শহীদগণের মর্যাদা
শহীদগণের মর্যাদা অপরিসীম। কুরআনুল কারীম ও সহীহ্ হাদীসে এ ব্যাপারে অনেক বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেনঃ
وَلَا تَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمۡوَٰتَۢاۚ بَلۡ أَحۡيَآءٌ عِندَ رَبِّهِمۡ يُرۡزَقُونَ
“যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে কখনো মৃত মনে করনা; বরং তারা জীবিত, তারা তাদের রাব্ব হতে জীবিকা (আহার্য) প্রাপ্ত হয়।” (সূরা আলে ইমরান :১৬৯)
আবূ বাকর ইব্ন মিরদুওয়াই (রহ) যাবির (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, যাবির (রা) বলেন, রাসূল ﷺ আমাকে দেখে বলেনঃ ‘হে যাবির! তোমার কি হয়েছে যে, আমি তোমাকে চিন্তিত দেখছি?’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! আমার পিতা শহীদ হয়েছেন এবং তাঁর উপর অনেক ঋণের বোঝা রয়েছে। তা ছাড়া আমার বহু ছোট ভাই-বোনও রয়েছে।’ তিনি বললেনঃ ‘জেনে রেখ, আল্লাহ্ তা‘আলা যার সঙ্গে কথা বলেছেন পর্দার আড়াল থেকেই বলেছেন। কিন্তু তোমার পিতার সঙ্গে তিনি মুখোমুখী হয়ে কথা বলেছেন। তিনি তাকে বলেছেনঃ ‘তুমি আমার নিকট চাও। যা চাইবে তাই আমি তোমাকে দিব।’ তোমার বাবা বলেছেন, ‘হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট এই চাচ্ছি যে, আপনি আমাকে পুনরায় দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন, যেন আমি আপনার পথে দ্বিতীয়বার যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে আসতে পারি।’ মহা সম্মানিত আল্লাহ্ তখন বলেছেন, ‘এ কথা তো আমি পূর্ব হতেই নির্ধারিত করে রেখেছি যে, কেহই এখান হতে দ্বিতীয়বার দুনিয়ায় ফিরে যাবেনা।’ তখন তোমার পিতা বলেন, ‘হে আমার প্রভু! আমার পরবর্তীদেরকে তাহলে আপনি এ মর্যাদার সংবাদ পৌঁছেয়ে দিন।’ তখন আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াতগুলি অবতীর্ণ করেন। (বাইহাকী ৩/২৯৯)
সহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, মাসরূক (রহ) বলেন, ‘আমরা আব্দুল্লাহ্কে (রা) এ আয়াতের ভাবার্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ ‘আমরা রাসূল ﷺ কে এ আয়াতের ভাবার্থ জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছিলেনঃ
‘তাদের আত্মাসমূহ সবুজ রংয়ের পাখীর দেহের মধ্যে রয়েছে। তাদের জন্য আরশে লটকান প্রদীপসমূহ রয়েছে। সারা জান্নাতের মধ্যে তারা যে কোন জায়গায় বিচরণ করে এবং ঐ প্রদীপসমূহে আরাম লাভ করে থাকে। তাদের রাব্ব তাদের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করে বলেনঃ ‘তোমরা কিছু চাও কি?’ তারা বলেঃ ‘হে আল্লাহ্! আমরা আর কি চাব? জান্নাতের সর্বত্র আমরা ইচ্ছা মত চলে ফিরে বেড়াচ্ছি। এরপরে আমরা আর কি চাইতে পারি?’ আল্লাহ্ তা‘আলা তাদেরকে পুনরায় এটাই জিজ্ঞেস করেন এবং তারা ঐ এক উত্তরই দেয়। তৃতীয় বার আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ঐ একই প্রশ্ন করেন। তারা যখন বুঝতে পারেন যে, আল্লাহ্ প্রশ্ন করতেই থাকবেন। তাই তারা বলে, ‘হে আমাদের রাব্ব! আমরা চাই যে, আমাদের আত্মাগুলি আপনি আমাদের দেহে ফিরিয়ে দিন। আমরা আবার দুনিয়ায় গিয়ে আপনার পথে যুদ্ধ করব এবং শহীদ হব’। তখন জানা হয়ে যায় যে, তাদের আর কোন জিনিসের প্রয়োজন নেই। তখন এ প্রশ্ন করা হতে আল্লাহ তা‘আলা বিরত থাকেন। (সহীহ্ মুসলিম ৩/১৫০২)
মুসনাদ আহমাদে রয়েছে যে, রাসূল ﷺ বলেছেনঃ ‘তোমাদের ভাইদেরকে যখন উহুদের যুদ্ধে শহীদ করা হয় তখন আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের আত্মাগুলিকে সবুজ পাখিসমূহের দেহের মধ্যে নিক্ষেপ করেন যারা জান্নাতের বৃক্ষরাজির ফল আহার করে, জান্নাতী নদীর পানি পান করে এবং আরশের ছায়ার নীচে লটকানো প্রদীপের মধ্যে আরাম ও শান্তি লাভ করে। যখন পানাহারের এরূপ উত্তম জিনিস তারা প্রাপ্ত হয় তখন বলতে থাকে, ‘আমাদের জগতবাসী ভাইয়েরা যদি আমাদের উত্তম সুখভোগের সংবাদ পেত তাহলে তারা জিহাদ হতে মুখ ফিরিয়ে নিতনা এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করতনা। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নিশ্চিত থাক। আমি জগৎবাসীকে এ সংবাদ পৌঁছে দিব।’ তাই আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াতগুলি অবতীর্ণ করেন। (আহমাদ ১/২৬৫)
রাসূল ﷺ বলেন, ‘যারা মারা যায় এবং আল্লাহর নিকট উত্তম স্থান লাভ করে তারা কখনও দুনিয়ায় ফিরে আসা পছন্দ করেনা। কিন্তু শহীদগণ এ আকাংখা করে যে, তাদেরকে যেন পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার ফিরিয়ে দেয়া হয় এবং তারা আবার আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে শহীদ হতে পারে। কেননা তারা স্বচক্ষে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে। (সহীহ্ মুসলিম হা/১৮৭৭, আহমাদ ৩/১২)
ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘শহীদগণ জান্নাতের দরজার কাছে নদীর ধারে সবুজ তাবুর মধ্যে রয়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় তাদের নিকট জান্নাতী খাবার পৌঁছে যায়।’ (আহমাদ ১/২৬৬,তাবারী ৭/৩৮৭, হাদীসটি হাসান)
হাদীসটির বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, শহীহদদের মধ্যে প্রকারভেদ রয়েছে। তাদের কেহ জান্নাতের মধ্যে বেড়াবেন এবং কেহ কেহ জান্নাতের দরজার কাছে প্রবাহিত নদীর কাছে অবস্থান করবেন। আবার এও হতে পারে যে, সমস্ত শহীদগণের আত্মা বা রূহ জান্নাতের ঐ নদীর কাছে একত্রিত করা হয় এবং রাত্রি-দিন তাদেরকে খাদ্য প্রদান করা হয়। আল্লাহই এ ব্যাপারে অধিক ভালো জানেন। (ইবনে কাসীর)
আল্লাহ্ আমাদের সকলকে শহিদী মৃত্যু নছিব করুন এবং জান্নাত লাভে নিজেকে ধন্য করার তৌফিক দান করুন। আ-মী-ন
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا