ছালাত পরিত্যাগকারীর ভয়াবহ পরিণতি, ছালাত পরিত্যাগকারীর পরিণাম, ছালাত পরিত্যাগকারীর হুকুম

-জালালুদ্দীন বিন নাজির হোসেন

ছালাত পরিত্যাগকারীর জন্য ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য (সূরা যারিয়া: ৫৬)। আর শ্রেষ্ঠ ও প্রধান ইবাদত হল ছালাত। ছালাত পরিত্যাগকারীর জন্য মহান আল্লাহ ও রাসূল ﷺ কঠোর হঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। 

মহান আল্লাহ্ বলেন,

 فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُاْ ٱلزَّكَوٰةَ فَإِخۡوَٰنُكُمۡ فِي ٱلدِّينِۗ وَنُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ لِقَوۡمٖ يَعۡلَمُونَ “সুতরাং তারা যদি তওবা করে, ছালাত কায়েম করে তবেই তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই।” (সূরা তাওবা: ১১) 

অন্যত্র আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

فَخَلَفَ مِنۢ بَعۡدِهِمۡ خَلۡفٌ أَضَاعُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَٱتَّبَعُواْ ٱلشَّهَوَٰتِۖ فَسَوۡفَ يَلۡقَوۡنَ غَيًّا۞ 

“তাদের পর আসল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা ছালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসে (জাহান্নামের গভীরে) পতিত হবে। (সূরা মারইয়াম:৫৯)

অন্যত্র আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

فِي جَنَّٰتٖ يَتَسَآءَلُونَ۞ عَنِ ٱلۡمُجۡرِمِينَ۞ مَا سَلَكَكُمۡ فِي سَقَرَ۞ قَالُواْ لَمۡ نَكُ مِنَ ٱلۡمُصَلِّينَ۞

“জান্নাতে অপরাধীদের সম্পর্কে জিজ্ঞস করা হবে, কিসে তোমাদেরক সাক্বার নামক জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা ছালাত আদায়কারী ছিলাম না।’ (সূরা মুদ্দাচ্ছির: ৪০:৪৩)

উক্ত আলোচনা প্রমাণ করে যে, ছালাত পরিত্যাগকারী ব্যক্তি মুসলিম ভাই হতে পারে না। 

রাসূল ﷺ বলেন,

مَنْ تَركَ الصلَاةَ فَقَدْ كَفَرَ-

যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল সে কাফির হয়ে গেল।(ছহীহ্ ইবনু হিব্বান ৪/৩২৩)

রাসূল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি মুসলিম হিসাবে আগামীকাল আল্লাহর সাথে মুলাক্বাত করে আনন্দিত হতে চাই সে যেন পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত যথাযথভাবে আদায় করে। যেখানেই উক্ত ছালাতের আযান দেয়া হোক।” (ছহীহ্ মুসলিম হা/১৫২০)

অন্য বর্ণনায় এসেছে,

মিহজান নামক এক ছাহাবী রাসূল ﷺ -এর সাথে বৈঠকে বসে ছিলেন। অতঃপর আযান হলে রাসূল ﷺ ছালাত আদায় করেন এবং মজলিসে ফিরে আসেন। তখন উক্ত মিহজান বসেছিলেন। তখন রাসূল ﷺ বললেন, مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَ النَّاسِ؟ أَلَسْتَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ؟ “তোমাকে কিসে মুছল্লীদের সাথে ছালাত আদায় করতে বাধা দিল? তুমি কি একজন মুসলিম ব্যক্তি নও? ছাহাবী বললেন, আমি বাড়ীতে ছালাত আদায় করেছি। (নাসাঈ হা/৮৫৭, মালেক মুওয়াত্তা হা/৪৩৫)

অতএব উক্ত হাদীছদ্বয় প্রমাণ করে-ছালাত আদায় করা মুসলিম ব্যক্তির মূল পরিচয়। অন্য হাদীছে আরো আরো কঠিন বক্তব্য এসেছে, “জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি আর মুশরিক ও কাফেরের মাঝে পার্থক্য হল, ছালাত পরিত্যাগ করা। (ছহীহ্ মুসলিম হা/২৫৬ ও ২৫৭)

আব্দুল্লাহ্ ইবনু বুরায়দা (রা) তার পিতা হতে বর্ননা করেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, ‘আমাদের ও তাদের (কাফের, মুশরিক ও মুনাফিক) মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা হল ছালাত। সুতরাং যে ব্যক্তি ছালাত ছেড়ে দিবে, সে কুফুরী করবে। (তিরমিযী হা/২৬২২, সনদ সহীহ)

আব্দুল্লাহ্ ইবনু শাক্বীক্ব উকায়লী (রা) বলেন, 

রাসূল ﷺ -এর ছাহাবীগণ আমলসমূহের মধ্যে কোন আমল ছেড়ে দেওয়াকে কুফুরী বলতেন না, ছালাত ব্যতীত। (তিরমিযী হা/২৬২২, সনদ ছহীহ্)

অতএব যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করবে না, সে নিঃসন্দেহে কুফরী করবে। অলসতা ও অবহেলায় কোন মুসলিম নামধারী যদি ছালাত আদায় না করে তাহলে উক্ত অপরাধের কারণে জাহান্নামে যাবে। শাস্তি ভোগ করার পর আল্লাহর দয়ায় কালেমা ত্বাইয়েবার বরকতে মুক্তি পাবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে (ইবনু মাজাহ্ হা/৬০, সনদ ছহীহ্) কিন্তু কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত ছেড়ে দিলে বা অস্বীকার করলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। (দেখুন: শায়খ আলবান, হুকুমু তারিকিছ ছলাহ্,পৃ-৬)


Visit Our English Site Click Here 



Thanks for reading. جزاك الله خيرا

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url