সালাম ফিরানোর পর পঠিতব্য যিকরসমূহ


(১) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম সালাম ফিরানোর পর একবার اَللهُ أَكْبَرُ অর্থ- আল্লাহু আকবার। (ছহীহ
বুখারী
, হা/৮৪২, ছহীহ্ মুসলিম,হা/১৩৪৪,মিশকাত,হা/৯৫৯)


() ছাওবান (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) সলাত শেষে তিনবার ক্ষমা চাইতেন। অর্থাৎ,  

أَسْتَغْفِرُاللهَ أَسْتَغْفِرُ اللهَ، أَسْتَغْفِرُاللهَ

(অর্থ- আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।) বলতেন। অতঃপর বলতেন:

اَللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ.

অর্থ- হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময়। তোমার নিকট থেকেই শান্তির আগমন। তুমি বরকতময়, হে প্রতাপ ও সম্মানের অধিকারী। (ছহীহ্ মুসলিম, হা/৬৯০; মিশকাত,
হা/৯৬১)



() মুগীরাহ্ (রাঃ)
বলেন, নবী করীম (ছাঃ)
প্রত্যেক সলাতের
পর বলতেনঃ



لَآ إِلَهَ إِلَّا اللهُ
وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ،
لَهُ الْمُلْكُ، وَ لَهُ
الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ. اَللَّهُمَّ لَا مَانِعَ
لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَ لَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ
مِنْكَ الْجَدُّ.



অর্থ- আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি
এক
, তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি সকল কিছুর প্রতি সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ্! তুমি যা প্রদানের ইচ্ছা কর, তা কেউ প্রতিরোধ
করতে পারে না এবং তুমি যাতে বাধা দাও
,
তা কেউ প্রদান
করতে পারে না এবং কোন সম্পদশালীর সম্পদই তোমার নিকট তাকে রক্ষা করতে পারে না।
(ছহীহ বুখারী,
হা/৮৪৪;
ছহীহ্ মুসলিম, হা/১৩৬৬; মিশকাত,
হা/৯৬২)



() আব্দুল্লাহ্ ইব্নু যুবায়ের (রাঃ) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম যখন সলাতের সালাম ফিরাতেন, তখন উচ্চস্বরে
বলতেনঃ



لَآ إِلَهَ إِلَّا اللهُ
وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى
كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ. لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، لَآ
إِلَهَ إِلَّا اللهُ، لَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ، لَهُ النِّعْمَةُ، وَلَهُ
الْفَضْلُ، وَلَهُ الثَنَاءُ الْحَسَنُ، لَآ إِلَهَ إِلَّا اللهُ
مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ.



অর্থ- আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর, প্রশংসা তারই। তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই।
আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মা
বুদ নেই। আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি। নিয়ামত তাঁর,
তাঁরই অনুগ্রহ
এবং তাঁরই উত্তম প্রশংসা
আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। দ্বীনকে আমরা একমাত্র তাঁরই
জন্য মনে করি, যদিও কাফির রা অপসন্দ করে।

(ছহীহ্ মুসলিম, হা/১৩৭২; মিশকাত,
হা/৯৬৩)



()
নবী করীম (ছাঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি প্রত্যেক সলাতের
পর ৩৩ বার
سُبْحَانَ
اللهِ
(আল্লাহ্
পরম পবিত্র
), ৩৩ বার اَلْحَمْدُ ِللهِ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য), ৩৩বার اَللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট) এবং একবার لَآ إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ
لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ
(আল্লাহ্
ব্যতীত
ইবাদতের যোগ্য কোন মাবূদ নেই, তিনি
এক
, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁর এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি সকল কিছুর
উপর ক্ষমতাবান।
) বলবে, তাহলে তার সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা সমতুল্যও হয়। (ছহীহ্ বুখারী,হা/১৩৮০; মিশকাত,হা/৯৬৭)



() রাসূলুল্লাহ্
(ছাঃ) প্রত্যেক সলাতের শেষে সূরা ফালাক্ব ও সূরা
নাস
একবার করে পড়তেন। আর মাগরীব ও ফজরের সলাতের পর তিনবার করে পড়তেন।
(আবূ দাঊদ, হা/১৫২৩; মিশকাত হা/৯৬৯)



() রাসূল (ছাঃ) বলেন, প্রত্যেক
ফরয সলাত শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আর কোন
বাধা থাকে না মৃত্যু ব্যতীত
(নাসাঈ, সিলসিলা ছহীহা, হা/৯৭২)এটি
শয়নকালে পাঠ করলে সকাল অবধি তার হেফাযতের জন্য ফেরেশতা পাহারায়
নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হতে না পারে।
(ছহীহ্ বুখারী)



আয়াতুল
কুরসী

اَللهُ لَآ إِلَهَ إِلَّا هُوَالْحَيُّ الْقَيُّوْمُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلَا نَوْمٌ، لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِيْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِِلَّا بِإذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ، وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَ الْأَرْضِ وَلَا يَؤُدُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ



অর্থ- আল্লাহ্ তিনি,
যিনি ব্যতীত কোন (প্রকৃত) উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। কোনরূপ
তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই
মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীতে এমন কে আছে যে তাঁর নিকটে সুপারিশ করতে পারে?
তাঁদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে
কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। আর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ
তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও সর্বাপেক্ষা মহান।



() اَللَّهُمَّ
أَعِنِّىْ عَلَي ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ



অর্থ-হে আল্লাহ! আপনাকে স্মরণ করার জন্য,
আপনার শুকরিয়া আদায় করার জন্য এবং আপনার সুন্দর ‘ইবাদত করার জন্য আমাকে সাহায্য
করুন। (আহমদ, হা/২২১৭২; মিশকাত, হা/৯৪৯)



(১০اَللَّهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ
الْجُبْنِ، وَ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ
أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ
الْقَبْرِ.



অর্থ- হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকচট আশ্রয় প্রার্থনা করছি
কাপুরুষতা হতে, কৃপণতা হতে ও অতি বার্ধক্যে পৌছে যাওয়া হতে। আপনার নিকট আশ্রয়
প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিতনা হতে ও ক্ববরের ‘আযাব হতে। (ছহীহ্ বুখারী,
হা/২৮২২; মিশকাত, হা/৯৬৪)



(১১) سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا
نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
    



অর্থ- আমি আল্লাহর মহত্ব, প্রশংসা জ্ঞাপন করছি তাঁর সৃষ্টিকুলের
সংখ্যার সমপরিমাণ, তাঁর সত্ত্বার সন্তুষ্টির সমতুল্য এবং তাঁর ‘আরশের ওযন ও
কালেমাসমূহের ব্যাপ্তিসমপরিমাণ। (ছহীহ্ মুসলিম, হা/৭০৮৮; মিশকাত, হা/২৩০১)



(১২) رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا
وَّبِالْإِسْلَامِ دِيْنًا وَّبِمُحَمَّدٍ نَّبِيًّا.



অর্থ- আমি
সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম আল্লাহর উপরে প্রতিপালক হিসাবে, ইসলামের উপরে দ্বীন হিসাবে এবং
মুহাম্মদ (ছাঃ) এর উপরে নবী হিসাবে। (আহমাদ, হা/১৮৯৮৮-৮৯-৯০, ২৩১৬০-৬১; মিশকাত,
হা/২৩৯৯)



(১৩) اَللَّهُمَّ أَجِرْنِىْ
مِنَ النَّارِ.



অর্থ- হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও। (আবূ
দাঊদ, হা/৫০৭৯; মিশকাত,হা/২৩৯৬)



(১৪) لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ
إِلَّا بِاللهِ.



অর্থ- নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি, আল্লাহ্ ব্যতীত। (ছহীহ্
বুখারী, হা/৪২০৫; ছহীহ্ মুসলিম, হা/৫৯৪; মিশকাত,হা/২৩০৩)



(১৫) سُبْحَانَ اللهِ
وَبِحَمْدِهِ وَسُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ.



অর্থ- আল্লাহ্



اَللَّهُمَّ اكْفِنِىْ
بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَغْنِنِىْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ.



অর্থ- হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হামার ছাড়া হালাল দ্বারা যথেষ্ট
করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্যদের হতে মুখাপেক্ষীহীন করুন।



ফযীলত: রাসূল (ছাঃ) বলেন, (যে ব্যক্তি এটি পড়বে তার) পাহাড় পরিমাণ
ঋণ থাকলেও আল্লাহ্ তা‘আলা তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। (তিরমিযী,হা/৩৫৬৩;
মিশকাত, হা/২৪৪৯)



(১৬) أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِيْ لَآ إِلَهَ
إلََّاهُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ.



অর্থ- আমি আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ব্যতীত কোন
উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। আমি তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি বা তাওবাহ্
করছি।



ফযীলত: রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি এটি পড়বে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা
করে দিবেন, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলাতক আসামী হয়।



রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম দৈনিক ১০০ বার তাওবা করতেন। (ছহীহ্ তিরমিযী, হা/৩৫৭৭; মিশকাত,
হা/২৩৫৩)


Visit Our English Site Click Here 



Thanks for reading. جزاك الله خيرا

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url