সূরা আল-মুলক-এর তাফসির-১
সূরা আল-মুলক-এর তাফসির-১
সূরা আল-মুলক মক্কায় অবতীর্ণ। এই সূরার ফযীলতের কথা বেশ কয়েকটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র কয়েকটি বর্ণনা সহীহ ও হাসান।
একটি বর্ণনায় এসেছে যে, নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘আল্লাহর পবিত্র কুরআনে এমন একটি সূরা রয়েছে, যাতে শুধুমাত্র ৩০টি আয়াত আছে। সূরাটি মানুষের জন্য সুপারিশ করবে এবং (তার সুপারিশ কবুল করে) তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ (তিরমিযী, আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ, আহ্মদ ২/২৯৯,৩২১)
দ্বিতীয় একটি বর্ণনায় এসেছে যে, ‘‘কুরআন মাজীদে এমন একটি সূরা আছে, যা তার পাঠকারীর হয়ে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে ঝগড়া করবে এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/১৭২, সহীহ জামে’ সাগীর ৩৬৪৪নং)
তিরমিযীর একটি বর্ণনায় এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, ‘‘রসূল (সাঃ) রাতে শোয়ার পূর্বে সূরা ‘সাজদা এবং সূরা মুল্ক অবশ্যই পড়ে নিতেন।’’ (ফাযায়েলে কুরআন পরিচ্ছেদ) একটি বর্ণনা শায়খ আলবানী (রাহঃ) তাঁর ‘সিলসিলাহ স্বাহীহাহ’ নামক গ্রন্থে নকল করেছেন। তাতে বলা হয়েছে,
سُوْرَةُ تَبَارَكَ هِيَ المَانِعَةُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ-
অর্থাৎ, তাবারাকা সূরাটি কবরের আযাব থেকে মানুষকে বাঁচাবে।) (ঐ ১১৪০নং, ৩/১৩১) অর্থাৎ, তার পাঠকারীর ব্যাপারে আশা করা যায় যে, সে কবরের আযাব থেকে পরিত্রাণ পাবে। তবে শর্ত হল তাকে শরীয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান এবং ফরয কাজগুলোর প্রতি যত্ন নিতে হবে।
(১) মহা মহিমান্বিত তিনি সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর হাতে[1] এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
[1] تَبَارَكَ শব্দটি بَرَكة থেকে এসেছে। এর শাব্দিক অর্থ হল বর্ধনশীল ও বেশী হওয়া। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন, সৃষ্টিকুলের গুণাবলীর বহু ঊর্ধ্বে ও উচ্চে। تَفَاعل এর স্বীগা (আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী) অনেক ও আধিক্য বুঝাতে ব্যবহার হয়। ‘‘সর্বময় কর্তৃত্ব বা রাজত্ব যাঁর হাতে’’ অর্থাৎ, সব রকমের শক্তি এবং আধিপত্য তাঁরই। তিনি যেভাবে চান বিশ্বজাহান পরিচালনা করেন। তাঁর কাজে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। তিনি ভিখারীকে বাদশাহ, আর বাদশাহকে ভিখারী, ধনীকে গরীব এবং গরীবকে ধনী বানান। তাঁর কৌশল ও ইচ্ছায় কারো হস্তক্ষেপ চলে না।
[1] অর্থাৎ, তাতে কোন অসামঞ্জস্য, কোন বক্রতা এবং কোন ত্রুটি ও খুঁত নেই। বরং তাকে একেবারে সোজা ও সমতল বানানো হয়েছে; যা এ কথা প্রমাণ করে যে, এ সবের সৃষ্টিকর্তা হলেন কেবল একজন, একাধিক নয়।
[2] কখনো কখনো এমন হয় যে, দ্বিতীয়বার ভালভাবে লক্ষ্য করলে কোন ঘাটতি বা দোষ-ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। তাই মহান আল্লাহ আহবান করছেন যে, তোমরা বারবার দৃষ্টিপাত করে দেখ, তাতে কোন ছিদ্র বা ফাটল পাও কি না?
ثُمَّ ارۡجِعِ الۡبَصَرَ كَرَّتَیۡنِ یَنۡقَلِبۡ اِلَیۡكَ الۡبَصَرُ خَاسِئًا وَّ هُوَ حَسِیۡرٌ ﴿۴﴾
(৪) অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। [1]
[1] এখানে আবার তাকীদ করার উদ্দেশ্য হল, নিজের মহাশক্তি এবং একত্বকে আরো বেশী স্পষ্ট করা।
وَ لَقَدۡ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ وَ جَعَلۡنٰهَا رُجُوۡمًا لِّلشَّیٰطِیۡنِ وَ اَعۡتَدۡنَا لَهُمۡ عَذَابَ السَّعِیۡرِ ﴿۵﴾