আত্মহত্যার পরিণাম


আত্মহত্যার পরিণাম খুবই ভয়াবহ। এটি মহাপাপ। এ বিষয়ে আমাদের পরিস্কার ধারণা থাকা খুবই প্রয়োজন। এ জঘন্য অপরাধটি সাধারণত মানুষ রাগ, ক্ষোভ, জিদ, অধৈর্য, শয়তানী কুমন্ত্রণা ইত্যাদি কারণে করে থাকে। কথায় আছে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন, জিদের ঘর ফানা। সত্যিই তাই। এটি এমন একটি পাপ যার খেসারত দিতে হবে অনন্তকাল। আসুন, কুরআন-হাদীসের আলোকে আত্মহত্যার পরিণাম কি হতে পারে তা জেনে নেই। এমর্মে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেনঃ

…وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِيمٗا۞ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ عُدۡوَٰنٗا وَظُلۡمٗا فَسَوۡفَ نُصۡلِيهِ نَارٗاۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرًا۞

“...তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করনা; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল। আর যে কেহ সীমা অতিক্রম করে অথবা যুলমের বশবর্তী হয়ে এ কাজ করে, ফলতঃ নিশ্চয়ই আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব এবং আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজ সাধ্য। ” (সূরা নিসা :২৯ -৩০) 

মুসনাদ আহমাদে রয়েছে যে, রাসূল আমর ইব্নুল আস (রা) কে ‘যাতুস্ সালাসিলের যুদ্ধের বছর প্রেরণ করেছিলেন। তিনি বলেন, একদা কঠিন শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়, এমনকি গোসল করতে আমি আমার জীবনের উপর হুমকি মনে করি। সুতরাং আমি তায়াম্মুম করে আমার জামাআতকে ফাজরের সালাত আদায় করিয়ে দিই। অতঃপর ফিরে এসে আমরা রাসূল -এর কাছে হাযির হই। তাঁর নিকট আমি আমার এ ঘটনা বর্ণনা করি। তিনি বলেনঃ ‘তুমি কি তাহলে অপবিত্র অবস্থায় তোমার সঙ্গীদেরকে সাথে নিয়ে সালাত আদায় করেছ?’ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল ! কঠিন ঠান্ডা ছিল এবং আমার প্রাণের ভয় ছিল। অতঃপর আমার মনে পড়ে গেল যে, আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংস করনা।’ এ কথা শুনে রাসূল হেসে উঠেন এবং আমাকে কিছুই বলেননি।

ইব্ন মারদুআই (রহ) এ আয়াতটির ব্যাপারে বলেন যে, আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লৌহ শলাকা হাতে নিয়ে তা দ্বারা নিজকে হত্যা করে সে জাহান্নামের আগুনে ঐ লৌহ শলাকা হাতে নিয়ে তা দ্বারা নিজকে আঘাত করতেই থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পানে নিজতে হত্যা করবে সে জাহান্নামের আগুনে ঐ বিষের পাত্র হাতে নিয়ে বিষ পান করতেই থাকবে। যে ব্যক্তি পাহাড় লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামের আগুনে লাফিয়ে পড়তেই থাকবে। (ফাতহুল বারী, সহীহ মুসলিমে

আর একটি বর্ণনায় রয়েছে, ‘যে নিজেকে যে জিনিস দ্বারা হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সে জিনিস দ্বারা শাস্তি দেয়া হবে।’ এজন্য আল্লাহ বলেনঃ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ عُدۡوَٰنٗا وَظُلۡمٗا فَسَوۡفَ نُصۡلِيهِ نَارٗاۚ যে কেহ অত্যাচার ও সীমা অতিক্রম করে এ কাজ (আত্মহত্যা) করবে, অর্থাৎ হারাম জেনেও স্বীয় বীরত্বপণা দেখিয়ে ঐ কাজ করবে, সে জাহান্নামী হবে। সুতরাং প্রত্যেকেরেই এ কঠিন ভয়ানক পরিস্থিতির ব্যাপারে ভয় করা উচিত এবং আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার এ সতকবাণী হৃদয়ঙ্গম করে এহেন হারাম কাজ হতে বিরত থাকা একান্ত বাঞ্চনীয়।

Visit Our English Site Click Here 



Thanks for reading. جزاك الله خيرا

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url