মুমূর্ষু ব্যক্তি ও জানাযা সলাত সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস
রোগী দেখার দো‘আ
(১) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, একবার নবী করীম (ছাঃ) একজন বেদুইনকে দেখতে গেলেন। আর তাঁর নিয়ম ছিল এই যে, যখন তিনি কোন রোগীকে দেখতে যেতেন তখন বলতেন,
لَا بَأْسَ طَهُوْرٌ إِن شَآءَ اللهُ
(লা-বা‘সা ত্বহুরুন্ ইনশা-আল্লাহ) ‘ভয় নেই, আল্লাহর মেহেরবানীতে আরোগ্য লাভ করবে ইনশা-আল্লাহ্। (ছহীহ্ বুখারী, হা/3616; মিশকাত, হা/1529)
(২) ‘আয়েশা (রা) বলেন, আমাদের মধ্যেকার কেউ যখন অসুস্থ হত, তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর ডান হাত রোগীর শরীরে বুলাতেন এবং বলতেন
:
اَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِى لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَائُكَ
شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقْمًا
উচ্চারণ: আয্হিবিল্ বা‘স্,রাব্বান্ না-স্, ওয়াশফি আংতাশ্ শা-ফী লা-শিফা-আ ইল্লা-শিফাউকা শিফা-আন্ লা-ইউগো-দিরু সাক্বমা-।
অর্থ: হে মানুষের প্রতিপালক! এ রোগ দূর কর
এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী। তোমার আরোগ্য ব্যতীত কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য, যা বাকী রাখে না কোন রোগ। (ছহীহ্ বুখারী, হা/5675; ছহীহ্ মুসলিম, হা/5836; মিশকাত,হা/1530)
মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট পঠিতব্য দো‘আ
(১) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) এবং আবু হুরায়রাহ্
(রাঃ) যৌথভাবে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা মুমূর্ষু ব্যক্তিকে "لَا اِلَهِ إِلَّا الله"-এর তালক্বীন দাও।’ (ছহীহ্ মুসলিম, হা/916; মিশকাত, হা/1616)
(২) মু‘আয্ ইব্নু জাবাল
(রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যার শেষ বাক্য হবে "لَا
اِلَهِ إِلَّا الله"সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবূ দাঊদ,হা/3116; মিশকাত, হা/1621, হাদীছটি ছহীহ্)
(৩) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমরা মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকটে ভাল কথা বল। কারণ
তোমাদের কথার উপর ফেরেশতাগণ আমীন বলেন। (ছহীহ্ মুসলিম, হা/৯১৯;
মিশকাত, হা/১৬১৭)
উল্লেখ্য যে, মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসীন পড়ার প্রমাণে বর্ণিত হাদীছ নিতান্তই য‘ঈফ্ (আবূ দাঊদ,হা/৩১২১; আলবানী, মিশকাত,হা/১৬২২ টীকা নং-৩)। অনুরুপভাবে মৃত ব্যক্তির নিকটে কুরআন পড়ারও কোন প্রমাণ নেই, সুতরাং তা
বর্জন আবশ্যক।
জীবনের নিরাশার সময় বলবে
اَللَّهُمَّ
اغْفِرلِى وارْحَمْنِىْ واَلْحِقْنِى بِالرَّفِيْقِ الْأَعْلَى
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়া আল্হিক্বনী বির্-রফীক্বিল আ‘লা-।
অর্থ- হে আল্লাহ!
আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর এবং আমাকে মহান বন্ধুর সাথে মিলিয়ে দাও। (ছহীহ্ বুখারী, হা/৪৪৪০; ছহীহ্ মুসলিম, হা/৬৪৪৬)
মৃত ব্যক্তির চোখ বন্ধ করার সময় পঠিত দো‘আ
উম্মে সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আবু সালামার নেকট আসলেন, এমতাবস্থায় তার চক্ষু খোলা ছিল, তিনি তাঁর চক্ষু বন্ধু করলেন। অতঃপর বললেন,
‘রূহ যখন কবয্ করা হয় তখন চক্ষু তার অনুসরণ করে। এ কথা শুনে আবু সালামার পরিবারের কিছু লোক চিৎকার করে কেঁদে উঠল। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তোমরা তোমাদের আত্মার জন্য কল্যাণ ছাড়া অকল্যাণ কামনা কর
না। তোমরা যা
বল ফেরেশতাগণ তার সাথে সাথে ‘আমীন’ বলেন। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) বললেন,
اَللَّهُمَّ
اغْفِرلِأَبِي سَلمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِى الَمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِى
عَقِبِهِ فِى الْغَابِرِيْنَ وَاغْفِرْ لَنَا وَ لَهُ يَا رَبَّ الْعَالَمِيْنَ
وَافْسَحْ لَهُ فِى قَبْرِهِ وَنَوِّرْ لَهُ فِيْهِ
উচ্চারণ: আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্ লি
আবী সালামাতা ওয়ারফা‘
দারাজাতাহু ফিল মাহইদইয়ীনা ওয়াখ্লুফহু ফী ‘আক্বিবিহি ফিল্ গ-বিরীন, ওয়াগ্ ফির্ লানা-ওয়া লাহু ইয়া-রাব্বাল্ ‘আ-লামীন, ওয়াফ্সাহ্: লাহু ফী
ক্ববরিহী ওয়া নাব্বির্ লাহু ফীহ্।
উল্লেখ্য,
‘আবী সালামাতা’ এর
স্থলে মৃত নাম উল্লেখ করতে হবে।
অর্থ- হে আল্লাহ!
তুমি আবু সালামাহ্কে মাফ করে দাও। আর হিদায়াত প্রাপ্তদের মধ্যে তাঁকে উচ্চ মর্যাদা দাও এবং তাঁর পিছনে যারা রয়ে গেল তাদের মধ্যে তুমি তার প্রতিনিধি হও। হে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে ও
তাকে ক্ষমা কর। তার কবর প্রশস্ত করে দাও এবং সেখানে তাঁর জন্য আলোর ব্যবস্থা কর। (ছহীহ মুসলিম, হা/২১৬৯; মিশকাত হা/১৬১৯,জানাযা অধ্যায়)
যে
কোন মৃত ব্যক্তির জন্য উপরোক্ত দো‘টি সংক্ষিপ্ত করে এভাবেও বলা যায়-
اغْفِرْلَهُ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِى الْمَهْدِيْنَ وَافْسِحْ لَهُ فِى قَبْرِهِ
وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ
অর্থ- আল্লাহুম্মাগ্ ফির্ লাহু ওয়ার্ ফা‘ দারাজাতাহু ফিল্
মাহ্দিয়্যীন। ওয়াফ্সাহ্: লাহু ফী ক্বব্ রিহী ওয়া নাব্বির লাহু ফীহ্।
অর্থ- হে আল্লাহ!
তুমি তাকে মাফ করে দাও। আর হিদায়াত প্রাপ্তদের মধ্যে তাকে উচ্চ মর্যাদা দাও। তার ক্ববর প্রশস্ত করে দাও এবং সেখানে তার জন্য আলোর ব্যবস্থা করে দাও। (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসইলু ইব্নু ঊছায়মিন, খন্ড: ১৭, পৃ:
২৭৮)
জানাযার সলাতে মৃত ব্যক্তির জন্য দো‘আ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন জানাযার সলাত পড়তেন তখন বলতেনঃ
اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَ شَاهِدِنَا وَ غَآئِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَاَنَا اَللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيْمَانِ اَللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أجرَهُ ولَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ
হাসান (রহঃ) বলেন, শিশুর জানাযার সলাতে সূরা ফাতিহা তেলাওয়াত করবে এবং দো‘আ
পড়বে, اَللَّهُمَّ
اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَّسَلَفًا وَّأَجْرًا
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাজ্ ‘আলহু লানা ফারতাঁও ওয়া সালাফাঁও ওয়া আজ্ রা-
অর্থ- হে
আল্লাহ! আপনি এই শিশুকে আমাদের জন্য পূর্বগামী, অগ্রগামী এবং আখেরাতের পুঁজি ও
পুরস্কার গণ্য কর। (ছহীহ্ বুখারী, হা/১৩৩৫)
কবরে লাশ রাখার দো‘আ
ইব্নু ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
যখন তোমরা লাশ ক্ববরে রাখ,
তখন বল, بِسْمِ اللهِ وَعَلَى
مِلَّةِ رَسُوْلِ اللهِ (বিসমিল্লাহি ওয়া ‘আল
মিল্লাতে রাসূলুল্লাহ্) ‘আল্লাহর নামে এবং তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর মিল্লাতের উপর (লাশকে)
ক্ববরে রাখছি।’ (আবূ দাঊদ, হা/৫২৩৩; তিরমিযী, হা/১০৪৬; ইবনু মাজাহ্,হা/১৫৫০)
মৃতব্যক্তিকে ডান কাতে ক্ববরে রাখা সুন্নাত।
চিৎ করে এবং বুকের উপর হাত রেখে ক্ববরে রাখার কোন প্রমাণ নেই। আর মাটি দেওয়ার সময়
‘বিসমিল্লাহ্’ ছাড়া কোন দো‘আ নেই।
মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর দো‘আ
ওছ্মান (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন মৃত ব্যক্তিকে
দাফন করে অবসর গ্রহণ করতেন তখন বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর,
তোমরা তাঁর জন্য ক্ববরে স্থায়ীত্ব চাও (অর্থাৎ, সে যেন ফেরেশতাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর
দিতে পারে। এখন তাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। (আবূ দঊদ,হা/৩২২১; মিশকাত, হা/১৩৩)
উল্লেখ্য যে, দাফনের পর বলা যায়, اَللَّهُمَّ
اغْفِرْلَهُ وَثَبِّتْهُ
(আল্লাহুম্মাগ্ ফির্ লাহু
ওয়া ছাব্ বিতহু) এবং জানাযার দো‘আগুলিও ব্যক্তিগতভাবে পড়া যায়। (আবূ দঊদ,হা/৩২২১;
মিশকাত, হা/১৩৩)
দাফনের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দো‘আ করা বিদ‘আত
এবং বহুল প্রচলিত মাটি দেয়া مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيْهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا
نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى
এই দো‘আটি নিতান্তই যঈফ্ যা পরিত্যাজ্য। (মুসনাদে আহমদ,
হা/২২২৪১; মুসতাদরাকে হাকিম,হা/ ৩৪৩৩)
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا
