কুরআন তিলাওয়াতের ফযিলত
কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত লেখক ফিরিশতাদের সাথে থাকবেন
1. আয়েশা
(রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত লেখক ফিরিশতাদের সাথে
থাকবেন। আর যে কুরআন পড়ে কিন্তু আটকায় এবং কুরআন পড়া তার পক্ষে খুব কষ্টদায়ক
হয়, তাহলে তার জন্য দ্বিগুণ নেকী রয়েছে। (ছহীহ বুখারী হা/4937; ছহীহ মুসলিম, হা/798, মিশকাত হা/2112)
কুরআনের মাধ্যমে জাতির উন্নতি/অবনতি নির্ভর করে
2. ওমর
ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত,
তিনি
বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামবলেছেন, এই কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা কোন কোন জাতিকে উন্নত করেন এবং অন্যদের অবনত করেন। (ছহীহ মুসলিম, হা/817, ইবনু মাজাহ হা/218, মিশকাত হা/2115
কুরআন তিলাওয়াত শুনতে ফেরেশতার আগমণ
3. আবু
সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত,
ছাহাবী
উসাইদ ইবনু হুযাইর (রা) এক রাতে সূরা বাক্বারাহ পড়ছিলেন, তখন
তাঁর কাছে ঘোড়া বাঁধা ছিল। হঠাৎ ঘোড়া লাফিয়ে উঠল। তিনি চুপ করলেন, ঘোড়া
শান্ত হল। আবার তিনি পড়তে শুরু করলেন, আবার ঘোড়া লাফিয়ে উঠলো। তিনি চুপ করলেন, ঘোড়া শান্ত হলো। পুনরায় তিনি পড়া আরম্ভ করলেন, পুনরায় ঘোড়াটি লাফিয়ে উঠল। এবার তিনি ক্ষান্ত দিলেন।
কেননা তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ঘোড়ার নিকটে শয়ন করা ছিল। তিনি আশঙ্কা করলেন, তার কোন বিপদ হয় কি-না? এরপর তিনি তাকে দূরে সরিয়ে আকাশের দিকে মাথা
উঠালেন এবং দেখলেন, শামিয়ানার ন্যায়, যাতে বাতিসমূহের মত রয়েছে। যখন তিনি সকালে উঠলেন, তখন নবী করীম (ছাঃ)-কে এটা জানালেন। তখন তিনি বললেন, হে ইবনু হুযাইর! তুমি পড়তে থাকলে না কেন? হে ইবনু হুযাইর! তুমি পড়তে থাকলে না কেন? তখন ইবনু হুযাইর বললেন,
হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ! আমার
ঘোড়া ইয়াহইয়াকে মাড়িয়ে দেবার ভয় করছিলাম। আর সে ছিল ঘোড়ার নিকটে। অতএব আমি ক্ষান্ত
দিয়ে তার নিকটে গেলাম এবং আকাশের দিকে মাথা উঠালাম। শামিয়ানার ন্যায়, এতে
বাতিসমূহের মত রয়েছে। অতঃপর আমি সেখান থেকে বের হলাম, আর দেখতে দেখতে তা অদৃশ্য
হয়ে গেল। শুনে রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বললেন, এটা কী ছিল জানো? উসাইদ বললেন, ন। রাসূলুল্লাহ্
(ছাঃ) বললেন, তারা ছিল ফেরেশতাদের দল। তোমার স্বর শুনে তাঁরা এসেছিলেন। যদি তুমি
পড়তে থাকতে তাঁরা ভোর পর্যন্ত সেখানে খাকতেন, আর মানুষ তাঁদের দেখতে পেত, তাঁরা
মানুষ হতে অদৃশ্য হতেন না। (ছহীহ্ বুখারী, হা/5018; ছহীহ্ মুসলিম, হা/796;
মিশকাত, হা/2116)
4. বারা
ইব্নু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সূরা বাহ্ফ পড়ছিল আর তার পার্শ্বে
দুটি রশি দ্বারা তার ঘোড়া বাঁধা ছিল। এসময় এক খন্ড মেঘ তাকে ঢেকে নিল এবং তার নিকট
হতে নিকটতর হতে লাগল আর তার ঘোড়া লাফাতে লাগল। অতঃপর সে যখন ভোরে উঠল, তখন রাসূলুল্লাহ
(ছাঃ) এর নিকট এসে তা উল্লেখ করল। তিনি বললেন, সেটা ছিল ‘সাকীনা’ নামক রহমত. যা
কুরআনের কারণে নাযিল হয়েছিল। (ছহীহ্ বুখারী, হা/5011; ছহীহ্ মুসলিম, হা/795;
মিশকাত, হা/2117)
যে বাড়ীতে কুরআন তিলাওয়াত হয় না তা কবস্থানের ন্যায়
5. আবু
হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, তোমাদের ঘরসমূহকে
কবরস্থানে পরিণত করো না। নিঃসন্দেহে শয়তান সেই ঘর হতে পলায়ন করে, যে ঘরে সূরা
বাক্বারাহ তিলাওয়াত করা হয়। (ছহীহ্ মুসলিম হা/780; তিরমিযী, হা/2877; মিশকাত,
হা/2119)
সূরা ফাতিহা ও সূরা বাক্বারার শেষাংশের বিশেষ মর্যাদা
6. ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক
সময় জিব্রীল (আঃ) নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় উপর দিক হতে একটি
দরজা খোলার শব্দ শুনলেন। ফলে তিনি তাঁর মাথা উপরে উঠালেন। এবং বললেন, আসমানের এই যে দরজাটি আজ খোলা হল, এই দরজা এদিনের পূর্বে আর কোন দিন খোলা হয়নি। রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বললেন, সে দরজা হতে একজন ফেরেশতা যমীনে নামলেন। তখন জিবরীল (আঃ) বললেন, এই যে ফেরেশতা যমীনে নামলেন, তিনি এদিন ছাড়া
ইতিপূর্বে কোন দিন যমীনে নামেননি। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ)-কে সালাম দিলেন
এবং বললেন,
দুটি জ্যোতির সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনাকে দেয়া হয়েছে এবং আপনার পূর্বে কোন নবীকে দেয়া হয়নি-সূরা ফাতিহা ও
সূরা বাক্বারার শেষাংশ। আপনি তার যে অক্ষরই তেলাওয়াত করবেন, আপনাকে তারই প্রতিদান দেয়া হবে। (ছহীহ্ মুসলিম, হা/806,
মিশকাত, হা/2124)
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়
7. আবু দারদা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে তাকে
দাজ্জাল হতে নিরাপদ রাখা হবে। (ছহীহ্ মুসলিম, হা/809; মিশকাত, হা/2126)
যার যত বেশি কুরআন মুখস্ত
থাকবে তিনি তত বেশি জান্নাতের উঁচু স্তর লাভ করবেন
8. আবুল্লাহ ইবনু আমর্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি
বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন কুরআন তিলাওয়াতকারীকে বলা হবে কুরআন
তিলাওয়াত করতে থাক, এবং উপরে উঠতে থাক। অক্ষর
অক্ষর ও শব্দ শব্দ স্পষ্টভাবে পাঠ করতে থাক, যেভাবে দুনিয়াতে স্পষ্টভাবে পাঠ করেছিলে?
কেননা তোমার জন্য জান্নাতে বসবাসের স্থান হচ্ছে তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতের নিকট।
(মুসনাদে আহমদ, হা/6799; আবু দাঊদ, হা/1464; মিশকাত, হা/2134)
সূরা ইখলসকে ভালোবাসা জান্নাত লাভের উপায়
9. আনাস
(রা)হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি বলল, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম! আমি
এই ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’-কে ভালবাসি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)বললেন, তোমার এই ভালবাসা
তোমাকে জান্নাতে পৌছে দিবে।(তিরমিযী, হা/2901; মিশকাত, 2130)
কুরআনের প্রতি হরফ তিলাওয়াতে দশ নেকী রয়েছে
10.
আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ (রা) হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)বলেছেন, যে ব্যক্তি যে ব্যক্তি কুরআনের কোন একটি অক্ষর
পাঠ করবে তার জন্য একটি নেকী রয়েছে। আর এক নেকী হচ্ছে দশগুণ। আমি বলছি না যে আলিম-লাম-মীম
একটি হরফ। বরং আলিমে একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।
(তিরমিযী, হা/2910; মিশকাত, হা/2137)
কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত আয়াতুল কুরসীর বিশেষ ফযিলত : মৃতু হওয়া
মাত্রই জান্নাত
11.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেন, প্রত্যেক ফরয সালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশ করার
জন্য আর কোন বাধা থাকে না মৃত্যু বতীত। (নাসাঈ) শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত
তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী
হতে না পারে। (ছহীহ বুখারী।) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রত্যেক সালাতের পর ‘আয়াতুল
কুরসী’ পাঠ করতেন। (নাসাঈ; সিলসিলা ছহীহা, হা/972)
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا
