কে সর্বোত্তম বিজয়ী

 



আমরা সবাই বিজয়ী হতে চাই। আজ আমরা যে বিজয়ের ব্যাপারে আলোচনা করব তা হলো আখিরাতের বিজয়। মানুষ অনেক ধরেণের বিজয় লাভ করে। কিন্তু আখিরাতের বিজয়ই হলো আসল বিজয়, সর্বোত্তম বিজয়। কুরআনুল কারীম ও সহীহ্ হাদীসে এ ব্যাপারে অনেক বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেনঃ

كُلُّ نَفۡسٖ ذَآئِقَةُ ٱلۡمَوۡتِۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ أُجُورَكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۖ فَمَن زُحۡزِحَ عَنِ ٱلنَّارِ وَأُدۡخِلَ ٱلۡجَنَّةَ فَقَدۡ فَازَۗ وَمَا ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَآ إِلَّا مَتَٰعُ ٱلۡغُرُورِ۞

“সমস্ত জীবই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; এবং নিশ্চয়ই উত্থান দিনে তোমাদেরকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে; অতএব যে কেহ জাহান্নাম হতে বিমুক্ত হয় এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট হয়-ফলতঃ নিশ্চয়ই সে সফলকাম; আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত আর কিছুই নয়” (সূরা আলে ইমরান :১৮৫)

উল্লেখিত আয়াতে কারীমায় জানানো হয়েছে যে, আমাদের প্রত্যেককের আসল ঠিকানা আখিরাত তথা মৃত্যু পরবর্তী জীবন। যেহেতু ওটা চিরস্থায়ী এবং দুনিয়ার জীবন হলো ক্ষণস্থায়ী। তাই আল্লাহ বলছেন, “যে কেহ (আখিরাতে) জাহান্নাম হতে বিমুক্ত হয় এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট হয়, ফলতঃ নিশ্চয়ই সে সফলকাম তথা প্রকৃত বিজয়ী।”

সহীহ্ বুখারতে রয়েছে, রাসূল বলেছেনঃ ‘জান্নাতের মধ্যে একটি চাবুক বরাবর জায়গা পেয়ে যাওয়া দুনিয়া ও তম্মধ্যকার সমস্ত জিনিস হতে উত্তম। (একথা বলে তিনি বলেন,) তোমারা চাইলে (৩ঃ১৮৫) এ আয়াতটি পাঠ কর। (ফাতহুল বারী ৬/১০০)

মুসনাদ আবী হাতিম, ইব্ন হিব্বান এবং মুসতাদরাক আল হাকিমে রয়েছে, (৯/২৫২ ও ২/২৯৯) রাসূল বলেছেনঃ ‘জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি পাওয়ার ও জান্নাতে প্রবেশ করার যার ইচ্ছা রয়েছে সে যেন মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর উপর ও কিয়ামতের উপর বিশ্বাস রাখে এবং জনগণের সাথে সেই ব্যবহার করে, যে ব্যবহার সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’ আয়াতে কারীমাটির শেষাংশে বলা হয়েছে,

وَمَا ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَآ إِلَّا مَتَٰعُ ٱلۡغُرُورِ۞

“আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত আর কিছুই নয়” অত্র আয়াতাংশের মাধ্যমে দুনিয়ার নিকৃষ্টতা ও তুচ্ছতার কথা বর্ণিত হচ্ছে যে, দুনিয়া অত্যন্ত নিকৃষ্ট, ধ্বংসশীল ও ক্ষণস্থায়ী জিনিস।

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় কাতাদাহ (রহ) বলেন, ‘দুনিয়া প্রতারণার একটা বেড়াজাল ছাড়া আর কি, যাকে ছেড়ে তোমাদের বিদায় হতে হবে? যে আল্লাহ্ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই তাঁর শপথ! এ তো অতিসত্বরই তোমাদের হতে পৃথক হয়ে যাবে ও ধ্বংস হয়ে যাবে। সুতরাং এখানে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় প্রদার করে আল্লাহর আনুগত্যের কাজে তৎপর হয়ে যাও এবং সাধ্যনুসারে সাওয়াব অর্জন কর। আল্লাহ্ প্রদত্ত ক্ষমতা ছাড়া কোনকাজে সাধিত হয়না।’ (ইবনে কাসির)

 যেমন অনত্রে আল্লাহ্ বলেনঃ

بَلۡ تُؤۡثِرُونَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا۞ وَٱلۡأٓخِرَةُ خَيۡرٞ وَأَبۡقَىٰٓ۞ 

“তোমরা ইহলৗকিক (দুনিয়ার) জীবনকেই প্রাথান্য দিচ্ছ, অথচ পারলৌকিক (আখিরাত) জীবনই উত্তম ও স্থায়ী।” (সূরা আ‘লা : ১৬-১৭)

অন্য আয়াতে আল্লাহ্ পাক আরো বলছেনঃ

وَمَآ أُوتِيتُم مِّن شَيۡءٖ فَمَتَٰعُ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَزِينَتُهَاۚ وَمَا عِندَ ٱللَّهِ خَيۡرٞ وَأَبۡقَىٰٓۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ٦٠ 

“তোমাদের যা কিছু দেয়া হয়েছে তা তো শুধুমাত্র ইহলৌকিক জীবনের উপকারের বস্তু ও সৌন্দর্য; উত্তম ও স্থায়ী তো ওটাই যা আল্লাহর নিকট রয়েছে। অর্থাৎ, আখিরাতের জীবন)” (সূরা কাসাস : ৬০)

হাদীসে রয়েছে, রাসূল বলেছেনঃ ‘আল্লাহর শপথ! কোন লোক সমুদ্রে আঙ্গুল ডুবালে তার অঙ্গুলীর অগ্রভাগে যে পানি উঠে সেই পানির সঙ্গে সমুদ্রের পানির যে তুলনা পরকালের তুলনায় দুনিয়া ঠিক তদ্রূপ। (সহীহ মুসলিম হা/২৮৫৮, তিরমযী হা/২৩২৪)

প্রিয় পাঠক! আসুন, ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার পিছনে না ছুটে চিরস্থায়ী আখিরাতের পেছনে ছুটি, আখিরাতমুখী জীবন গঠন করি এবং সর্বোত্তম বিজয়ী হওয়ার সর্বাত্মাক চেষ্টা করি। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন।  আ-মী-ন


Visit Our English Site Click Here 



Thanks for reading. جزاك الله خيرا

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url