ছালাতে রাফ‘উল ইয়াদায়েন করা উচিত নাকি অনুচিত?
ছালাতে রাফউল ইয়াদাইন করা এক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। রাফ‘উল ইয়াদায়েন হলো, রুকুতে যাওয়ার সময়, উঠার সময় ইত্যাদি সময়ে আল্লাহু আকবার বলার পাশাপাশি হস্তউত্তোলন করা। এর পক্ষে শত শত ছহীহ্ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অধিকাংস মুছল্লী উক্ত সুন্নাতকে প্রত্যাখ্যান করেছে। উক্ত ঠুনকো যুক্তিগুলোর অন্যতম হল, কতিপয় জাল ও যঈফ হাদীছ।
নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা পেশ করা হল-
রাফ‘উল ইয়াদায়েনের পক্ষে দলীলসমূহ
* আলী (রা) রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি যখন ফরয ছালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং কাঁধ বরাবর দুই হাত উত্তোলন করতেন। যখন তিনি ক্বিরআত শেষ করতেন ও রুকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখনও তিনি অনুরূপ করতেন। যখন তিনি রুকু থেকে উঠতেন তখনও অনুরূপ করতেন। তবে বসা অবস্থায় তিনি রাফউল ইয়াদায়েন করতেন না। কিন্তু যখন তিনি দুই রাক‘আত শেষ করে দাঁড়াতেন, তখন অনুরূপ রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন এবং তাকবীর দিতেন। (ছহীহ্ আবুদাঊদ হা/৭৪৪, ১/১০৯ পৃ:)
* নাফে (রা) বলেন নিশ্চয় ইবনু ওমর (রা) যখন কোন ব্যক্তিকে দেখতেন যে, সে রুকুতে যাওয়া ও উঠার সময় রাফ‘উল ইয়াদায়েন করছে না, তখন তিনি তার দিকে পাথর ছুঁড়ে মারতেন। (ইমাম বুখারী, রাফ‘উল ইয়াদায়েন হা/১৪, পৃ: ১৫ )
* বনী আসাদের গোলাম, আবু হামযাহ্ বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রা) কে দেখেছি, তিনি যখন ছালাত শুরু করতেন, যখন রুকু করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখন রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন। (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/২৫২৩, সনদ সহীহ্)
* রাসূল ﷺ -এর ছাহাবী উক্ববা ইবনু আমের আল- জুহানী (রা)
বলেন, যখন মুছল্লীতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে উঠার সময়
রাফ‘উল ইয়াদায়েন করবে, তখন তার জন্য প্রত্যেক ইশারায় দশটি
করে নেকী হবে। (বায়হাক্বী, মারেফাতুস সনান হা/৮৩৯, আলবানী,
ছিফাতিন নাবী, পৃ-১২৯) শায়খ নাছিরুদ্দ্বীন আলবানী (রহ) উক্ত
হাদীছ বর্ণনা করার পর বলেন, একটি হাদীছে কুদসী এই কথার
সাক্ষী। আল্লাহ্ বলেন, .. যে ব্যক্তি একটি নেকীর কাজ করার ইচ্ছা
পোষন করবে অতঃপর তা করে ফেলবে, আল্লাহর তার জন্য ১০
থেকে ৭০০ নেকী লিপিবদ্ধ করবেন। (বুখারী হা/৬৪৯১, ২/৯৬০
পৃ; মুসলিম হা/৩৪৯-৩৫৫)
ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেন,
ইমাম বুখারী ১৭ জন ছাহাবী থেকে রাফ‘উল ইয়াদায়েনের হাদীছ
বর্ণনা করেছেন। হাকেম ও আবুল ক্বাসেম মান্দাহ্ জান্নাতের সুসংবাদ
প্রাপ্ত ১০ জন ছাহাবী থেবক হাদীছ বর্ণনা করেছেন। আর হাফেয
আবুল ফাযল অনুসন্ধান করে ছাহাবীদের থেকে যে সমস্ত বর্ণনা
উলে্লখ করেছেন, তার সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে।
(ফাতহুল বারী হা/৭৩৬-এর আলোচনা দ্র:) এছাড়াও আরো বিভিন্ন
কিতাবে শত শত সহীহ্ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে রাফ‘উল ইয়াদায়েনের
পক্ষে। অথচ কিছু জাল-যঈফ হাদীছের দোহাই ও মাযহাবী গোঁড়ামী
টিকানোর জন্য সিংহভাগ মুসলিম রাফ‘উল ইয়াদায়েন করা থেকে
বিরত থাকেন। এমনকি যারা রাফ‘উল ইয়াদায়েন করেন তাদেরকে
বিভিন্নভাগে উপহাস করেন। যেমন- ওরা আহলে হাদীস না, আহলে
হদস্(!) ইত্যাদি। এসব বিহেব বড়ই দুঃখজনক। অথচ তাদের জানা
নেই যে, এই আমল শুধু আহলেহাদীসগণই করেন না; বরং প্রসিদ্ধ
চার মাযহাবের মধ্যে একমাত্র হানাফী মাযহাব ব্যতীত বাকী তিন
মাযহাবের অনুসারীগণের প্রায় বেশির ভাগই রাফ‘উল ইদায়েন করে
থাকেন।
আসুন এবার দেখি, যারা রাফ‘উল ইদায়েন করেন না তাদের দলীল ও দলীলের অবস্থা:
عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُودٍ أَلَا أُصَلِّى بِكُمْ صَلَاةَ رَسُوْلِ الله؟ قَالَ فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلَّا مَرَّةً.
* আলক্বামা (রা) বলেন, একদা আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রা) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূল ﷺ -এর ছালাত শিক্ষা দিব না? রাবী বলেন, অতঃপর তিনি ছালাত পড়ালেন। কিন্তু একবার ছাড়া তিনি তার দুই হাত উত্তোলন করলেন না। (আবুদাঊদ হা/৭৪৮) উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন কিতাবে আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ (রা)-এর নামে আরো কিতিপয় বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। (হাফেয আব্দুল্লাহ্ বিন মুহাম্মাদ আল-কুফী, আল-মুছান্নাফ ফিল আহাদীছ ওয়াল আছার-বৈরুত, দারুল ফিকর,১৯৮৯/১৪০৯, হা/২৪৫৮)
তাহক্বীক : হাদীসটি যঈফ। ইমাম আবূদাঊদ (২০৪-২৭৫ হিঃ) উক্ত হাদীস বর্ণনা করে বলেন, “এই হাদীছটি লম্বা হাদীছের সংক্ষিপ্ত রূপ। আর এই শব্দে হাদীছটি ছহীহ্ নয়।” (নাছিরুদ্দীন আলবানী,তাহক্বীক আবুদাঊদ-রিয়ায: মাকতাবুতুল মা‘আরিফ, তাবি-হা/৭৪৮,পৃ১৬১)
উল্লেখ্য যে, ভারতীয় ছাপা আবুদেঊদে উক্ত মন্তব্য নেই। এর কারণ প্রকাশকরাই ভাল জানেন। ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (১১৮-১৮১ হিঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাফ‘উল ইয়াদায়েন করে তার হাদীছ সাব্যস্ত রয়েছে। অতঃপর তিনি সালেম বর্ণিত যুহরীর হাদীছ পেশ করেন। তবে রাসূল ﷺ “একবার ছাড়া রাফ‘উল ইয়াদায়েন করেননি’’ মর্মে ইবনু মাসঊদ (রা) বর্ণিত হাদীছটি হাদীছ সাব্যস্ত হয়নি। (তিরমিযী হা/২৫৬পৃ- ১/৫৯-এর পর্যালোচনা)
উক্ত হাদীছ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, “রাফ‘উল ইয়াদায়েন না করার পক্ষে কুফাবাসীদের এটিই সবচেয়ে প্রিয় দলীল হলেও এটিই সবচেয়ে দুর্বল দলীল, যার উপরে নির্ভর করা হয়। কারণ এতে ত্রুটি রয়েছে, যা একে বাতিল বলে গণ্য করে।” (নায়লুল আওত্বার ৩/১৪ পৃ: ফিকহুস সুন্নাহ ১/১০৮)
আল্লামা ওবায়দুল্লাহ্ মুবারকপুরী (রহঃ) আলোচনা শেষে বলেন,“অতএব এ সমস্ত দলীল দ্বারা প্রমাণিত হল যে, ইবনু মাসঊদ (রা) বর্ণিত হাদীস সহীহ্ নয়, হাসানও নয়। বরং যঈফ। এরূপ হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। (শায়খ আবুল হুসাইন ওবায়দুল্লাহ্ মুবারকপুরী, মিরআতুল মাফাতীহ্ শরহে মিশকাতুল মাফাতীহ্-বেনারস: ইদারাতুল বুহুছ আল-ইসলামিয়াহ্, ১৯৯৫, ১৪১৫, ৩/৮৪ পৃ)
জ্ঞাতব্য : উক্ত মন্তব্যসমূহের পরও আলবানী এই বর্ণনাকে ছহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি যারা রাফ‘উল ইয়াদায়েন করে না, তাদেরকে উক্ত হাদীছের প্রতি আমল করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে উঠার পর রাফ‘উল ইয়াদায়েন করার পক্ষে রাসূল ﷺ এর পক্ষ থেকে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। বরং মুহাদ্দিছ ওলামায়ে কেরামের নিকট এটি ‘মুতাওয়াতির’ পর্যায়ের বর্ণনা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এছাড়া পত্যেক তাকবীরেই রাফ‘ঊল ইয়াদায়েন করা সম্পর্কে বহু হাদীছ রয়েছে। ইবনু মাসঊদ (রা)-এর সূত্র ছাড়া রাসূল ﷺ থেকে এই আমল পরিত্যাগ করার কোন ছহীহ্ প্রমাণ নেই। তবে ইবনু মাসঊদ (রা)-এর এই হাদীছের উপর আমল করা উচিত নয়। কারণ এটি না-বোধক। আর হানাফীসহ অন্যান্যদের নিকট এটি বারবার উল্লেখিত হয় যে, হ্যাঁ-বোধকের উপর প্রাধান্য পায়। একটি হ্যাঁ-বোধক থাকার কারণে যদি এমনটি হয়, তাহলে একটি ঐক্যবদ্ধ জামা‘আত থাকলে এই মাসআলার সিদ্ধান্ত কী হতে পারে?
“সুতরাং তাদের উচিত হবে, মূলনীতির আলোকে বিরোধিতাকে প্রত্যাখান করে এই আমলকে আঁকড়ে ধরা। অর্থাৎ তারা রাফ‘উল ইয়াদায়েন করবে এবং দলীল সাব্যস্ত হওয়ার পর মাযহাবী গোঁড়ীমী প্রদর্শন করবে না। কিন্তু দুঃখজনক হল, পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের মধ্যে কতিপয় ব্যক্তি ছাড়া, তাদের কেউ এই আমল গ্রহণ করেনি। ফলে উক্ত আমল বর্জন করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। (সিলসিলা যঈফাহ্ হা/৫৬৮-এর আলোচনা দ্র:)
উল্লেখ্য যে, আলবানীর দোহায় দিয়ে অনেকে উক্ত হাদীছ উল্লেখ করে রাফ‘উল ইয়াদায়েনের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং বিভ্রান্তি ছড়ান। কিন্তু আলবানীর মূল বক্তব্য পেশ করেন না। এটা এক ধরনের প্রতারণা। অতএব পাঠক সমাজ সাবধান!
* আব্দুল্লাহ্ (ইবনু মাসঊদ) (রা) বলেন, আমি রাসূল ﷺ আবু বকর ও ওমর (রা)-এর সাথে ছালাত আদায় করেছি, কিন্তু তারা ছালাত আরম্ভের তাকবীর ছাড়া আর কোথাও হাত উত্তোলন করেননি। (দারাকুৎনী ১২৯৫; বায়হাক্বী কুবরা হা/২৬৩৬)
তাহক্বীক্ব : বর্ণনাটি ভিত্তিহীন। (মুসনাদে আবী ইয়ালী হা/৫০৩৯,৮/৪৫৩) ইমাম বায়হাক্বী ও দারাকুৎনী উক্ত বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু জাবের এককভাবে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছে হাম্মাদ থেকে এবং সে ইবরাহীম থেকে যঈফ হাদীছ বর্ণনাকারী। (বায়হাক্বী হা/২৬৩৬-এর মন্তব্য দ্র:)
* বারা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ যখন ছালাত আরম্ভ করতেন, তখন দুই কনের নিকটবর্তী পর্যন্ত দুই হাত উত্তোলন করতেন। অতঃপর তিনি আর এরূপ করতেন না। (আবুদাঊদ হা/৭৪৯, ১/১০৯ পৃ:, ত্বাহাবী হা/১২৪৫)
তাহক্বীক : ‘অতঃপর তিনি আর হাত তুলতেন না’ কথাটুকু উক্ত হাদীছের সাথে পরবর্তীতে কেউ সংযোগ করেছে। আর ইমাম আবুদাঊদের ভাষ্য অনুযায়ী এটা কুফাতে হয়েছে। কারণ মুসলিম বিশ্বের কোথাও এমনটি ঘটেনি। যেমন ইমাম আবুদাঊদ বলেন, “সুফিয়ান আমাদের কাছে ইয়াযীদ থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন, যা পূর্বের শারীক বর্ণিত হাদীছের ন্যায়। কিন্ত ‘অতঃপর আর করতেন না’ একথা বলেননি। সুফিয়ান বলেন, ‘পরবর্তীতে কুফায় আমাদেরকে উক্ত কথা বলা হয়েছে’। তিনি আরো বলেন, ‘ইয়াযীদ এই হাদীছটি হুশাইম, খালেদ ও ইদরীস থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্ত ‘অতঃপর আর করতেন না’ একথা উল্লেখ করেননি। (আবুদাঊদ হা/৭৫০,১/১০৯,পৃ-সিলসিলা যঈফাহ্ হা/৯৪৩) তাছাড়া হাদীছটি যঈফ। এর সনদে ইয়াযীদ বিন আবু যিয়াদ আছে। সে যঈফ রাবী। ইমাম আহমাদ বলেন, হাদীসটি নিতান্তই যঈফ। (যঈফ আবুদাঊদ হা/৭৪৯)
মানসূখ সংক্রান্ত বর্ণনা : হাদীছ জাল করার এক অভিনব কৌশল
ছালাতে রাফ‘উল ইয়াদায়েনকে প্রতিরোধ করার আর কোন পথ পাওয়া যায়নি তখন বলা হয়েছে যে, রাফ‘উল ইয়াদায়েনের মানসূখ বা হুকুম রহিত হয়ে গেছে। অথচ উক্ত দাবীর পক্ষে যে সমস্ত বর্ণনা পেশ করা হয় তা ডাহা মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক।
* একদা আব্দুল্লাহ্ ইবনু যুবাইর (রা) এক ব্যক্তিকে দেখলেন, ছালাত রুকুতে যাওয়ার সময় ও রুকু হতে উঠার সময় রাফ‘উল ইয়াদায়েন করছে। তিনি তখন বললেন, তুমি এটা কর না। কারণ এগুলো সবই রাসূল ﷺ করেছেন, তবে পরবর্তীতে বাদ দিয়েছেন। (ছহীহ্ বুখারী, ১/১০২ পৃ. টীকা দ্র:)
তাহক্বীক উক্ত বর্ণনা মিথ্যা ও বাতিল। রাফ‘উল ইয়াদায়েনের প্রসিদ্ধ আমলকে প্রতিরোধ করার জন্য উক্ত মিথ্যা বর্ণনা রচনা করা হয়েছে। কারণ উক্ত বর্ণনা কোন হাদীছ গ্রন্থে পাওয়া যায় না। যেমন মুওয়াত্ত্বা মুহাম্মাদের ভাষ্যকার বলেন, “এই আছারের সন্ধান কোন মুহাদ্দিছ কোন হাদীছ গ্রন্থে পাননি বরং ইমাম বুখারী তার জুয্উ রাফ‘উল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা) রুকূতে যাওয়া ও রুকূ থেকে উঠার সময় রাফ‘উল উয়াদায়েন করতেন।” (মুওয়াত্ত্বা মুহাম্মাত, তাহক্বীক: ড. তক্বিউদ্দীন নাদভী হা/১০৪-এর ব্যাখ্যা দ্র:)
অথচ ‘হেদায়া’ কিতাবে বলা হয়েছে, والذي يُرْوَى مِن الرُّفْعِ مَحمُولٌ على الإبتداء كذا نُقل عن ابن الزبير ‘রাফ‘উল ইয়াদায়েন সম্পর্কে যা বর্ণিত হেয়েছে, তা মূলতঃ ইসলামের প্রথম যুগের বিষয়। যেমন ইবনু যুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে’। (হেদায়া ১/১১১ পৃ.) সেই সাথে হেদায়ার টীকাকার হাশিয়ার মধ্যে ইবনু যুবাইরের বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। (হেদায়া ১/১১১ পৃ: টীকা নং-৬) তাছাড়া বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে অনুবাদকমন্ডলী টীকায় উক্ত বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। (আল-হিদায়াহ ১মখন্ড, পৃ: ৮৬) অথচ তার যে কোন ভিত্তি নেই সে বিষয়টি লক্ষ্য করেননি।
আরো আফসোসের বিষয় হল, ইমাম বুখারী ছহীহ্ বুখারীতে রাফ‘উল ইয়াদায়েনের পাঁচটি হাদীছ পেশ করেছেন। সেই হাদীছগুলোকে রদ করার জন্য তার টীকায় ভাষ্যকার আহমদ আলী সাহারাণপুরী উক্ত মিথ্যা বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। (বুখারী, ভারতীয় ছাপা ১/১০২ পৃ: টীকা দ্রষ্টব্য)
অনুরূপভাবে আধুনিক প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত সহীহ্ আল-বুখারীতে রাফ‘উল ইয়াদায়েনের হাদীছগুলোকে যবাই করার জন্য উক্ত বানোয়াট বর্ণনা পেশ করা হয়েছে এবং এই অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতকে বাতিল আখ্যা দেয়া হয়েছে। (সহীহ্ আল বুখারী ১ম খন্ড,পৃঃ ৩২১-৩২২) অনুবাদকমন্ডলী এবং প্রকাশক বিচারের মাঠে আল্লাহর সামনে কী জবাব দিবেন?
সুধী পাঠক! এটাই হল ফেক্বহী গ্রন্থের আসল চেহারা। মাযহাবকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হাদীছের উপর এভাবেই আক্রমণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ্ বিন যুবাইর (রা) এর উপর মিথ্যাচার করা হয়েছে। কারণ তিনি যে নিচে নিজেই রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন তার প্রমাণে ইমাম বুখারী ছহীহ্ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
* “আত্বা (রা) বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী, ইবনু ওমর, ইবনু আব্বাস ও ইবনু যুবাইর (রা) কে দেখেছি, তারা সকলেই ছালাতে রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ হা/২৪৪৫,সনদ সহীহ)
অতএব সম্মানিত পাঠক, সিদ্ধন্ত আপনাকেই নিতে হবে। আরো বেশি বেশি পড়াশোনা করুন এবং ভাবুন- কোনটি সঠিক, কোনটি বেঠিক? অনুরোধ থাকল, ছহীহ্ দলীলের দিকে ফিরে আসুন, সহীহ্ আমল করতে অভ্যস্ত হউন, বানোয়াট বর্ণনা ও প্রতারণা থেকে সাবধান থাকুন। আল্লাহ্ আমাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সঠিক আমল করার তৌফিক দান করুন এবং পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করুন। আ-মী-ন!
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا