সালাম ফিরানোর পূর্বের দো‘আসমূহ
اَللَّهُمَّ إِ نِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ، وَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَفِتْنَةِ الْمَمَاتِ، اَللَّهُمَّ إِ نِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْمَأْثَمِ والْمَغْرَمِ.
অর্থ- হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের ‘আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি, ক্ববরের ‘আযাব হতে; আশ্রয় চাচ্ছি, কানা দাজ্জালের পরীক্ষা হতে। তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি, জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা হতে এবং তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি পাপ ও ঋণের বোঝা হতে। (মুসলিম, হা/৫৯০; আবূ দাঊদ, হা/৯৮৪; মিশকাত, হা/৯৪১)
اَللَّهُمَّ إِ نِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمًا
كَثِيْرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوْابَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْلِىْ مَغْفِرَةً
مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِىْ، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ.
অর্থ- হে আল্লাহ্! আমি আমার উপর অসংখ্য অন্যায় করেছি এবং তুমি ব্যতীত পাপ ক্ষমা করার কেন। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। ক্ষমা একমাত্র তোমার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আমার প্রকত রহম কর। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (ছহীহ্ বুখারী, হা/৮৩৪; ছহীহ্ মুসলিম, হা/৭০৪৪; মিশকাত, হা/৯৪২)
(৩) মু’আয্ ইব্নু জাবাল্ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমার হাত ধরে বললেন, হে মু‘আয্ নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ভালবাসি, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমিও আপনাকে ভালোবাসি। রাসূল (ছাঃ) বললেন, মু‘আয্ তুমি প্রত্যেক সলাতের শেষে এই দো‘আটি কখনো ছেড়ো না-
اَللَّهُمَّ أَعِنِّىْ عَلَي ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ.
অর্থ- হে আল্লাহ্! আপনাকে স্মরণ করার জন্য, আপনার শুকরিয়া আদায় করার জন্য এবং আপনার সুন্দর ইবাদত করার জন্য আমাকে সাহায্য করুন। (আহমাদ, হা/ ২২১৭২; আবূ দাঊদ, হা/১৫২২; নাসাঈ, হা/১৩০৩; মিশকাত, হা/৯৪৯)
(৪) আবূ মূসা (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা বলেন, রাসূল (ছাঃ) এ দো‘আ পড়তেন:
اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أنْتَ أعْلَمُ بِهِ مِنِّىْ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَآ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ.
অর্থ- হে আল্লাহ্! আমি যেসব গুনাহ্ ইতিপূর্বে করেছি এবং যা পরে করব, সব তুমি মাফ করে দাও। মাফ করে দাও সেই পাপরাশি, যা আমি গোপনে করেছি, আর যা প্রকাশ্যে করেছি। মাফ কর আমার সীমালঙ্ঘনজনিত পাপসমূহ এবং সেই সব পাপ, যে পাপ সম্বন্ধে তুমি আমার অপেক্ষা অধিক জানো। তুমি যা চাও, তা আগে কর এবং তুমি যা চাও তা পিছনে কর। তুমি ছাড়া ‘ইবাদতের যোগ্য কোন মা‘বুদ নেই। (ছহীহ মুসলিম,হা/৭০৭৬; মুসতাদরাকে হাকিম, হা/১৯৩৪)
(৫) সা’দ ইব্নু আবী ওয়াক্কাস্ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) নিম্নোক্ত শব্দগুলি দ্বারা পরিত্রাণ চাইতেন-
اَللَّهُمَّ إِنِّىْ أَعُذُبِكَ مِنَ الْجُبُنِ وَ أَعُذُبِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَ أَعُذُبِكَ مِنَ أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَ أَعُذُبِكَ مِنَ فِتِنَةِ الدُّنْيَا وَ عَذَابِ الْقَبْرِ.
অর্থ- হে আল্লাহ্! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা হতে, কাপুরুষতা হতে, বার্ধক্যের চরম দুঃখ-কষ্ট থেকে, দুনিয়ার ফিৎনা-ফাসাদ ও ক্ববরের ‘আযাব হতে। (ছহীহ বুখারী,হা/২৮২২; মিশকাত,হা/৯৬৪; বুলুগুল মারাম, পৃ-৯৬)
(৬) বুরায়দাহ্ (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) একজন লোককে বলতে শুনলেন,
اَللَّهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِأَنِّىْ أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللهُ لَآ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأحَدُ الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ.
অর্থ- হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট চাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি একমাত্র আপনিই আল্লাহ্। আপনি ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই। আপনি একক, নিরপেক্ষ এবং অমুখাপেক্ষী। আপনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি। আপনার সমকক্ষ কেউ নেই। (আবূ দাঊদ, হা/১৪৯৩; মিশকাত, হা/২২৮৯)
তারপর নবী করীম (ছাঃ) বললেন, অবশ্যই সে আল্লাহর এমন নামে ডেকেছে যে নামে চাওয়া হলে প্রদান করেন এবং প্রার্থনা করা হলে ক্ববূল করেন।
প্রকাশ থাকে যে, সলাতের মধ্যে সালাম ফিরানোর পূর্বে কুরআন ও ছহীহ্ হাদীছ থেকে যে কোন দো‘আ পাঠ করা জায়েয। (ছহীহ্ বুখারী, হা৬৩২৮; ছহীহ্ মুসলিম, হা/৯২৪; মিশকাত, হা/৯০৯)
তবে সলাতের মধ্যে আপন ভাষায় দো‘আ করা যাবে না। এমনকি আরবীতেও নিজের বা কারো বানানো দো‘আও পাঠ করা যাবে না এবং কুরআন ছহীহ্ হাদীছে প্রমাণিত দো‘আগুলির অনুবাদ করে পড়াও চলবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) মানুষের ভাষাকে সলাতের মধ্যে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন,
إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيْهَا شَيْئٍ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ إِنَّمَاهِىَ التَّسْبِيْحُ وَالتَّكْبِيْرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ
অর্থ- নিশ্চয়ই সলাত মানুষের কথা-বার্তা বলার ক্ষেত্র নয়। এটাতো কেবল তাসবীহ্, তাকবীর ও কুরআন তিলাওয়াতের জন্যই সুনির্দিষ্ট। (ছহীহ্ মুসলিম, হা/১২২৭; মিশকাত, হা/৯৭৮)
বারা ইব্নু ‘আযেব (রাঃ) বলেন, আমরা যখন রাসূল (ছাঃ)-এর পিছনে সলাত আদায় করতাম, তখন আমরা তাঁর ডান দিকে থাকতে ভালবাসতাম। এ কারণে যে, তিনি আমাদের দিকে মুখ করে বসতেন। বারা (রাঃ) বলেন, একদিন আমি শুনলাম, তিনি বলছিলেন,
رَبِّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ أَوْ تَجْمَعُ عِبَادَكَ.
অর্থ- হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে তোমার ‘আযাব হতে বাঁচাও, যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের একত্রিত করবে। (ছহীহ্ মুসলিম, হা/১৬৭৬; মিশকাত,হা/৯৪৭)
নবী করীম (ছাঃ-এর কিছু ছাহাবী বলেন, নবী করীম (ছাঃ) একজন লোককে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি সলাতে কী বল? লোকটি বলল, আমি তাশাহ্হুদ পড়ি। তারপর বলি,
اَللَّهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ.
অর্থ- হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট জান্নাত চাই এবং তোমার জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ চাই। (আবূ দাঊদ, হা/৭৯২; মিশকাত, হা/৭৯২)
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا
