সন্ধ্যায় ও ঘুমাতে যাওয়ার সময় পঠিতব্য দোআ/যিকরসমূহ

 

https://www.alhera21.com/



(১) ’আব্দুল্লাহ্ ইব্নু মাস্‘ঊদ (রাঃ) বলেন, যখন সন্ধ্যা হত তখন রাসূল (ছাঃ) বলতেন ,

أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ لَآ إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ، اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيْهَا وَأَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيْهَا اَللَّهُمَّ  إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَسُوْءِ الْكِبَرِ رَبِّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِيْ النَّارِ وَ عَذَابٍ فِيْ الْقَبْرِ.



অর্থ- আমরা এবং সমগ্র জগৎ আল্লাহর উদ্দেশ্যে সন্ধ্যায় প্রবেশ করলাম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তিনি ব্যতীত ‘ইবাদতের যোগ্য কোন মা‘বুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এ রাতের মঙ্গল চাই এবং এ রাতে যা আছে, তার মঙ্গল কামনা করি। আশ্রয় চাই এ রাতের অমঙ্গল হতে এবং এ রাতে যে অমঙ্গল রয়েছে তা হতে। হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা, বার্ধক্য ও বার্ধক্যের অপকারিতা হতে। হে প্রভূ! আশ্রয় চাই জাহান্নামের ‘আযাব ও ক্ববরের শাস্তি
হতে।
(ছহীহ্ মুসলিম, হা/২৭২৩; মিশকাত, হা/২৩৮১)


(২) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) সন্ধ্যায় বলতেন,

اَللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا  وَ بِكَ أصْبَحْنَا وَ بِكَ نَحْيَا وَ بِكَ نَمُوْتُ وَإِلَيْكَ النُّشُوْرُ.



অর্থ- হে আল্লাহ্! তোমার সাহায্যে আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই আবার তোমার সাহায্যে সকালে
উঠি। তোমার নামে আমরা বেঁচে থাকি, তোমার নামে মৃত্যুবরণ করি এবং তোমার নিকট রয়েছে
পুনরুত্থান।
(ছহীহ্ আবূ দাঊদ, হা/৩৩৯১ মিশকাত, হা/২৩৮৯)



(৩) সন্ধ্যায় তিনবার বলতে হবে-

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.


অর্থ- আমি আল্লাহর পূর্ণ নামের সাহায্যে তাঁর সকল সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই। (ইব্নু মাজাহ্, হা/৩৫১৮; মিশকাত, হা/২৪২২-২৩)



ঘুমাতে যাওয়ার সময় পঠিতব্য দোআ/যিকরসমূহ



(১) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, যদি কেউ শয়নকালে ‘আয়াতুল
কুরসী’ পাঠ করে, তাহলে শয়তান তার নিকটবর্তী হবে না। (ছহীহ্ বুখারী, হা/২৩১১,
৩২৭৫; মিশকাত, হা/২১২৩)



(২) আবূ মাস্‘ঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে
কেউ রাতে সূরা বাক্বারাহ্-এর শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য আয়াত দুটিই যথেষ্ট
হবে। (ছহীহ্ বুখারী, হা/৫০৪০, ৩২৭৫; মিশকাত, হা/২১২৫)



(৩) রাসূলুল্লাহ্! (ছাঃ) সূরা ‘আলিফ লাম মীম তানঝীল’ (সাজদা)
এবং সূরা ‘তাবারাকাল্লাযী’ (মুলক) পড়ে নিদ্রা যেতেন।
(দারেমী, হা/৩৪৭৪, মিশকাত, হা/২১৫৫)



(৪) ‘আয়েশাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন রাতে শয্যায় যেতেন
তখন তাঁর দু’হাত একত্রিত করে হাঁতে ফুঁ দিতেন এবং সূরা ইখ্লাছ, ফালাক্ব ও নাস
পড়তেন। অতঃপর দু’হাত দ্বারা সম্ভবপর শরীর মুছে ফেলতেন। মাথা, মুখ ও শরীরের
সম্মুখভাগ মুছতেন। তিনি এরূপ তিনবার করতেন। (ছহীহ্ বুখারী, হা/৫০১৭; মিশকাত,
হা/২১৩২)



(৫) হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন রাতে শয্যা গ্রহণ
করতেন তখন তিনি তাঁর হাত গালের নীচে রাখতেন। অতঃপর বলতেন,



اَللَّهُمَّ بِسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَ.


অর্থ- হে আল্লাহ্! আমি তোমার নামে মৃত্যুবরণ করি এবং তোমার নামেই জীবিত হই। (ছহীহ্ বুখরী হা/৬৩১৪; মিশকাত, হা/২৩৮২)



(৬) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ বিছানায় শুতে যায়, তখন সে যেন বলেঃ

بِاسْمِكَ رَبِّيْ وَضَعْتُ جَنْبِيْ وَبِكَ أَرْفَعُهُ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِيْ فَارْحَمْهَا وَ إِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ.


অর্থ- হে আমার প্রতিপালক! তোমার নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমার নামেই তা উঠাব। যদি তুমি আমার আত্মাকে রেখে দাও, তবে তার
প্রতি দয়া কর। আর যদি তাকে ফেরৎ দাও, তাহলে তার প্রতি লক্ষ্য কর, যেমনভাবে লক্ষ্য কর তুমি তোমার নেক বান্দাদের প্রতি।
(ছহীহ্ বুখারী, হা/৬৩২০; মিশকাত, হা/২৩৮৪)

(৭) বারা ইবনে ’আযিব (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন শয্যায়
যেতেন ডান পার্শ্বের উপর শয়ন করতেন। অতঃপর বলতেন,



اَللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِيْ إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِيْ إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِيْ إِلَيْكَ، وَالْجَأْتُ ظَهْرِيْ إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ
الَّذِيْ أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِيْ أَرْسَلْتَ.



অর্থ- হে আল্লাহ্! আমি নিজেকে তোমার নিকট সমর্পণ
করলাম। আমি তোমার দিকে মুখ ফিরালাম, আমার কাজ তোমার নিকট ন্যস্ত করলাম, অনুগ্রহে ও
ভয়ে তোমার সাহায্যের প্রতি ভরসা করলাম। একমাত্র তোমার নিকট ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল
নেই। আমি তোমার অবতীর্ণ কিতাবকে বিশ্বাস করি। আর ঐ নবীকে বিশ্বাস করি, যাকে তুমি
নবী হিসাবে পাঠিয়েছ।’ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ যদি এ দো‘আ পাঠ করে তারপর রাতে
মৃত্যুবরণ করে, সে ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে।
(ছহীহ্ বুখারী, হা/৬৩১১; মিশকাত, হা/২৩৮৫)


(৮) হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন শয়নের ইচ্ছা করতেন,
তখন হাত মাথার নীচে রাখতেন। অতঃপর তিনবার বলতেন,

اَللَّهُمَّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ.

অর্থ- হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে তোমার ‘আযাব হতে বাঁচিয়ে নিও, যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে একত্রিত করবে। (তিরমিযী, হা/৩৩৯৮; মিশকাত, হা/২৪০০)


(৯) আনাস্ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন বিছানায় যেতেন তখন
বলতেন,

اَلْحَمْدُ لِلّهِ الّذِيْ أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَ أَوَانَا فَكَمْ كِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ.

অর্থ- ঐ আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন, পান করালেন, আমাদের প্রয়োজন নির্বাহ করলেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিলেন।
অথচ এমন কত লোক রয়েছে, যাদের না আছে কেউ প্রয়োজন নির্বাহক, আর না আছে কোন আশ্রয়দাতা।
(ছহীহ্ মুসলিম, হা/৭০৬৯; মিশকাত, হা/২৩৮৬)


(১০) আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ছাঃ)
যখন রাতে শুইতেন তখন বলতেন,


بِسْمِ اللهِ وَضَعْتُ جَنْبِيْ لِلّهِ اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِي ذَنْبِي وَأخْسِيْ شَيْطَانِي وَفُكَّ رِهَانِي وَاجْعَلْنِي فِي النَّدِيَّ الْأَعْلَى.

অর্থ- আল্লাহর নামে, আল্লহর জন্য পার্শ্ব রাখলাম। আল্লাহ্ আপনি আমার অপরাধ ক্ষমা করুন। আমার থেকে শয়তানকে তাড়িয়ে দিন। আমাকে
জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন এবং আমাকে উচ্চ পরিষদে স্থান দিন।
(আবূ দাঊদ,  মিশকাত, হা/২২৯৭)


(১১) ইবনু ওমর্ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন বিছানায় যেতেন
তখন বলতেন,

اَلْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِيْ كَفَانِي وَآوَانِي وَأَطْعَمَنِي وَسَقَانِى وَالَّذِي مَنَّ عَلَيَّ مَأَفْضَلَ وَالَّذِيْ أَعْطَانِي فَأَجْزَلَ، اَلْحَمْدُ لِلّهِ عَلَى كُلِّ حَلٍ، اَللَّهُمَّ رَبِّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ وَإِلَهَ كُلَّ شَيْءٍ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ.



অর্থ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে যথেষ্ট করেছেন, আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন, আমাকে খাওয়ায়েছেন ও পান করিয়েছেন। আর যিনি আমার উপর
উত্তম অনুগ্রহ করেছেন। আর যিনি আমাকে যথেষ্ট দান করেছেন
তাই সকল অবস্থায় আল্লাহর শুকুর, হে আল্লাহ! তুমি প্রতিটি
বস্তুর প্রতিপালক ও বস্তুর উপাস্য, আর আমি তোমার কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। 
(আবু দাঊদ, হা/৫০৫৮; মিশকাত, হা/২৪১০)


(১২) আলী (রাঃ) বলেন, একদা ফাতিমাহ্ (রাঃ) চাক্কি পিষতে তাঁর হাতে যে কষ্ট হয়, তা বলার জন্য রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে গেলেন। তিনি সংবাদ পেয়েছিলেন যে, নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট যুদ্ধবন্দী গোলাম এসেছে। কিন্তু তিনি রাসূল (ছাঃ)-এঁর সাক্ষাৎ পেলেন না। তখন ‘আয়েশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট তা উল্লেখ করলেন। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) যখন আসলেন, তখন ‘আয়শা (রাঃ) তাঁকে এ সংবাদ দিলেন। ‘আলী (রাঃ) বলেন, সংবাদ পেয়ে রাসূল (ছাঃ) আমাদের নিকটে আসলেন। তখন আমরা শয্যা গ্রহণ করেছি। আমরা উঠার চেষ্টা করলে তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ যায়গায় থাক। অতঃপর তিনি আমার ও তার মধ্যখানে এসে বসলেন, যাতে তাঁর পায়ের শীতলতা আমার পেটে অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন জিনিসের সংবাদ দিব না, যা তোমরা যা চেয়েছ তার চেয়ে উত্তম। যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করবে তখন ৩৩ বার اللهِسُبْحَانَ (আল্লাহ্ পরম পবিত্র), ৩৩ বার ِللهِاَلْحَمْدُ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য), ৩৪ বার أَكْبَرُاَللهُ  (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট) বলবে এটা তোমাদের চাকর বা গোলাম অপেক্ষা উত্তম হবে। (ছহীহ্ বুখারী,হা/৫৩৬১; মিশকাত,হা/২৩৮৭)


Visit Our English Site Click Here 


Thanks for reading. جزاك الله خيرا

 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url