সকাল-সন্ধ্যায় পঠিতব্য দু‘আ/যিকর
(১) সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারঃ
শাদ্দাদ্ ইবনে আওস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্
(ছাঃ) বলেছেন, সাইয়্যিদুল
ইস্তিগফার হল:
اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَآ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِيْ وَأّنَا عَبْدُكَ، وَ أَنَا عَلَى عَهْدِكَ، وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِيْ، فَاغْفِرْلِيْ فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُالذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ.
অর্থ- হে আল্লাহ্! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া ’ইবাদতের যোগ্য কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো। আমি তোমার বান্দা। আমি আমার সাধ্যমত তোমার প্রতিশ্রতিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আমার উপর তোমার অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং পাপও স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ব্যতীত কোন ক্ষমাকারী নেই।
ফযিলতঃ রাসূলুল্লাহ্ বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিবিষ্ট মনে উক্ত দো‘আ সকালে পাঠ করবে এবং সেদিন সন্ধ্যার পূর্বে মারা যাবে সে ব্যক্তি জান্নাতীদের অন্তর্ভৃক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি ইয়াকিনের সাথে উক্ত দো‘আ রাতে পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সেও জান্নাতীদের অন্তর্ভৃক্ত হবে।’ (সহীহ্ বুখারী, হা/৬৩০৬; মিশকাত, হা/২৩৩৫)
(২) আবান্ ইবনু ওছ্মান (রাঃ) বলেন, আমি ওছ্মান্ ইব্নু ‘আফ্ফান্ (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে বলবেঃ
بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْئٌ فِى الْأَرْضِ وَلَا فِى السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ.
অর্থ- ‘আমি ঐ আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি, যার নামে আরম্ভ করলে আসমান ও যমীনের কোন বস্তুই কোনরূপ ক্ষতিসাধন করতে পারবেনা। আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।’
তাহলে কোন বালা-মুছীবত তাকে স্পর্শ করবে না। (সহীহ্ আবূদাঊদ, হা/৫০৮৮; মিশকাত, হা/২৩৯১)
(৩) আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একদা আবূ বকর ছিদ্দিক্ব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) আমাকে এমন একটি দো‘আর কথা বলুন, যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করব। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি বল:
اَللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، لَآ إِلَهَ إِلَّا
أَنْتَ، رَبَّ كُلِّ شَيْئٍ وَمَلِيْكِهِ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ وَ
مِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِيْ سُوْءًا
أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ.
অর্থ- ‘হে আল্লাহ্! যিনি অদৃশ্য-দৃশ্য সকল বিষয়ে অবগত, আসমান-যমীনের সৃষ্টিকর্তা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তমি ব্যতীত কোন মা‘বুদ নেই। আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার মনের অনিষ্ট হতে, শয়তানের অনিষ্ট ও তার শির্ক হতে।’
এ দো‘আটি সকাল-সন্ধ্যা এবং শয্যায় যাওয়ার সময় বলবে। (আবূদাঊদ, হা/৫০৬৭; মিশকাত, হা/২৩৯০)
(৪) আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে একশতবার এবং বিকেলে একশত বার বলবে سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ وَبِحَمْدِهِ অর্থ- ‘আমি উচ্চ মর্যাদাশীল আল্লাহ্ তা‘আলার প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা বর্ণনা কিরি।’
তাহলে তাকে এমন মর্যাদা দেওয়া হবে, যে মর্যাদা সৃষ্টিকুলের মধ্যে আর কোন ব্যক্তিকে দেওয়া হবে না। (ছহীহ্ আবূ দাঊদ, হা/৫০৯১; মিশকাত, হা/২৩০৪)
(৫) ইবনু ওমর্ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) সকাল-সন্ধ্যায় উপনীত হলে নিম্নোক্ত বাক্যগুলি বলা ছাড়তেন নাঃ
اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ )الْعَفْوَ( وَالْعَافِيَةَ فِى
الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ
وَالْعَافِيَةَ فِى دِيْنِيْ و دُّنْيَايَ وَأَهْلِيْ وَمَالِيْ، اَللَّهُمَّ
اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ وَآمِنْ رَوْعَاتِيْ اَللَّهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَيْنِ
يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِيْ، وَ عَنْ يَمِيْنِيْ وَعَنْ شِمَالِيْ وَمِنْ فَوْقِيْ،
وَأَعُوْذُ بِعَظْمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ.
অর্থ- হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ্! তুমি আমার দোষসমূহ ঢেকে রাখ এবং ভীতিপ্রদ বিষয়সমূহে আমাকে নিরাপদে রাখ। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে হিফাযত কর আমার সম্মুখ হতে, ডান দিক হতে, বাম দিক হতে এবং আমার উপর দিক হতে। হে আল্লাহ্! আমি তোমার মর্যাদার নিকট আশ্রয় চাই মাটিতে ধ্বসে যাওয়া হতে। (আবূ দাঊদ, হা/৫০৭৪; মিশকাত, হা/২৩৯৭)
(৬) ‘আব্দুর
রহমান ইব্নু আবু বাকরাহ্ (রা) বলেন- আমি আমার পিতাকে বললাম, হে পিতা! আপনাকে প্রত্যেক সকালে ও
বিকালে তিনবার করে বলতে শুনি:
اَللَّهُمَّ عَافِنِيْ فِى بَدَنِيْ اَللَّهُمَّ عَافِنِيْ فِى سَمْعِيْ اَللَّهُمَّ
عَافِنِيْ فِى بَصَرِيْ لَآ إِلَهَ إِلَّآ أَنْتَ.
(অর্থ- হে আল্লাহ্! তুমি আমার শরীরে নিরাপত্তা দান কর, আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে নিরাপত্তা দান কর এবং আমার দৃষ্টিশক্তিতে নিরাপত্তা দান কর।)
তখন আমার পিতা উত্তরে বললেন, হে বৎস! আমি রাসূল (ছাঃ)-কে আলোচ্য বাক্যগুলি দ্বারা দো‘আ করতে শুনেছি। তাই আমি তাঁর নিয়ম পালন করতে ভালবাসি।
(৭) আনাস
ইব্নু মালিক (রা) বলেন, রাসূল (ছাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-কে উপদেশ দিয়ে বলেন, তুমি
সকাল-সন্ধ্যায় বলঃ
يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ، أَصْلِحْ لِيَ شَأْنِيْ كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِيْ
إِلَى نَفْسِىْ طَرْفَطَ عَيْنٍ.
অর্থ- হে চিরঞ্জীব! হে চিরন্তন! তোমার দয়ার মাধ্যমে তোমার নিকট সাহায্য চাই। তুমি আমার সার্বিক অবস্থা ও সকল বিষয় সংশোধন কর। এক মুহূর্তের জন্যও সেগুলি আমার প্রতি সমর্পণ করো না। (সিলসিলা ছহীহাহ্, হা/২২৭)
(৮) সকাল-সন্ধ্যায় ৭ বার বলতে হবে-
حَسْبِيَ اللهُ لَآ إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ.
অর্থ- আল্লাহ্ আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত প্রকৃত উপাস্য নেই। তাঁর প্রতিই আমি ভরসা রাখি। আর তিনি মহান ‘আরশের প্রতিপালক। (আবূ দাঊদ, হা/৫০৮১)
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا