ঈমানদারগণের সৎ কর্ম বিফলে যায় না
ঈমানদারগণের সৎ কর্ম বিফলে যায় না। এমন কি তাঁদের দো‘আ-প্রার্থনাও। কুরআন মাজীদ হতেই আমরা এ তথ্য পাই। অবশ্য বাহ্যিকভাবে আমরা প্রায়শই দেখি, অনেকেই প্রার্থনা করেন অথচ তা কবুল করা হয় না। তাহলে কুরাআন কি অসত্য বলেছে? না, কুরআন পদত্ত তথ্য শতভাগ সত্য। আসুন বিষয়টি ক্লিয়ার করি।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেনঃ
فَٱسۡتَجَابَ لَهُمۡ رَبُّهُمۡ أَنِّي لَآ أُضِيعُ عَمَلَ عَٰمِلٖ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰۖ بَعۡضُكُم مِّنۢ بَعۡضٖۖ فَٱلَّذِينَ هَاجَرُواْ وَأُخۡرِجُواْ مِن دِيَٰرِهِمۡ وَأُوذُواْ فِي سَبِيلِي وَقَٰتَلُواْ وَقُتِلُواْ لَأُكَفِّرَنَّ عَنۡهُمۡ سَئَِّاتِهِمۡ وَلَأُدۡخِلَنَّهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ ثَوَابٗا مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ عِندَهُۥ حُسۡنُ ٱلثَّوَابِ ۞
“অতঃপর তাদের রাব্ব তাদের জন্য ওটা স্বীকার করলেন এবং বললেনঃ আমি তোমাদের পুরুষ অথবা নারীর মধ্য হতে কোন কর্মীর কৃতকর্ম ব্যর্থ করবনা, তোমরা পরস্পর এক, অতএব যারা দেশ ত্যাগ করেছে অথবা স্বীয় গৃহসমূহ হতে বিতাড়িত হয়েছে ও আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং সংগ্রাম করেছে ও নিহত হয়েছে - নিশ্চয়ই তাদের জন্য আমি তাদের অমঙ্গলসমূহ অপসারণ করাব এবং নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব যার নিম্নে স্রোতস্বিনী নদীসমূহ প্রবাহিত; এটা আল্লাহর নিকট হতে প্রতিদান এবং আল্লাহর নিকটই উত্তম প্রতিদান রয়েছে।” (সূরা আলে ইমরান :১৯৫)
উম্মে সালামাহ্ (রা) একদা রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করেনঃ কুরআন কারীমে কোথাও আল্লাহ্ তা‘আলা মহিলাদের হিজরাতের কথা বলেননি, এর কারণ কি? তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। আনসারগণ বলেন, ‘সর্বপ্রথম যে মহিলাটি হাওদায় চড়ে আমাদের নিকট হিজরাত করে এসেছিলেন তিনি উম্মে সালামাই (রা) ছিলেন। আনসারগণ বলেন যে, উম্মে সালামা (রা) হলেন ঐ মহিলা যিনি প্রথম হিজরাত করেছেন। (সাঈদ ইব্ন মানসুর ৩/১১৩৬; ইমাম হাকিমও (রহ) এ হাদীসটি তার মুসতাদরাক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং বলেছেনঃ সহীহ্ বুখারীর শর্তে এটি সহীহ্, কিন্তু তারা (ইমাম বুখারী ও মুসলিম) এটি তাদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেননি; হাকিম ২/৩০০)
আলোচ্য আয়াতে কারীমার মাধ্যমে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সংবাদ দিচ্ছেন, ‘আমি কোন কর্মীর কৃতকর্ম বিনষ্ট করিনা। বরং সকলকেই পূর্ণ প্রতিদান দিয়ে থাকি। সে পুরুষই হোক বা মহিলাই হোক। সাওয়াব ও কাজের প্রতিদানের ব্যাপারে আমার নিকট সবাই সমান। সুতরাং যেসব লোক অংশীবাদের স্থান ত্যাগ করে ইমানের স্থানে আগমন করে, কাফিরদের দেশ হতে হিজরাত করে, আল্লাহর নামে ভাই, বন্ধু, প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনকে পরিত্যাগ করে, মুশরিকদের প্রদত্ত কষ্ট সহ্য করতে করতে পরিশ্রান্ত হয়ে দেশকে পরিত্যগ করে এবং স্বীয় জন্মভূমি পরিত্যগ করতেও দ্বিধাবোধ করেনা; তারা জনগণের কোন ক্ষতি করেনি, যার ফলে তারা তাদেরকে ধমকাচ্ছে। বরং তাদের দোষ শুধুমাত্র এই ছিল যে, তারা আমার পথের পথিক হয়েছে, আমার পথে চলার কারণেই তাদেরকে বিভিন্ন প্রকারের শাস্তি দেয়া হয়েছে।’ যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ
يُخۡرِجُونَ ٱلرَّسُولَ وَإِيَّاكُمۡ أَن تُؤۡمِنُواْ بِٱللَّهِ رَبِّكُمۡ ۞
“(তারা) রাসূলকে এবং তোমাদেরকে বহিস্কার করেছে এ কারণে যে, তোমরা তোমাদের রাব্ব আল্লাহর উপর ঈমান এনেছ।” (সূরা মুমতাহানাহ : ১)
অন্য জায়গায় রয়েছেঃ
وَمَا نَقَمُواْ مِنۡهُمۡ إِلَّآ أَن يُؤۡمِنُواْ بِٱللَّهِ ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡحَمِيدِ۞
“তারা তাদেরকে নির্যাতন করেছিল শুধু এ কারণে যে, তারা সেই মহিমাময় পরাক্রান্ত প্রশংসাভাজন আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল।” (সূরা বুরূজ : ৮)
উল্লেখিত আয়াতে কারীমাদ্বয় হতে জানা যাচ্ছে ইমানদার হওয়া সত্ত্বেয়ও তাদেরকে নির্যাতন করা হয়েছে। তাহলে আল্লাহ্ কি তাদের দো‘আ-প্রার্থনা কবুল করেন নি? এর উত্তরে আমরা বলতে পারি, আল্লাহ্ অবশ্যই তাদের প্রার্থনা কবুল করেছেন। তবে সেটা তিনি তাদের কোন সময়ে বাস্তবায়ন করবেন এটাও তিনিই সর্বাধিক জানেন। আমরা কেহই জানিনা, কোন পরিস্থিতি আমাদের জন্য সর্বাধিক জটিল ও পীড়াদায়ক। যেহেতু এটা আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন তাই তিনি বান্দার দো‘আসমূহ সে সময় কাজে লাগান। আবার অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবেই কবুল করেন। আর কিছু হতভাগা আছে, যাদের নেক কর্ম বিশেষ কিছু কারণে কবুল করা হয় না।
আলোচ্য আয়াতে এরপর বলা হয়েছে, ‘তারা (ঈমানদারগণ) জিহাদও করেছে এবং শহীদও হয়েছে। এটা অতি উচ্চ পদমর্যাদা যে, তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করছে, সোয়ারী কর্তিত হচ্ছে এবং মুখমন্ডল মাটি ও রক্তের সাথে মিশে যাচ্ছে।’
সহীহ্ বুখারতে ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, এক ব্যক্তি বলে, ‘হে আল্লাহর রাসূল ﷺ ! আমি যদি ধৈর্যের সাথে, সৎ নিয়াতে বীরত্বের সাথে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করি তাহলে কি আল্লাহ তা‘আলা আমার পাপ ক্ষমা করবেন? রাসূল ﷺ উত্তরে বললেনঃ ‘হ্যা।’ অতঃপর তিনি লোকটিকে জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কি বলেছিলে আবার বলত? লোকটি তার প্রশ্নের পুনরাবৃৃত্তি করে। রাসূল ﷺ উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু ঋণ ক্ষমা করা হবেনা। এ কথাটি আমাকে জিবরাঈল (আ) এখনই বলে গেলেন।’ (মুসলিম ৩/১৫০১)
উপরোক্ত গুণাবলী তথা ঈমান, নেক কর্ম, হিজরাত, জিহাদ যাদের রয়েছে এমন গুণ বিশিষ্ট লোকদের পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন এবং তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবিষ্ট করার যার চতুর্দিকে স্রোতস্বিনীসমূহ বয়ে যাচ্ছে। সেগুলির কোনটিতে দুধ, কোনটিতে মধু, কোনটিতে সুর এবং কোনটিতে নির্মল পানি রয়েছে। তাছাড়া ঐ সব নি‘আমাতও রয়েছে যা কোন কর্ণ শ্রবণ করেনি, কোন চক্ষু দর্শন করেনি এবং কোন হৃদয় কল্পনাও করেনি। এগুলিই হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার পক্ষ হতে প্রতিদান। এটা স্পষ্ট কথা যে, সমস্ত সম্রাটের যিনি সম্রাট তাঁর নিকট হতে যে প্রতিদান পাওয়া যাবে তা কতইনা অমুল্য অসীম হবে! (ইবনে কাসির)
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا