আখেরী নাবী মুহাম্মদ (ছাঃ)-এর আগমণ
জন্ম
তাঁর পিতা ছিলেন আব্দুল্লাহ ইব্নু আব্দিল মুত্তালিব। তিনি রাসূল জন্মের পূর্বেই ইন্তিকাল করেন। মাতার নাম হলো আমিনা।
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাঁর মা বিবি হালিমা দাদা আব্দুল মুত্তালিবের নিকট তাঁর পুত্র সন্তান জন্মের শুভ সংবাদটি পাঠান। এ শুভ সংবাদ শ্রবণমাত্রই তিনি আনন্দচিত্তে আগমণ করেন এবং নবজাতককে কোলে তুলে নিয়ে কা‘বাগৃহে গিয়ে উপস্থিত হন। তাঁর চক্ষু হতে আনন্দ্রোশ্রু বের হয়, তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং প্রিয় নাতীর কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করতে থাকেন। এই আনন্দঘন মহুর্তেই তিনি স্থির করেন, এই নবজাতকের নাম রাখা হবে মুহাম্মদ। আরববাসীগণের নামের তালিকায় এটা ছিল অভিনব একটি নাম। তারপর আরবের প্রথানুযায়ী সপ্তম দিনে তাঁর খাতনা করা হয়। (ইবনু হিসাম, ১ম খন্ড ১৫৯-১৬০ পৃ.)
প্রাকইসলামী যুগের সংক্ষিপ্ত অবস্থা
পৌত্তলিকতা, অশ্লীলতা, শিরক, বিদ‘আত, বহুত্ববাদ ও জাহেলিয়াতের অন্ধকারে তখনকার বিশ্ব ছিল নিমজ্জিত। পন্যের ন্যায় মানুষ বেচা-কেনা চলত। যেনা-ব্যভিচার, খুন-ধর্ষণ ছিল অতি সাধারণ এবং তুচ্ছ ব্যাপার। সামাজিক কুসংস্কার এতো বেশি ছিল যে, সমাজে মান-সম্মান রক্ষার্থে তারা ফুট ফুটে নিষ্পাপ শিশু কন্যাকে জীবন্ত কবর দিতো।
কিছু গোত্র ছিল যারা ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রবর্তিত সত্য ধর্মের অনুসারী বলে দাবী করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। বরং তারা বিভিন্ন পুতুল পূজা ও দেব-দেবীর উপাসনা শুরু করে। ইহুদী-খ্রিস্টনদের অবস্থাও প্রায় তেমনটাই ছিল। এই পথ হারা মানুষগুলিকে সঠিক পথের দিশা দেওয়ার লক্ষ্যেই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদের প্রিয় নাবী মুহাম্মদ (ছাঃ)-কে আখেরী তথা শেষ নাবী ও রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন।
নবুওত প্রাপ্তির পূর্বে নাবী (ছাঃ)-এর চরিত্রনাবী
নাবী কারীম (ছাঃ)-এর কাজকর্ম ছিল সব চেয়ে আকর্ষ ণীয়, চরিত্র ছিল সর্বত্তোম এবং মহানুভবতা ছিল সর্বযুগের সকলের জন্য অনুসরণ ও অনুকরণযোগ্য। তিনি ছিলেন সর্বাধিক শিষ্টাচারী, নম্র-ভদ্র, সদালাপী ও সদাচারী। তিনি ছিলেন সব চেয়ে দয়ার্দ্র চিত্ত, দূরদর্শী, সূক্ষ্মদর্শী ও সত্যবাদী। মিথ্যা কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাঁর সত্যবাদিতার জন্য তিনি এতই প্রসিদ্ধ এবং প্রশংসিনীয় ছিলেন যে, আরববাসীগণ সকলেই তাঁকে ‘আল আমীন’ বলে আহবান জানাতেন।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছিলেন আরববাসীগণের েমধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আমনতদার। খাদিজাহ্ (রাঃ) সাক্ষ্য দিতেন যে, তিনি অভাবগ্রস্তদের বোঝা বহন করতেন, নিঃস্ব ও অসহায়দের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করতেন। ন্যায়্য দাবীদারদের তিনি সহায়তা করতেন এবং অতিথি পরায়ণতার জন্য মশহুর ছিলেন। (সহীহুল বুখারী ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-৩; আর রাহিকুল মাখতুন, পৃষ্ঠা-৯২)
প্রথম ওহী ও নবুয়াত লাভ
মায়ের উদরে থাকতেই বাবা হারা, শিশুকালেই মা হারা, এরপর দাদার আশ্রয়, তিনিও চলে গেলে পরপারে। আশ্রয় জুটলো চাচা আবু তালিবের গৃহে। এমতাবস্থায় বড় হতে লাগলেন মুহাম্মদ (ছাঃ) শৈশব কৈশর পেরিয়ে যৌবনকালে পৌছলেন। তাঁর আদর্শ ও উত্তম চরিত্র-মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে খাদিজা (রাঃ) অঢেল সম্পদের মালিকা ওয়া সত্ত্বেয় তাঁর সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের পয়গাম পাঠায়। চাচা আবু তালিব প্রস্তাবে সম্মত হলে খাদিজা (রাঃ)-এর সাথে মুহাম্মদ (ছাঃ)-এর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। এরপর তিনি প্রায়সই হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যান মগ্ন থাকতেন।
জিবরাঈল (আঃ)-এর আগমণ
হেরা পর্বরতের গুহায় জিবরাঈল (আঃ)-এর আগমণের সময়কাল হলো, রমযান মাসের ২১ তারিখ সোমবার দিবাগত রাত্র। খ্রীষ্টিয় হিসাব অনুযায়ী দিনটি ছিল ৬১০ খ্রিস্টাব্দের ১০ই আগষ্ট। চান্দমাসের হিসাব অনুযায়ী নাবী করীম (ছাঃ)-এর বয়স ছিল চল্লিশ বছর ছয় মাস বার দিন এবং সৌর হিসাব অনুযায়ী ৩৯ বছর ৩ মাস ২০ দিন। (আর রাহিকুল মাখতুম, পৃ-৯৪)
নাবী (ছাঃ) ধ্যানমগ্নাবস্থায় থাকাকালীন আল্লাহর দূত জিবরাঈল (আঃ) তাঁর নিকট আগমণ করে বললেন, اقْرَأ অর্থাৎ,পড়। নাবী (ছাঃ) বললেন, ‘আমার পড়ার অভ্যাস নেই।’ এভাবে জিবরাঈল আবারো বললেন, নাবী (ছা)ও পূর্বের ন্যায়ই উত্তর দিলেন। এরপর জিবরাঈল (আঃ) তাঁকে সজোরে আলিঙ্গন করে ছেড়ে দিয়ে আবার বললেন, اقْرَأ অর্থাৎ,পড়। নাবী (ছাঃ) বললেন, ‘আমার পড়ার অভ্যাস নেই।’ এরপর জিবরাঈলল (আঃ) আবার তাকে আলিঙ্গন করে ছেড়ে দিয়ে বললেন,
اقْرَأ بِسْمِ رَبِّكَ الَّذيْ خَلَق- خَلَقَ الْإنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ- إقْرَأ وَرَبُّكَ الْأكْرَمُ- (العلق:1-3)
অর্থ- সেই প্রভূর নামে পড় যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্ত পিন্ড থেকে সৃষ্টি করেছেন। পড় সেই প্রভূর নামে যিনি তোমাদের জন্য অধিকতর দয়ালু।
এর মাধ্যমেই শুরু হলো তাঁর জীবনের দ্বিতীয় তথা সোনালী অধ্যায় নবুওয়াতি জীবন।
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا
