান :২০০)

উক্ত আয়াতে কারীমায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলছেন,  আমার পছন্দনীয় ধর্ম ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক। কঠিন অবস্থায়, মহজ অবস্থায়, বিপদের সময় শান্তির সময় মোট কথা, কোন অবস্থায়ই ওটা পরিত্যাগ করনা। এমনকি প্রাণবায়ু নির্গত হলে যেন ওরাই উপর নির্গত হয় এবং ঐ শত্রুদের হতেও ধৈর্য ধারণ কর ও সহিষ্ণুতা অবলম্বন কর যারা স্বীয় ধর্মকে গোপন করে থাকে। (তাবারী ৭/৫০২) 

সহীহ মুসলিমেসুনানে নাসেঈতে রয়েছে, রাসূল বলেছেনঃ

‘এসো, আমি তোমাদেরকে এমন কাজ শিখিয়ে দিই যার ফলে আল্লাহ তা‘আলা পাপ ক্ষমা করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। তাহলো-

(১) কষ্টের সময় পূর্ণভাবে উযূ করা,

(২) মাসজিদের দিকে গমন করা

(৩) এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা। ওটাই হচ্ছে رِباط, ওটাই হচ্ছে مُرِابِط এবং ওটাই হচ্ছে আল্লাহর পথের প্রস্তুতি গ্রহণ।’ (মুসলিম ১/২১৯, নাসাঈ ১/৮৯)

সহীহ্ বুখারতে ও সাহল ইব্ন সা’দ আস সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল বলেছেনঃ ‘আল্লাহর উদ্দেশ্যে এক দিনের এ প্রস্তুতি সারা দুনিয়া ও ওর সমুদয় বস্তু হতে উত্তম।’ (বুখারী ২৮৯২)

সহীহ্ মুসলিমে রয়েছে, রাসূল বলেছেনঃ

‘এক দিন ও এক রাতের জিহাদের প্রস্তুতি এক মাসের পূর্ণ সিয়াম এবং এক মাসের সারা রাতের জাগরণ হতে উত্তম। ঐ প্রস্তুতি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়ে গেলে সে যত ভাল ভাল কাজ করত সব কিছুরই সে সাওয়াব পেতে থাকবে এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট হতে তাকে আহার্য প্রদান করা হবে এবং কাবরের সাওয়াল জাওয়াব হতে সে নিরাপত্তা লাভ করবে।’ (মুসলিম ১৯১৩)

মুসনাদে আহমাদে রয়েছে, রাসূল বলেছেনঃ ‘প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির আমল শেষ হয়ে যায়, কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে প্রস্তুতির কাজে রয়েছে এবং ঐ অবস্থায়ই মারা গেছে তার আমল কিয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে ও তাকে শাস্তি হতে মুক্তি দেয়া হবে।’ (আহমাদ ৬/২০, আবূ দাঊদ ৩/২০, তিরমিযী ৫/২৪৫)

রাসূল বলেছেনঃ ‘ঐ চোখের উপর জাহান্নামের তাপ হারাম চোখ আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে এবং ঐ চোখের উপরেও জাহান্নামের তাপ হারাম যে চোখ আল্লাহর পথে রাত্রি জাগে।’ (তিরমিযী ১৬৩৯)

সহীহ্ বুখারী রয়েছে, রাসূল বলেছেনঃ ‘দিরহাম ও দিনারের দাস এবং বস্ত্রের দাস ধ্বংস হয়েছে। যদি তাকে ইহা দেয়া হয় তাহলে সে খুশি হয় এবং না দেয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়, সে ধ্বংস হয়েছে এবং বিনষ্ট হয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিরা ধ্বংস হোক এবং অপমানিত হোক, তারা যদি কাটাবিদ্ধ হয় তাহলে তাদেরকে যেন কেহ সাহায্যের জন্য এগিয়ে না আসে। জান্নাত তো ঐ ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য সব সময় তার ঘোড়া প্রস্তুত রাখে, যে কারণে তার চুল থাকে এলোমেলো এবং পা থাকে ধূলি ধূসরিত। যদি তাকে অগ্রবর্তী দলের দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে নিশ্চিতই সে তার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। আর যদি পশ্চাদবর্তী দলের দায়িত্ব প্রদান করা হয় তাহলে সুষ্ঠভাবেই সে তার দায়িত্ব পালন করবে; সে যদি অনুমতি চায় তাকে অনুমতি দেয়া হয়না, সে যদি সুপারিশ করে তা গৃহীত হয়না। (বুখারী ২৮৮৬)

তাফসীর ইব্ন জারীরে রয়েছে যে, আবূ উবাইদা ইব্ন জাররাহ (রা) যুদ্ধক্ষেত্র হতে আমীরুল মু‘মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন উমার ইব্ন খাত্তবকে (রা) একটি পত্র লিখেন এবং সেই পত্রে রোমক সৈন্যদের আধিক্য, তাদের যুদ্ধাস্ত্রের অবস্থা এবং তাদের প্রস্তুতির অবস্থা বর্ণনা করেন এবং লিখেন যে, ভীষণ বিপদের আশংকা রয়েছে। উমার (রা) উত্তর পত্র প্রেরণ করেন যাতে আল্লাহর প্রশংসার পরে লিখিত ছিলঃ ‘মাঝে মাঝে মুমিন বান্দাদের উপরেও কঠিন বিপদ-আপদ নেমে আসে। কিন্ত আল্লাহ্ তা‘আলা সেই কঠিন বিপদের পর তাদের পথ সহজ করে দেন। জেনে রেখ যে, দু’টি সরলতার উপর একটি কাঠিন্য জয়যুক্ত হতে পারেনা। লক্ষ্য কর, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেনঃ

“হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা ধৈর্য অবলম্বন কর এবং সহিষ্ণু ও সুপ্রতিষ্ঠিত হও; এবং আল্লাহকে ভয় কর যেন তোমরা সুফল প্রাপ্ত হও।” (তাবারী ৭/৫০৩)

রাসূল মু‘আয ইব্ন জাবালকে (রা) যখন ইয়ামানে প্রেরণ করেন তখন তিনি তাকে বলেনঃ 

‘হে মু‘আয! যেখানেই থাক না কেন অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখবে। যদি তোমার দ্বারা কোন পাপ কাজ হয়ে যায় তাহলে তৎক্ষণাৎ কোন সাওযাবের কাজ করবে, যেন সেই পাপ মোচন হয়ে যায়। আর জনগণের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে।’ (তিরমিযী ৬/১২৩)



Visit Our English Site Click Here 



Thanks for reading. جزاك الله خيرا

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url