জাহান্নামের পরিচয়/Jahannam

 


জাহান্নামের পরিচয়

জাহান্নাম একটি এমন স্থান যা সীমাহীন শাস্তি এবং অসহনীয় কষ্ট-ক্লেশের জায়গা। মহান আল্লাহ, নাবী-রাসূলগণ ও আখিরাতে অবিশ্বাসীদের যাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এমর্মে অনেক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এবং অনেক হাদীস রয়েছে। নিম্নে আমরা কতিপয় উপস্থাপন করছি।

সূরা আল বাক্বারা : ৩৯

وَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ هُمۡ فِیۡهَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۳۹﴾

আর যারা কুফরী করেছে এবং আমাদের আয়াতসমূহে(১) মিথ্যারোপ করেছে তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।(২)

১. আরবীতে “আয়াত” এর আসল মানে হচ্ছে নিশানী বা আলামত। এই নিশানী কোন জিনিসের পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ দেয়। কুরআনে এই শব্দটি চারটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কোথাও এর অর্থ হয়েছে নিছক আলামত বা নিশানী। কোথাও প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের নিদর্শনসমূহকে বলা হয়েছে আল্লাহর আয়াত। কারণ এ বিশ্ব জাহানের অসীম ক্ষমতাধর আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি বস্তুই তার বাহ্যিক কাঠামোর অভ্যন্তরে নিহিত সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করছে। কোথাও নবী-রাসূলগণ যেসব মু'জিযা দেখিয়েছেন সেগুলোকে বলা হয়েছে আল্লাহর আয়াত। কারণ এ নবী-রাসূলগণ যে এ বিশ্ব জাহানের সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন প্রভূর প্রতিনিধি এ মু'জিযাগুলো ছিল আসলে তারই প্রমাণ ও আলামত।

কোথাও কুরআনের বাক্যগুলোকে আয়াত বলা হয়েছে। কারণ, এ বাক্যগুলো কেবল সত্যের দিকে পরিচালিত করেই ক্ষান্ত নয়, বরং প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে কোন কিতাবই এসেছে, তার কেবল বিষয়বস্তুই নয়, শব্দ, বর্ণনাভঙ্গি ও বাক্য গঠনরীতির মধ্যেও এ গ্রন্থের মহান মহিমান্বিত রচয়িতার অতুলনীয় বৈশিষ্ট্যের নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। কোথায় ‘আয়াত’ শব্দটির কোন অর্থ গ্রহণ করতে হবে তা বাক্যের পূর্বাপর আলোচনা থেকে সর্বত্র সুস্পষ্টভাবে জানা যায়।

২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আর যারা জাহান্নামবাসী হিসেবে সেখানকার অধিবাসী হবে, তারা সেখানে মরবেও না বাঁচবেও না” [মুসলিম: ১৮৫] অর্থাৎ কাফের, মুশরিক ও মুনাফিকরা সেখানে স্থায়ী হবে।  সুতরাং তাদের জাহান্নামও স্থায়ী।

সূরা আল বাক্বারা : ২৪

فَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلُوۡا وَ لَنۡ تَفۡعَلُوۡا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِیۡ وَقُوۡدُهَا النَّاسُ وَ الۡحِجَارَۃُ ۚۖ اُعِدَّتۡ لِلۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۲۴﴾

অতএব যদি তোমরা তা করতে না পার আর কখনই তা করতে পারবে না(১), তাহলে তোমরা সে আগুন থেকে বাঁচার ব্যবস্থা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর(২), যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে(৩) কাফেরদের জন্য।

১. এটা কুরআনের বিশেষ মু'জিযা। একমাত্র কুরআনই নিঃসংকোচে সর্বকালের জন্য নিজ স্বীকৃত সত্তার এভাবে ঘোষণা দিতে পারে। যেভাবে রাসূলের যুগে কেউ এ কুরআনের মত আনতে পারে নি। তেমনি কুরআন এ ঘোষণাও নিঃশঙ্ক ও নিঃসংকোচে দিতে পেরেছে যে, যুগের পর যুগের জন্য, কালের পর কালের জন্য এই চ্যলেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হচ্ছে যে, এ কুরআনের মত কোন কিতাব কেউ কোন দিন আনতে পারবে না। অনুরূপই ঘটেছে এবং ঘটে চলেছে। রাসূলের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত কেউ এ কুরআনের মত কিছু আনার দুঃসাহস দেখাতে পারে নি। আর কোনদিন পারবেও না। গোটা বিশ্বের যিনি সৃষ্টিকর্তা তার কথার সমকক্ষ কোন কথা কি কোন সৃষ্টির পক্ষে আনা সম্ভব?

২. ইবনে কাসীর বলেন, এখানে পাথর দ্বারা কালো গন্ধক পাথর বোঝানো হয়েছে। গন্ধক দিয়ে আগুন জ্বালালে তার তাপ ভীষণ ও স্থায়ী হয়। আসমান যমীন সৃষ্টির সময়ই আল্লাহ্ তা'আলা কাফেরদের জন্য তা সৃষ্টি করে প্রথম আসমানে রেখে দিয়েছেন। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এখানে ঐ সমস্ত পাথর উদ্দেশ্য, যেগুলোর ইবাদাত করা হয়েছে। [ইবনে কাসীর] আর জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, “তোমাদের এ আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ এক ভাগ দিয়ে শাস্তি দিলেই তো যথেষ্ট হতো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, জাহান্নামের আগুন তোমাদের আগুনের তুলনায় উনসত্তর গুণ বেশী উত্তপ্ত [বুখারী ৩২৬৫, মুসলিম: ২৪৮৩]

৩. এ আয়াতাংশের ব্যাখ্যা হচ্ছে, জাহান্নাম কাফেরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখানে أُعِدَّتْ এর সর্বনামটির ইঙ্গিত সুস্পষ্টতই মানুষ ও পাথর দ্বারা প্রজ্জ্বলিত জাহান্নামের দিকে। অবশ্য এ সর্বনামটি পাথরের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তখন অর্থ দাঁড়ায়, পাথরগুলো কাফেরদের শাস্তি প্রদানের জন্য তৈরী করে রাখা হয়েছে। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ তাফসীর বর্ণিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে উভয় অর্থের মধ্যে বড় ধরনের কোন তফাৎ নেই। একটি অপরটির পরিপূরক ও পরস্পর অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আগুন বিহীন যেমন পাথর জ্বলে না, তেমনি পাথর বিহীন আগুনের দাহ্য ক্ষমতাও বাড়ে না। সুতরাং উভয় উপাদানই কাফেরদের কঠোর শাস্তি দেয়ার জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আয়াতের এ অংশ দ্বারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমামগণ দলীল নেন যে, জাহান্নাম বর্তমানে তৈরী করা অবস্থায় আছে। জাহান্নাম যে বাস্তবিকই বর্তমানে রয়েছে তার প্রমাণ অনেক হাদীস দ্বারা পাওয়া যায়। যেমন, জাহান্নাম ও জান্নাতের বিবাদের বর্ণনা সংক্রান্ত হাদীস [বুখারী ৪৮৪৯, মুসলিম: ২৮৪৬] , জাহান্নামের প্রার্থনা মোতাবেক তাকে বছরে শীত ও গ্রীষ্মে দুই বার শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণের অনুমতি প্রদানের বর্ণনা [বুখারী ৫৩৭, মুসলিম: ৬৩৭] ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এক হাদীসে আছে, “আমরা একটি বিকট শব্দ শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তার কারণ জানতে চাওয়ায় তিনি বললেন, এটা সত্তর বছর পূর্বে জাহান্নামের উদ্দেশ্যে নিক্ষিপ্ত পাথর জাহান্নামে পতিত হওয়ার আওয়ায। (মুসলিম: ২৮৪৪, মুসনাদে আহমাদ ২/৪৭১] তাছাড়া সূর্যগ্রহণের সালাত এবং মিরাজের রাত্রির ঘটনাবলীও প্রমাণ করে যে, জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টিই তৈরী করে রাখা হয়েছে। [ইবনে কাসীর]

সূরা আ’রাফ : ৪৮

وَ نَادٰۤی اَصۡحٰبُ الۡاَعۡرَافِ رِجَالًا یَّعۡرِفُوۡنَهُمۡ بِسِیۡمٰهُمۡ قَالُوۡا مَاۤ اَغۡنٰی عَنۡکُمۡ جَمۡعُکُمۡ وَ مَا کُنۡتُمۡ تَسۡتَکۡبِرُوۡنَ ﴿۴۸﴾

আর আরাফবাসীরা এমন লোকদেরকে ডাকবে, যাদেরকে তারা তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে, তারা বলবে, ‘তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসল না।

সূরা ইবরাহী : ২১

وَ بَرَزُوۡا لِلّٰهِ جَمِیۡعًا فَقَالَ الضُّعَفٰٓؤُا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡۤا اِنَّا کُنَّا لَکُمۡ تَبَعًا فَهَلۡ اَنۡتُمۡ مُّغۡنُوۡنَ عَنَّا مِنۡ عَذَابِ اللّٰهِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ قَالُوۡا لَوۡ هَدٰىنَا اللّٰهُ لَهَدَیۡنٰکُمۡ ؕ سَوَآءٌ عَلَیۡنَاۤ اَجَزِعۡنَاۤ اَمۡ صَبَرۡنَا مَا لَنَا مِنۡ مَّحِیۡصٍ ﴿۲۱﴾

আর তারা সবাই আল্লাহর কাছে প্রকাশিত হবে।(১) তখন দুর্বলেরা যারা অহংকার করত তাদেরকে বলবে, আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম; এখন তোমরা আল্লাহ্‌র শাস্তি হতে আমাদেরকে কিছুমাত্র রক্ষা করতে পারবে?(২) তারা বলবে, আল্লাহ্‌ আমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করলে আমরাও তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করতাম। এখন আমরা ধৈর্যচ্যুত হই অথবা ধৈর্যশীল হই- উভয় অবস্থাই আমাদের জন্য সমান; আমাদের কোন পালানোর জায়গা নেই।(৩)

(১) মূল শব্দ ‘বারাযা’। ‘বারাযা’ মানে সামনে উন্মুক্ত হওয়া। প্রকাশ হয়ে যাওয়া। [কুরতুবী] অর্থাৎ তারা কবর থেকে উন্মুক্ত হয়ে আল্লাহর সামনে হাযির হবে। [বাগভী; ফাতহুল কাদীর] প্রকৃতপক্ষে বান্দা তো সবসময় তার রবের সামনে উন্মুক্ত রয়েছে। কিন্তু তারা যেহেতু গোনাহ করার সময় মনে করে যে, আল্লাহর কাছে সেটা গোপন থাকবে, তাই আল্লাহ তাদের সে সন্দেহ অপনোদন করে দিলেন। [ফাতহুল কাদীর] কোন কোন মুফাসসির বলেন, এখানে উন্মুক্ত হওয়ার অর্থ, কিয়ামতের দিন নেককার-বদকার সমস্ত সৃষ্টির এক প্রবল প্রতাপশালী আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। তারা সেখানে এমন এক খোলা ভূমিতে একত্রিত হবে যেখানে কেউ নিজেকে গোপন করার কোন সুযোগ পাবে না। [ইবন কাসীর] এ জন্য অন্য আয়াতে বলা হয়েছেঃ “মানুষ উন্মুক্তভাবে উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে যিনি এক, প্রবল প্রতাপশালী।” [সূরা ইবরাহীমঃ ৪৮]

(২) এটি এমন সব লোকের জন্য সতর্কবাণী যারা দুনিয়ায় চোখ বন্ধ করে অন্যের পেছনে চলে অথবা নিজেদের দুর্বলতাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে শক্তিশালী যালেমদের আনুগত্য করে, তাদের কথামত একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা থেকে দূরে ছিল, তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করেনি, তাদের জানানো হচ্ছে, আজ যারা তোমাদের নেতা হয়ে আছে আগামীকাল এদের কেউই তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে সামান্যতম নিস্কৃতিও দিতে পারবে না। কাজেই আজই ভেবে নাও, তোমরা যাদের পেছনে ছুটে চলছো অথবা যাদের হুকুম মেনে চলছে তারা নিজেরাই কোথায় যাচ্ছে এবং তোমাদের কোথায় নিয়ে যাবে।

(৩) আয়াতদৃষ্টে মনে হয়, এ ঝগড়াটি জাহান্নামে প্রবেশের পরে হবে। যেমন, কুরআনের অন্যান্য স্থানেও এ ধরনের বর্ণনা এসেছে। বলা হয়েছে, “যখন যাদের অনুসরণ করা হয়েছে তারা, যারা অনুসরণ করেছে তাদের থেকে নিজেদের মুক্ত করে নেবে এবং তারা শাস্তি দেখতে পাবে। আর তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে, আর যারা অনুসরণ করেছিল তারা বলবে, ‘হায়! যদি একবার আমাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ হতো তবে আমরাও তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম যেমন তারা আমাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এভাবে আল্লাহ তাদের কার্যাবলী তাদেরকে দেখাবেন, তাদের জন্য আক্ষেপস্বরূপ। আর তারা কখনো আগুন থেকে বহির্গমণকারী নয় [সূরা আল-বাকারাহঃ ১৬৬–১৬৭]

আরও এসেছে, “আর যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলেরা যারা অহংকার করেছিল তাদেরকে বলবে, আমরা তো তোমাদের অনুসরণ করেছিলাম সুতরাং তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ গ্রহণ করবে? অহংকারীরা বলবে, নিশ্চয় আমরা সকলেই এতে রয়েছি, নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের বিচার করে ফেলেছেন [সূরা গাফিরঃ ৪৭–৪৮] আরও বলেন, “অবশেষে যখন সবাই তাতে একত্র হবে, তখন তাদের পরবর্তীরা পূর্ববতীদের সম্পর্কে বলবে, হে আমাদের রব! এরাই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিল; কাজেই এদেরকে দ্বিগুণ আগুনের শাস্তি দিন। আল্লাহ বলবেন, প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা জান না। আর তাদের পূর্ববতীরা পরবর্তীদেরকে বলবে, আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কাজেই তোমরা যা অর্জন করেছিলে, তার জন্য শাস্তি ভোগ কর।” [সূরা আল-আরাফঃ ৩৮–৩৯]

আরও এসেছে, “যেদিন তাদের মুখমণ্ডল আগুনে উলট-পালট করা হবে সেদিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম আর রাসূলকে মানতাম তারা আরো বলবে, হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল; ‘হে আমাদের রব! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে দিন মহাঅভিসম্পাত। [সূরা আল-আহযাবঃ ৬৬–৬৮]

কিন্তু বিভিন্ন আয়াতদৃষ্টে মনে হয় যে, হাশরের ময়দানেও তারা ঝগড়া করবে, যেমন কুরআনের অন্যত্র এসেছে, “হায়! আপনি যদি দেখতেন যালিমদেরকে যখন তাদের রবের সামনে দাঁড় করানো হবে তখন তারা পরস্পর বাদ-প্রতিবাদ তোমরা না থাকলে আমরা অবশ্যই মুমিন হতাম। যারা ক্ষমতাদর্পী ছিল তারা, যাদেরকে দূর্বল মনে করা হত তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে সৎপথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে নিবৃত্ত করেছিলাম? বরং তোমরাই ছিলে অপরাধী।

যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবে, প্রকৃত পক্ষে তোমরাই তো দিনরাত চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, যখন তোমরা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহর সাথে কুফর করি এবং তার জন্য সমকক্ষ (শির্ক) স্থাপন করি। আর যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে তখন তারা অনুতাপ গোপন রাখবে এবং যারা কুফরী করেছে আমরা তাদের গলায় শৃংখল পরাব। তাদেরকে তারা যা করত তারই প্রতিফল দেয়া হবে। [সূরা সাবাঃ ৩১–৩৩] এ ঝগড়াটি হবে হাশরের মাঠে। [ইবন কাসীর]

সূরা ইবরাহী : ২২

وَ قَالَ الشَّیۡطٰنُ لَمَّا قُضِیَ الۡاَمۡرُ اِنَّ اللّٰهَ وَعَدَکُمۡ وَعۡدَ الۡحَقِّ وَ وَعَدۡتُّکُمۡ فَاَخۡلَفۡتُکُمۡ ؕ وَ مَا کَانَ لِیَ عَلَیۡکُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنٍ اِلَّاۤ اَنۡ دَعَوۡتُکُمۡ فَاسۡتَجَبۡتُمۡ لِیۡ ۚ فَلَا تَلُوۡمُوۡنِیۡ وَ لُوۡمُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ مَاۤ اَنَا بِمُصۡرِخِکُمۡ وَ مَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُصۡرِخِیَّ ؕ اِنِّیۡ کَفَرۡتُ بِمَاۤ اَشۡرَکۡتُمُوۡنِ مِنۡ قَبۡلُ ؕ اِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۲۲﴾

আর যখন বিচারের কাজ সম্পন্ন হবে তখন শয়তান বলবে, আল্লাহ তো তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি(১) আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি। আমার তো তোমাদের উপর কোন আধিপত্য ছিল না, আমি শুধু তোমাদেরকে ডাকছিলাম তাতে তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে। কাজেই তোমরা আমাকে তিরস্কার করো না, তোমরা নিজেদেরই তিরস্কার কর। আমি তোমাদের উদ্ধারকারী নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারকারী নও। তোমরা যে আগে আমাকে আল্লাহর শরীক করেছিলে(২) আমি তা অস্বীকার করছি। নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।

(১) অর্থাৎ আল্লাহ সত্যবাদী ছিলেন এবং আমি ছিলাম মিথ্যেবাদী। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, “সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ছলনামাত্র।” [সূরা আন-নিসাঃ ১২০] আরও বলেন, “আর তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো পদস্খলিত কর, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদেরকে আক্রমণ কর এবং তাদের ধনে ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যাও, আর তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও। আর শয়তান ছলনা ছাড়া তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতিই দেয় না।” [সূরা আল-ইসরা: ৬৪]

(২) এখানে আবার বিশ্বাসগত শির্কের মোকাবিলায় শির্কের একটি স্বতন্ত্র ধারা অর্থাৎ কর্মগত শির্কের অস্তিত্বের একটি প্রমাণ পাওয়া যায়। যাকে শির্ক ফিত তা'আহ বা আনুগত্যের ক্ষেত্রে শির্ক বলা হয়। একথা সুস্পষ্ট, বিশ্বাসগত দিক দিয়ে শয়তানকে কেউই আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে শরীক করে না এবং কেউ তার পূজা, আরাধনা ও বন্দেগী করে না। সবাই তাকে অভিশাপ দেয়। তবে তার আনুগত্য ও দাসত্ব এবং চোখ বুজে বা খুলে তার পদ্ধতির অনুসরণ অবশ্যি করা হচ্ছে। এটিকেই এখানে শির্ক বলা হয়েছে। কুরআনে কর্মগত শির্কের একাধিক প্রমাণ রয়েছে। “আহবার” (উলামা) ও “রাহিব” (সংসার বিরাগী সন্ন্যাসী) দেরকে রব হিসেবে গ্রহণ করেছে। [সূরা আত-তাওবাঃ ৩১] প্রবৃত্তির কামনা বাসনার পূজারীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে তারা নিজেদের প্রবৃত্তির কামনা বাসনাকে ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে। [সূরা আল ফুরকানঃ ৪৩] নাফরমান বান্দাদের সম্পর্কে এসেছে, “তারা শয়তানের ইবাদাত করতে থেকেছে। [সূরা ইয়াসীনঃ ৬০]

এ থেকে একথা পরিষ্কার জানা যায় যে, আল্লাহর অনুমোদন ছাড়াই অথবা আল্লাহর হুকুমের বিপরীত কোন গাইরুল্লাহর অনুসরণ ও আনুগত্য করতে থাকাও শির্ক। শরীআতের দৃষ্টিতে আকীদাগত মুশরিকদের জন্য যে বিধান তাদের জন্য সেই একই বিধান, কোন পার্থক্য নেই। [দেখুন, আশ-শির্ক ফিল কাদীম ওয়াল হাদীস, আশ-শির্ক ফিল উলুহিয়্যাহ ফিত তা'আহ অধ্যায়]

সূরা যুমার : ৭১-৭২

وَ سِیۡقَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِلٰی جَهَنَّمَ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡهَا فُتِحَتۡ اَبۡوَابُهَا وَ قَالَ لَهُمۡ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ رُسُلٌ مِّنۡکُمۡ یَتۡلُوۡنَ عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِ رَبِّکُمۡ وَ یُنۡذِرُوۡنَکُمۡ لِقَآءَ یَوۡمِکُمۡ هٰذَا ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَ لٰکِنۡ حَقَّتۡ کَلِمَۃُ الۡعَذَابِ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۷۱﴾

আর কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।(১) অবশেষে যখন তারা জাহান্নামের কাছে আসবে তখন এর দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূল আসেনি যারা তোমাদের কাছে তোমাদের রবের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করত এবং এ দিনের সাক্ষাত সম্বন্ধে তোমাদেরকে সতর্ক করত? তারা বলবে, অবশ্যই হ্যাঁ। কিন্তু শাস্তির বাণী কাফিরদের উপর বাস্তবায়িত হয়েছে।

قِیۡلَ ادۡخُلُوۡۤا اَبۡوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا ۚ فَبِئۡسَ مَثۡوَی الۡمُتَکَبِّرِیۡنَ ﴿۷۲﴾

বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ কর তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থিতির জন্য। অতএব অহংকারীদের আবাসস্থল কত নিকৃষ্ট!

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন:

وَ اِذَا قِیۡلَ لَهُ اتَّقِ اللّٰهَ اَخَذَتۡهُ الۡعِزَّۃُ بِالۡاِثۡمِ فَحَسۡبُهٗ جَهَنَّمُ ؕ وَ لَبِئۡسَ الۡمِهَادُ ﴿۲۰۶﴾

আর যখন তাকে বলা হয় ‘আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর’, তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপাচারে লিপ্ত করে, কাজেই জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই তা নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল।

কতিপয় হাদীস

عَنْ اَبِىْ مُوْسَى الْاَشْعَرِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ حَجَرًا يُقْذَفُ بِهِ فِىْ جَهَنَّمَ هَوَى سَبْعِيْنَ خَرِيْفًا قَبْلَ اَنْ يَبْلُغَ قَعَرَهَا.

আবু মূসা আশ‘আরী (রা.) বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেন, যদি একটি পাথর জাহান্নামের মুখ হ’তে নিক্ষেপ করা হয়, পাথরটি ৭০ বছর নীচে যেতে থাকে, তবুও জাহান্নামের শেষ প্রান্তে পৌঁছতে পারবে না (সিলসিলা ছাহীহা হা/১৪৯৬)। অত্র হাদীছ সমূহে জাহান্নামের এমন গভীরতা প্রমাণ হয়, যা মানুষের আয়ত্বের বাহিরে। কারণ একটি পাথর ৭০ বছর ধরে নীচে পড়তে থাকলে ঐ স্থানের গভীরতা কত হ’তে পারে তা অনুমান করা মানুষের পক্ষে অতীব কঠিন।

عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ اَتَدْرِىْ مَا سَعَةُ جَهَنَّمَ قُلْتُ لاَ قَالَ اَجَلْ وَاللهِ مَا تَدْرِىْ اَنَّ بَيْنَ شَحْمَةِ اُذْنِ اَحَدِهِمْ وَبَيْنَ عَاتِقِهِِ مَسِيْرَةُ سَبْعِيْنَ خَرِيْفًا تَجْرِى فِيْهَا اَوْدِيَةُ الْقَيْحِ وَالدَّمِ قُلْتُ اَنْهَارٌ قَالَ لاَ بَلْ اَوْدِيَةٌ ثُمَّ قَالَ اَتَدْرُوْنَ مَا سَعَةُ جَهَنَّمَ قُلْتُ لاَ قَالَ اَجَلْ وَاللهِ مَا تَدْرِى حَدَّثَنِى عَائِشَةُ اَنَّهَا سَأَلَتْ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَوْلِهِ وَالْاَرْضُ جَمِيْعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِيْنِهِ فَاَيْنَ النَّاسُ يَوْمَئِذٍ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ هُمْ عَلَى جَسَرِ جَهَنَّمَ.

মুজাহিদ (রহঃ) হ’তে বর্ণিত, ইবনে আববাস (রা.) আমাকে বললেন, আপনি কি জাহান্নামের প্রশস্ততা সম্পর্কে কিছু জানেন? আমি বললাম, জি-না। তিনি বললেন, হ্যাঁ আল্লাহর কসম! আপনি জানেন না। নিশ্চয়ই জাহান্নামীদের কারো কানের লতি এবং তার কাঁধের মধ্যে দূরত্বের ব্যবধান হচ্ছে ৭০ বছরের পথ। তার মধ্যে চালু থাকবে পুঁজ ও রক্তের নালা। আমি বললাম সেগুলি কি নদী? তিনি বললেন, না; বরং সেগুলি হচ্ছে নালা বা ঝর্ণা। ইবনে আববাস (রা.) আবার বললেন, আপনি কি জাহান্নামের প্রশস্ততা সম্পর্কে কিছু জানেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, হ্যাঁ আল্লাহর কসম! আপনি জানেন না। আয়েশা (রাঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি রাসূল(সা.) -কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, وَالْاَرْضُ جَمِيْعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِيْنِهِ ‘ক্বিয়ামতের দিন সমস্ত জমিন আল্লাহর হাতের মুষ্টিতে থাকবে আর সমস্ত আকাশ তার ডান হাতে পেঁচানো থাকবে (যুমার ৬৭)। হে আল্লাহর রাসূল (সা.) ! সেদিন মানুষ কোথায় থাকবে? নবী করীম(সা.) বললেন, সেদিন তারা জাহান্নামের পুলের উপর থাকবে (সিলসিলা ছাহীহাহ হা/১৫১৩)। অত্র হাদীছে জাহান্নামের প্রশস্ততা প্রমাণ হয়। কারণ জাহান্নামীদের কানের লতি ও কাঁধের দুরত্বের ব্যবধান যদি ৭০ বছরের পথ হয় তাহ’লে ব্যক্তি কত বড় হ’তে পারে এবং প্রতি হাজারে নয়শত নিরানহবই জন লোক যদি জাহান্নামে যায়, তবে জাহান্নাম কত বড়। তারপর আল্লাহর নবী বললেন, যেদিন আসমান যমিন আল্লাহ হাতে গুটিয়ে নিবেন সমস্ত সেদিন মানুষ জাহান্নামের পুলের উপর থাকবে। তাহ’লে জাহান্নাম কত বড় এবং পুল কত বড় তা মানুষ বিবেচনা করতে পারবে কি?

عَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِى قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ عُنُقٌ مِنْ النَّارِ يَتَكَلَّمُ يَقُوْلُ وُكِّلْتُ الْيَوْمَ بَثَلاَثَةٍ بِكُلِّ جَبَّارٍ عَنِيْدٍ وَبِمَنْ جَعَلَ مَعَ اللهِ اِلَهًا آخَرَ وَبِمَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ فَيَنْطَوِى عَلَيْهِمْ فَيُقْذِفُهُمْ فِىْ غَمَرَاتِ جَهَنَّمَ.

আবু সা‘ঈদ খুদরী (রা.) বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে একটি গ্রীবা বা গলা বের হবে, সে কথা বলবে। সে বলবে, আজ তিন শ্রেণীর মানুষকে আমার নিকট সমর্পণ করা হয়েছে। ১. প্রত্যেক অহংকারী, স্বেচ্ছাচারী, অবাধ্য ও জেদী মানুষকে ২. আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে মা‘বুদ হিসাবে গ্রহণ করত অর্থাৎ শিরক করত ৩. আর যে ব্যক্তি মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিল। তারপর জাহান্নাম তাদেরকে ঘিরে ধরবে এবং জাহান্নামের গভীরতায় নিক্ষেপ করবে (সিলসিলা ছাহীহাহ হা/১৫২৩)। জাহান্নাম উক্ত তিন শ্রেণীর মানুষের সাথে কথা বলবে এবং তাদের ঘিরে ধরে জাহান্নামের গভীরতায় নিক্ষেপ করবে।

عَنِ السُّدِّى قَالَ سَأَلْتُ مَرَّةً الهَمْدَانِىَّ عَنْ قَوْلِ هَذَا وَاِنْ مِّنْكُمْ اِلاَّ وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا فَحَدَّثَنِىْ اَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ حَدَّثَهُمْ عَنْ رَسُوْلِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَرِدُ النَّاسُ كُلُّهُمُ النَّارَ ثُمَّ يَصْدُرُوْنَ مِنْهَا بِاَعْمَالِهِمْ فَاَوَّلُهُمْ كَلَمْعِ الْبَرَقِ ثُمَّ كَمَرِّ الرِّيْحِ ثُمَّ كَحَضَرِ الْفَرَسِ ثُمَّ كَالرَّاكِبِ ثًمَّ كَشَدِّ الرِّجَالِ ثُمَّ كَمَشْيِهِمْ.

মুফাসসির আল্লামা সুদ্দী (রহঃ) বলেন, আমি একদা হামদানী (রা.) -কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম,وَاِنْ مِّنْكُمْ اِلاَّ وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, জাহান্নামের উপর দিয়ে অতিক্রম করবে না (মরিয়ম৭১)। হামদানী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আমাদেরকে বলেছেন। নবী করীম(সা.) আমাদের বলেছেন, সকল মানুষকেই জাহান্নামের উপর দিয়ে পার হ’তে হবে। তারা তাদের আমলের ভিত্তিতে জাহান্নামের উপর দিয়ে পার হয়ে যাবে। তাদের প্রথম দল পার হবে বিদ্যুৎ গতিতে, তারপরের দল পার হবে বাতাসের গতিতে, তারপরের দল পার হবে ঘোড়ার গতিতে, তারপরের দল স্বাভাবিক আরোহীর গতিতে, তারপরের দল পায়ে চলার গতিতে পার হবে (সিলসিলা ছাহীহাহ হা/১৫২৬)। সকল মানুষকেই জাহান্নামের উপর দিয়ে পার হ’তে হবে। মানুষ তাদের আমল অনুপাতে পার হবে। এ জন্য পার হওয়ার গতি বিভিন্ন ধরনের হবে।

عَنْ اَبِىْ سَعِيْدِ الْخُدْرِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا دَخَلَ اَهْلُ الْجَنَّةِ وَاَهْلُ النَّارِ يُجَاءُ بِالْمَوْتِ كَأَنَّهُ كَبْشٌ اَمْلَحٌ فَيُوْقَفُ عَلَى السُّوْرِ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَيُقَالُ يَااَهْلَ الْجَنَّةِ هَلْ تَعْرِفُوْنَ هَذَا فَيَشْرِفُوْنَ وَيَنْظُرُوْنَ وَيَقُوْلُوْنَ نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ وَكُلُّهُمْ قَدْ رَآهُ فَيُؤَمَّرُ بِهِ فَيُضْجَعُ فَيُذْبَحُ فَيُقَالُ يَااَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُوْدٌ بِلَا مَوْتٍ وَيَااَهْلَ النَّارِ خُلُوْدٌ بِلَا مَوْتٍ ثُمَّ قَرَأَ رَسُوْلُ اللهِ وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ وَاَشَارَ بِيَدِهِ وَقَالَ اَهْلُ الدُّنْيَا فِىْ غَفْلَةٍ.

আবু সা‘ঈদ খুদরী (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, যখন জাহান্নামীরা জাহান্নামে চলে যাবে এবং জান্নাতীরা জান্নাতে চলে যাবে, তখন মরণকে সাদাকালো মিশ্রিত রং এর একটি ভেড়ার আকৃতিতে নিয়ে আসা হবে তাকে জাহান্নাম ও জান্নাতের মাঝে এক প্রাচীরের উপর দাঁড় করা হবে। বলা হবে হে জান্নাতের অধিবাসী তোমরা কি একে চিনতে পারছ? তারা মাথা উঁচু করে দেখবে এবং বলবে হ্যাঁ আমরা চিনতে পারছি এ হচ্ছে মরণ। তারা সকলেই তাকে দেখবে। অতঃপর বলা হবে, হে জাহান্নামের অধিবাসী! তোমরা কি একে চিনতে পারছ? তারা মাথা উঁচু করে দেখে বলবে হ্যাঁ আমরা চিনতে পারছি এ হচ্ছে মরণ। তারা সকলেই তাকে দেখবে। তারপর তাকে শুয়ে দিয়ে যবেহ করার আদেশ করা হবে। বলা হবে হে জান্নাতী তোমরা চিরদিন জান্নাতে থাক আর কোন দিন তোমাদের মরণ হবে না। হে জাহান্নামী তোমরা চিরদিন জাহান্নামে থাক তোমাদের আর কোনদিন মরণ হবে না। তারপর রাসূল(সা.) অত্র আয়াতটি পড়লেন, وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ তারপর হাতের ইশারা করে বললেন, দুনিয়াবাসীরা চায় অসাবধান থাকতে (তিরমিযী হা/৩১৫৬)

عَنْ اِبْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا صَارَ اَهْلُ الْجَنَّةِ اِلَى الْجَنَّةِ وَاَهْلُ النَّارِ اِلَى النَّارِ جِئَ بِالْمَوْتِ حَتَّى يَجْعَلَ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ يُذْبَحُ ثُمَّ يُنَادِىْ مُنَادِيًا اَهْلَ الْجَنَّةِ لَامَوْتَ وَيَااَهْلَ النَّارِ لَا مَوْتَ فَيَزْدَادُ اَهْلُ الْجَنَّةِ فَرْحًا اِلَى فَرْحِهِمْ وَيَزْدَادُ اَهْلَ النَّارِ حُزْنًا اِلَى حُزْنِهِمْ.

ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেন, যখন জান্নাতবাসীগন জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন মরণকে জাহান্নাম ও জান্নাতের মধ্যে উপস্থিত করে তাকে জবেহ করা হবে। অতঃপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীগণ! এখানে তোমাদের আর কোন মরণ নেই। হে জাহান্নামবাসীরা! এখানে আর মরণ নেই। এতে জান্নাতীদের আনন্দের পর আনান্দ আরও বেড়ে যাবে, আর জাহান্নামীদের দুশ্চিন্তা আরও বেশি হয়ে যাবে (মুসলিম, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৩৫২)

عَنْ اَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْتَى بِاَنْعَمِ اَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ اَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُصْبَغُ فِى النَّارِ صِبْغَةً ثُمَّ يُقَالُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْرًا قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيْمٌ قَطُّ فَيَقُوْلُ لاَ وَاللهِ يَارَبِّ وَيُؤْتَى بِاَشَدِّ النَّاسِ بُؤْسًا فِى الدُّنْيَا مِنْ اَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُصْبَغُ صِبْغَةً فِى الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ يَآ ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُؤْسًا قَطٌّ وَهَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةً قَطُّ فَيَقُوْلُ لاَ وَاللهِ يَارَبِّ مَامَرَّبِى بُؤْسٌ قَطٌّ وَلاَ رَأَيْتُ شِدَّةَ قَطٌّ.

আনাস (রা.) বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হ’তে দুনিয়ার সর্বাধিক সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে ডুবিয়ে তোলা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনও আরাম-আয়েশ দেখেছ? পূর্বে কখনও তোমার নেয়ামতের সুখ শান্তি অর্জিত হয়েছিল? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম, হে আমার প্রতিপালক! আমি কখনও সুখ ভোগ করিনি। তারপর জান্নাতীদের মধ্য হ’তে এমন একজন ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে যে, দুনিয়াতে সর্বাপেক্ষা কঠিন জীবন যাপন করেছিল। তখন তাকে মূহূর্তের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে হে আদম সন্তান কখনও কঠিন সমস্যা ও কঠোরতার সন্মুখীন হয়েছিলে? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম, হে আমার প্রতিপালক! আমি কখনও দুঃখ কষ্টে পতিত হয়নি। আর কখনও কোন কঠোর অবস্থার মুখোমুখিও হয়নি (মুসলিম, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪২৫)। দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী ভোগবিলাসী ব্যক্তি যেমন জাহান্নামের শাস্তি স্পর্শ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল সুখ-শান্তি ও ভোগ-বিলাসের স্বাদ ভুলে যাবে তেমনি দুনিয়ার সবচেয়ে দুস্থ ও কঠোর অবস্থার সন্মুখীন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদের যাতনা ভুলে যাবে।

عَنْ اَنَسٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَقُوْلُ اللهُ لَاَهْوَنُ اَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَوْ اَنَّ لَكَ مَا فِى الْاَرْضِ مِنْ شَيْئٍ اَكُنْتَ تَفْتَدِى بِهِ فَيَقُوْلُ نَعَمْ فَيَقُوْلُ اَرَدْتُ مِنْكَ اَهْوَنَ مِنْ هَذَا وَاَنْتَ فِى صُلْبِ آدَمَ اَنْ لاَّتُشْرِكَ بِىْ شَيْئًا فَاَبَيْتَ الاَّ اَنْ تُشْرِكَ بِىْ.

আনাস (রা.) বলেন, নবী করীম(সা.) বলেছেন, আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন সর্বাপেক্ষা কম ও সহজতর শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিকে বলবেন, যদি গোটা পৃথিবী পরিমাণ সম্পদ তোমার থাকত, তাহ’লে তুমি কি সমস্ত কিছুর বিনিময়ে এ শাস্তি হ’তে মুক্তি পাওয়ার চেষ্ট করতে? সে বলবে, হ্যাঁ। তখন আল্লাহ তাকে বলবেন, আদমের ঔরসে থাকা কালে এর চাইতেও সহজতর বিষয়ের হুকুম করেছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক কর না, কিন্তু তুমি তা অমান্য করেছ এবং আমার সাথে শরীক করেছ (বুখারী, মুসলিম, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪২৬)। হাদীছে বুঝা গেল, জাহান্নাম এমন এক কঠিন জায়গা যে, গোটা পৃথিবীর বিনিময়ে হ’লেও মানুষ জাহান্নাম হ’তে মুক্তি চাইবে। কিন্তু তার কোন কথা শুনা হবে না। অথচ দুনিয়াতে শির্ক মুক্ত থাকতে পারলেই একদিন জান্নাত পাওয়া যাবে আশা করা যায়।

عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ اَنَّ النَِّبَّى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ اِلَى كَعْبَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ اِلَى رُكْبَتَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ اِلَى حُجْزَتِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ اِلَى تَرْقُوَتِهِ.

সামুরা ইবনে জুন্দুব (রা.) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম(সা.) বলেছেন, জাহান্নামীদের মধ্যে কোন লোক এমন হবে, যার পায়ের টাখনু পর্যন্ত জাহান্নামের আগুন হবে। কারো হাঁটু পর্যন্ত কারো হবে কোমর পর্যন্ত এবং কারো হবে কাঁধ পর্যন্ত (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪২৭)। মানুষ জাহান্নামে তার পাপ অনুপাতে আগুনের মধ্যে ডুবে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, سَاُرْهِقُهُ صَعُوْدًا অচিরেই আমি (আবু জাহলকে) প্রত্যেক অপরাধিকে আগুনের পাহাড়ে চড়াব (মুদ্দাছছির ১৭)। অত্র আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, জাহান্নামে আগুনের পাহাড় থাকবে। জাহান্নামীরা সে পাহাড়ের উপর উঠবে ও নামবে। এটাও হবে এক ধরনের ভয়াবহ শাস্তি। আল্লাহ অন্যত্র বলেন,

اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِاَيَتِنَا سَوْفَ نُصْلِيْهِمْ نَارًا كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُوْدُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُوْدًا غَيْرَهَا لِيَذُوْقُوا الْعَذَابَ اِنَّ اللهَ كَانَ عَزِيْزًا حَكِيْمًا.

‘যারা আমার আয়াতসমূহ মেনে নিতে অস্বীকার করেছে, আমি তাদেরকে নিঃসন্দেহে আগুনে নিক্ষেপ করব। যখন তাদের চামড়া গলে যাবে, তখন সে স্থানে অন্য চামড়া পুনরায় সৃষ্টি করে দিব, যেন তারা শাস্তির স্বাদ পুরাপুরি গ্রহণ করতে পারে। বস্ত্ততঃ আল্লাহ বড় শক্তিশালী এবং কৌশলে সব জানেন’ (নিসা ৫৬)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَيْنَ مَنْكِبَىِ الْكَافِرِ فِى النَّارِ مَسِيْرَةُ ثَلاَثََةِ اَيَّامِ لِلرَّاكِبِ الْمُسْرِعِ وَفِى رِوَايَةٍ ضِرْسُ الْكَافِرِ مِثْلُ اُحُدٍ وَغِلْظُ جِلْدِهِ مَسِيْرَةُ ثَلاَثٍ.

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, জাহান্নামের মধ্যে কাফেরের উভয় ঘাড়ের দূরত্ব হবে কোন দ্রুতগামী অশ্বারোহীর তিন দিনের পথ। অপর এক বর্ণনায় আছে, কাফেরের এক একটি দাঁত হবে ওহুদ পাহাড়ের সমান এবং তার গায়ের চামড়া হবে তিন দিনের পথ (মুসলিম, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪২৮)। অত্র হাদীছে জাহান্নামীদের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা পাওয়া যায়।

عَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَاَبْرِدُوْا بِالظُّهْرِ فَاِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ وَ اشْتَكَتِ النَّارُ اِلَى رَبِّهَا فَقَالَ رَبِّ اَكَلَ بَعْضِيْ بَعْضًا فَاُذِنَ لَهَا بِنَفْسَيْنِ نَفْسٍ فِى الشِّتَاءِ وَنَفْسٍ فِى الصَّيْفِ اَشَدُّ مَا تَجِدُوْنَ ِمنَ الْحَرِّ فَمِنْ سَمُوْمِهَا وَاَشَدُّ مَا تَجِدُوْنَ مِنَ الْبَرَدِ فَمِنْ زَمْهَرِيْرِهَا.

আবু সা‘ঈদ খুদ্রী (রা.) বলেন, নবী করীম(সা.) বলেছেন, যখন উত্তাপ বাড়বে তখন যোহরের সালাত শীতল করে আদায় কর। কারণ উত্তাপের আধিক্য জাহান্নামের ভাপ। জাহান্নাম তার প্রতিপালকের নিকট অভিযোগ করে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! উত্তাপের তীব্রতায় আমার একাংশ অপরাংশকে খেয়ে ফেলছে। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে দু’টি নিশ্বাসের অনুমতি দিলেন। বুখারীর এক বর্ণনায় আছে তোমরা যে গরম অনুভব কর তা জাহান্নামের গরম নিশ্বাসের কারণে। আর তোমরা শীত অনুভব কর তা জাহান্নামের শীতল নিশ্বাসের কারণে (বুখারী, তাহক্বীকে মিশকাত হা/৫৯১)। অত্র হাদীছে বুঝা গেল জাহান্নামে যেমন আগুনের তাপে প্রচন্ড উত্তপ্ত এলাকা রয়েছে তেমন প্রচন্ড শীতল এলাকাও রয়েছে। আর উভয় স্থান মানুষকে কঠোর শাস্তি দেয়ার জন্য।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِطَّلَعْتُ فِى الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ اَكْثَرَ اَهْلِهَا الْفُقَرَأَ وَاِطَّلَعْتُ فِى النَّارِ فَرَأَيْتُ اَكْثَرَ اَهْلِهَا النِّسَاءَ.

ইবনে আববাস (রা.) বলেন, রাসূল(সা.) বললেন, আমি জান্নাতের প্রতি লক্ষ্য করলাম, জান্নাতের অধিকাংশ অধিবাসী গরীব। অতঃপর জাহান্নামের প্রতি লক্ষ্য করে দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী (বুখারী, মুসলিম, তাহক্বীকে মিশকাত হা/৫২৩৪)। হাদীছের মর্ম। মূলত তারা স্বামীর অকৃতজ্ঞ সাথে সাথে নারীরা পুরুষের জন্য এক বিপদজনক ভয়াবহ বস্ত্ত। এরা পুরুষের ঈমান ধ্বংস করে। তাদের মান-সম্মান ধ্বংস করে। তারা নগ্ন হয়ে চলে এবং সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটায়। এজন্য আল্লাহ তাদেরকে নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার পথ অবলম্বন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضِرْسُ الْكَافِرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِثْلُ اُحُدٍ وَفَخِذُهُ مِثْلُ الْبَيْضَاءِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ مَسِيْرَةُ ثَلاَثٍ مِثْلُ الرَّبَذَةِ.

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী করীম(সা.) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন কাফেরদের দাঁত হবে ওহুদ পাহাড়ের ন্যায়, আর রান বা উরু হবে ‘বায়যা’ পাহাড়ের মত মোটা জাহান্নামে তার বসার স্থান হচ্ছে তিনদিনের দূরত্ব এমন পথের সমান প্রশস্ত জায়গা। যেমন মাদীনা হ’তে ‘রাবায’ নামক জায়গার দুরত্বের ব্যবধান (তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৬৭৪; হাদীছ ছহীহ; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪৩০)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url