ক্ষমা প্রার্থনা করা ও সৎ পথে চলার ফলাফল
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা করার এবং অনুগত হয়ে তাঁর নির্দেশিত পথে ধাবিত হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং এর মাধ্যমে জান্নাত লাভ সম্ভব-এই সুসংবাদ প্রদান করেছেন। এমর্মে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেনঃ
وَسَارِعُوٓاْ إِلَىٰ مَغۡفِرَةٖ مِّن رَّبِّكُمۡ وَجَنَّةٍ عَرۡضُهَا ٱلسَّمَٰوَٰتُ وَٱلۡأَرۡضُ أُعِدَّتۡ لِلۡمُتَّقِينَ۞
“তোমরা স্বীয় রবের ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে ধাবিত হও, যার প্রসারতা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সদৃশ, ওটা (জান্নাত) ধর্মভীরুদের জন্য নির্মিত হয়েছে।” (সূরা আলে ইমরান :১৩৩)
জান্নাতের প্রস্থ বর্ণনা করে দৈর্ঘ্যের অনুমানের ভার শ্রোতাদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন জান্নাতী বিছানার বর্ণনা দিতে গিতে আল্লাহ্ বলেনঃ
بَطَآئِنُهَا مِنۡ إِسۡتَبۡرَقٖۚ
“ওতে রয়েছে নরম রেশমের আস্তর।” ( সূরা রাহমান : ৫৪) ভাবার্থ এই যে, ওর ভিতরই যখন এরূপ তখন বাহির কিরূপ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। অনুরূপভাব এখানেও বলা হচ্ছে যে, জান্নাতের প্রস্থই যখন সপ্ত আকাশ ও সপ্ত যমীনের সমান, তখন দৈর্ঘ্য কত হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। কেহ কেহ বলেন যে, জান্নাতের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান। কেননা জান্নাত গম্বুজের মত আরশের নীচে রয়েছে এবং যে জিনিস গম্বুজ সদৃশ তার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান। একটি বিশুদ্ধ হাদীছে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেনঃ
“তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট জান্নাত চাইলে জান্নাতুল ফিরদাউস চাও। এটাই সবচেয়ে উঁচু ও সর্বোত্তম জান্নাত। এ জান্নাতের মধ্য দিয়েই সমস্ত নদী প্রবাহিত হয় এবং ওর ছাদই হচ্ছে পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহর আরশ।” (ফাতহুল বারী ৬/১৪)
একটি মারফূ‘ হাদীসে রয়েছে যে, কোন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কে ‘জাহান্নাম কোথায়’ এ প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে বলেছিলেনঃ ‘যখন প্রত্যেক জিনিসের উপর রাত এসে যায় তখন দিন কোথায় যায়?’ তখন সে বলে, ‘যেখানে আল্লাহ্ চান’। তখন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেনঃ ‘এ রকমই জাহান্নামও সেখানেই যায়, যেখানে আল্লাহ্ চান’। (বাযযার)
এ বাক্যটির দু‘টি অর্থ হতে পারে। একতো এই যে, রাতে যদিও আমরা দিনকে দেখতে পাইনা, তথাপি দিন কোন জায়গায় থাকা অসম্ভব নয়। অনুরূপভাবে যদিও জান্নাতের বিস্তার এত বেশি তথাপি জাহান্নামের অস্তিত্ব অস্বীকার করা যেতে পারেনা। যেখানে আল্লাহ্ তা‘আলা চেয়েছেন সেখানে ওটাও রয়েছে। দ্বিতীয় অর্থ এই যে, যখন দিন একদিকে সরে যায় তখন রাত অন্য দিকে থাকে। তদ্রূপ জান্নাত সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে এবং জাহান্নাম সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে। জান্নাতের প্রশস্ততা সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
سَابِقُوٓاْ إِلَىٰ مَغۡفِرَةٖ مِّن رَّبِّكُمۡ وَجَنَّةٍ عَرۡضُهَا كَعَرۡضِ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ
“তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের প্রয়াসে যা প্রশস্ততায় আকাশ ও পৃথিবীর মত। (সূরা হাদীদ : ২১)
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا