নাবী (ছাঃ)-এর ইসলাম প্রচার
নাবী (ছাঃ) কে ইসলাম প্রচারের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ইরশাদ করেন-
يَأَيُها الْمُدَّثِرُ(1) قُمْ فَانْذِرْ(2) وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ(3) وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ(4) وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ(5) وَلَا تَمْنُنْ تَكْتَكْثِرْ(6) وَلِرَبِّكَ فَصْبِرْ(7) - سورة مدثر
১. ওহে বস্ত্রাবৃত (ব্যক্তি)! ২. ওঠ, সতর্ক কর। ৩. আর তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। ৪. তোমার পোষাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ। ৫. (যাবতীয়) অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক। ৬. (কারো প্রতি) অনুগ্রহ করোনা অধিক পাওয়ার উদ্দেশ্যে। ৭. তোমার প্রতিপালকের (সন্তুষ্টির) জন্য ধৈর্য ধারণ কর। (সূরা আল মুদ্দাসির)
উপরোক্ত আয়াতসমূহ নাযিল হওয়ার পর রাসূল (ছাঃ) পথহারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেয়ার কাজ শুরু করলেন এমন অবস্থায় যে, তাঁর জাতি কুরাইশদের মূর্তি ও প্রতিমার পূজা-অর্চনা ব্যতীত কোন দীন ছিল না।
ইসলাম কবুলকারী প্রথম দল
নাবী (ছাঃ) তাঁর ঘর থেকেই প্রথম দাওয়াত দেওয়া শুরু করেন। প্রথম যাঁরা ইসলাম কবুলের সৌভাগ্য লাভ করেন তাঁরা হলেন- উম্মুল মুমিনীন নবীপত্নী খাদিজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাঃ), তাঁর স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ক্রীতদাস যায়দ বিন হারিসাহ্ বিন শুরাহবিল কালবী, নাবী (ছাঃ)-এর চাচাতো ভাই আলী বিন আবি ত্বালেব (রাঃ) যিনি তখনো তাঁর লালন-পালনাধীন শিশু ছিলেন এবং তাঁর আজীবন সঙ্গী আবূ বকর সিদ্দিক্ (রাঃ)। এঁরা সকলে প্রথম দিনেই মুসলিম হয়েছিলেন।
প্রকাশ্য দাওয়াতের প্রথম আদেশ
প্রকাশ্যে দাওয়াতের প্রথম নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা েইরশাদ করেন-
وَاَنْذِرْعَشِيْرَتَكَ الْأقْرَبِيْنَ- (الشعراء: 214)
অর্থ- আর তুমি সতর্ক কর তোমার নিকটাত্মীয় স্বজনদের।
এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর নাবী (ছাঃ) বনু হাশিম গোত্রকে একত্রিত করে এক সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেই সম্মেলনে বনু মুত্তালিব বিন আবদে মানাফেরও এক দল লোক উপস্থিতি ছিলেন। সম্মেলনে মোট উপস্থিতি ছিল ৪৫ জন। সম্মেলনের শুরুতে রাসূল (ছাঃ) আলোচনা শুরু করবেন এমন সময় আবূ লাহাব আকস্মিকভাবে বলে উঠল, ‘দেখ এরা সকলেই তোমার নিকটাত্মীয়। সুতরাং বাচালতা বাদ দিয়ে এদের সাথে ভালোভাবে কথা বল। তোমার জানা উচিত, তোমার জন্য সকল আরবাসীর সঙ্গে শত্র ুতা করার শক্তি নেই। সবার স্বার্থে তোমাকে কারারুদ্ধ করে রাখাই কর্তব্য। তুমি যদি তোমার ধ্যান-ধারণা এবং কথা বার্তায় অটল থাক তবে এটা অনেক সহজ এবং স্বাভাবিক যে সমগ্র কুরাইশ গোত্র তোমার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে এবং অন্যান্য আরব গোত্র এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। তারপর এটা আমার জানার বিষয় নয় যে, স্বীয় পিতৃবর্গের জন্য তোমার অধিক সর্বনাশা আর কেউ হতে পারে। আবূ লাহাবের এসব অথূহীন আস্ফালনের প্রেক্ষাপটে নাবী করীম (ছাঃ) সম্পূর্ণ নিরবতা পালন করলেন এবং ঐ নিরবতার মধ্য দিয়েই সম্মেলন শেষ হয়ে গেল। (আর রাহিকুল মাখতুম,পৃ- ১০৪-১০৫)
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا