হালাল ও হারাম উপার্জন
বৈধ ও হালাল উপার্জনের উপর করা এবং অবৈধ ও হারাম উপার্জন বর্জন করা মুসলিমের জন্য অন্যতম ফরয ইবাদত। শুধু তাই নয়, এর উপর নির্ভর করে তার অন্যান্য ফরয ও নফল ইবাদত আল্লাহর নিকট কবুল হওয়া বা না হওয়া। বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন না হওয়ার কারণে অনেক মুসলিম এ বিষয়ে কঠিন বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত। অনেক ধার্মিক সচেতন না হওয়ার কারণে অনেক মুসলিম এ বিষয়ে কঠিন বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত। অনেক ধার্মিক মানুষ রয়েছেন যারা সুন্নাত, মুস্তাহাব ইত্যাদির বিষয়ে অনেক সচেতন হলেও হারাম উপার্জনের বিষয়ে মোটেও সচেতন নন। কুরআন-হাদীসের দৃষ্টিতে এটি বক-ধার্মিকতা ছাড়া কিছুই নয়। আল্লাহ বলেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلرُّسُلُ كُلُواْ مِنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَٱعۡمَلُواْ صَٰلِحًاۖ إِنِّي بِمَا تَعۡمَلُونَ عَلِيم.
“হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কর এবং সৎকর্ম কর। তোমরা যা কর সে বিষয়ে আমি অবহিত।” (সূরা মুমিনূন, আয়াত নং ৫১)
এখানে আমরা দেখছি যে, পবিত্র বস্ত হতে আহার করা সৎকর্ম করার পূর্ব শর্ত। বৈধ ও অবৈধতার দুটি প্রকার রয়েছে। এক প্রকার খাদ্য স্থায়ীভাবে অবৈধ। যেমন শুকরের মাংস, মদ, প্রবাহিত রক্ত, মৃত জীবের মাংস ইত্যাদি। এই প্রকারের অবৈধ খাদ্য উপার্জন সংক্রান্ত। সূদ, জুয়া, ঘুষ, ডাকাতি, যুলুম, যৌতুক, অবৈধ মজুদদারি, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ওজনে-পরিমাপে কম দেওয়া, ভেজাল দেওয়া, প্রতারণ বা মিথ্যার মাধ্যমে ক্রয়বিক্রয় করা, চাকুরিতে চুক্তিমত দায়িত্ব পালন না করে বেতন নেওয়া, সরকারের বা জনগণের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ করা ইত্যাদি এ জাতীয় অবৈধ খাদ্য। কুরআন-হাদীসে এ প্রকারের অবৈধ খাদ্য কোনো কারণে বা প্রয়োজনে বৈধ হবে বলে বলা হয়নি। মহান আল্লাহ্ অবৈধ উপার্জন থেকে আত্মরক্ষার নির্দেশ দিয়ে বলেন:
وَلَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ وَتُدۡلُواْ بِهَآ إِلَى ٱلۡحُكَّامِ لِتَأۡكُلُواْ فَرِيقٗا مِّنۡ أَمۡوَٰلِ ٱلنَّاسِ بِٱلۡإِثۡمِ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ.
“তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না এবং মানুষের ধন-সম্পদ জেনে শুনে অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করার জন্য তা বিচারকগণের নিকট পেশ করো না।” (সূরা বাক্বারা, আয়াত নং ১৮৮)
মহান আল্লাহ্ আরো বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡۚ وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِيمًا.
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না; তবে তোমাদের পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ।” (সূরা নিসা, আয়াত নং ২৯)
অন্যের ধন-সম্পদ বৈধ ইসলাম সম্মত ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যম ছাড়া গ্রহণ করাই অবৈধ। যে কোনো ভাবে অন্যের অধিকার নষ্ট করা অবৈধ। কুরআন ও হাদীসে বিশেষ কয়েক প্রকার অবৈধ উপার্জনের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। যেমন উপরের একটি আয়াতে বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন ছাড়া অন্যের সম্পদ গ্রহণ নিষেধ করা হয়েছে। যৌতুক, চাঁদাবাজি ইত্যাদি সকল যুলুম এর অন্তর্ভূক্ত। যৌতুকও অন্যান্য প্রকারের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসকর্মের মত অন্যের সম্পদ জোর করে বা চাপ দিয়ে গ্রহণ করা। বিবাহের ইসলাম সম্মত লেনদেন হলো কনে বা কনে-পক্ষ পাত্র বা পাত্রপক্ষকে কিছুেই দেবেন না। শুধুমাত্র কনেই পাত্রের ঘরে আসবে। আর পাত্রপক্ষ কনেকে মোহরানা প্রদান করবেন। বিবাহ উপলক্ষে ওলীমার দায়িত্ব পাত্রের। এর বাইরে কোনো প্রকারের দাবি দাওয়া অবৈধ। এমনকি কনের পিতার ইচ্ছা ও আগ্রহের অতিরিক্ত ‘বরযাত্রী’র মেহমানদারী করতে তাকে বাধ্য করাও বৈধ নয়। আল্লাহ আমাদেরকে হারাম থেকে রক্ষা করুন।
অনেক জ্ঞান পাপী আছেন, যারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অন্যের সম্পদ গ্রাস করার চেষ্টা করেন। এহেন ঘৃণ্য কর্মের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করে রাসূল ﷺ এ ইরশাদ করেন,
“যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ বা অবৈধভাবে কোনো মুসলিমের অধিকার ছিনিয়ে নিবে আল্লাহ্ তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করবেন এবং জান্নাত তার জন্য হারাম (নিষিদ্ধ) করে দেন।” (একথা শুনে) এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! ﷺ যদি সামান্য কোনো দ্রব্য হয়? তিনি বললেন, “আরাক গাছের একটি কর্তিত ডালও যদি এভাবে গ্রহণ করে তাহলেও এই শাস্তি।” (সহীহ্ মুসলিম ১/১২২)
অন্য হাদীসে রাসূল ﷺ বলেন,
“যে অন্যায়ভাবে বা যুুলুম করে এক বিঘত পরিমান যমিন গ্রহণ করবে কিয়ামতের দিন তাকে সপ্ত পৃথিবীসহ সেই যমিন তার গলায় বেড়ি বানিয়ে দেওয়া হবে।” (সহীহ্ বুখারী ৩/১১৬৮)
অন্যান্য আয়াত ও হাদীসে বিশেষত এতিম, সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা দুর্বল শ্রেণির সম্পদ এভাবে গ্রাস করার নিষেধাজ্ঞা ও কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ أَمۡوَٰلَ ٱلۡيَتَٰمَىٰ ظُلۡمًا إِنَّمَا يَأۡكُلُونَ فِي بُطُونِهِمۡ نَارٗاۖ وَسَيَصۡلَوۡنَ سَعِيرًا.
“নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ যুলুমকরে ভক্ষণ করে তারা নিঃসন্দেহে তাদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে এবং তারা অচিরেই জলন্ত আগুনে জ্বলবে।” (সূরা নিসা, আয়াত নং ১০)
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন, “যদি কেউ (কোনো মুসলিম) কোনো অমুসলিম নাগরিক বা প্রবাসীকে যুলুম করে, তাকে অপমান করে, তাকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব প্রদান করে বা তার ইচ্ছা ও আগ্রহ ছাড়া তার নিকট থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করে তাহলে কেয়ামতের দিন আমি তার বিপক্ষে বাদী হব।” (আবূ দাঊদ ৩/১৭০)
কুরআন ও হাদীসে বিশষভাবে নিষিদ্ধ অবৈধ লেনদেনের মধ্যে অন্যতম হলো, ওযনে বা মাপে কম দেওয়া, ভেজাল দেওয়া, ধোঁকা দেওয়া, ফাঁকি দেওয়া, সরকার বা জনগণের সম্পদ গ্রহণ করা, সূদ গ্রহণ বা প্রদান, ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান ইত্যাদি। ওযনে বা মাপে কম দেওয়া বা ভেজাল দেওয়ার নিষধাজ্ঞারয় এত বেশি আয়াত ও হাদীস রয়েছে যে, সেগুলি একত্রে উল্লেখ করার জন্য একটি পৃথক পুস্তকের প্রয়োজন। সূরা মুতাফফি এর ১ম আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে,
وَيْلٌ لِلْمُطَفْفِيْنَ.
“ওআইল জাহান্নামের ভয়াবহ পরিাণম তাদের জন্য যারা মাপে-পরিমাপে কম দেয়।”
এভাবে কুরআন কারীমে বারংবার পূর্ণরূপে ওযন, মাপ ও পরিমাপ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সকল প্রকারের ফাঁকি, কমতি বা কম প্রদানের কঠিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। এরূপ করলে পৃথিবীতে কঠিন গযব ও আখিরাতে কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এরূপ করলে পৃথিবীতে কঠিন গযব ও আখিরাতে কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন,
“যখন কোন সম্প্রদায়ের মানুষের মাপে-ওজনে বা পরিমাপে কম বা ভেজাল দিতে থাকে, তখন তারা দুর্ভিক্ষ, জীবনযত্রার কাঠিন্য ও প্রশাসনের বা ক্ষমতাশীলদের অত্যাচারের শিকার হয়।
আরেকটি বিষয় হাদীস শরীফে বিশষভাবে নিষেধ করা হয়েছে তা হলো ফাঁকি,ধোঁকা প্রবঞ্চনা বা ভেজাল দেওয়া। আরবীতে একে “غَش” বলা হয়। প্রস্তুতকারক সংস্থা বা দেশের নাম পরিবর্তন করা, বা উপাদান-উপকরণ হিসেবে পণ্যের লেবেলে যা লেখা তার অন্যথা করা ইত্যাদিও এই “غَش” -এর অন্তর্ভূক্ত। যে কোনো প্রকারে ধোঁকা দেওয়া বা প্রকৃত অবস্থা গোপন করার নামই গিশ্শ। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ গিশ্শ বা প্রবঞ্চনা থেকে নিষেধ করেছেন। এক হাদীসে আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন:
مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا.
“যে ব্যক্তি আমাদেরকে ফাঁকি বা ধোঁকা দিবে আমাদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।” (সহীহ্ মুসলিম ১/৯৯)
কুরআন-হাদীদে নিষিদ্ধ একটি বিষয় হলো গুলুল (غلول)। সকল প্রকার অবৈধ উপার্জনকেই গুলুল বলা হয়। তবে বিশষভাবে সরকারী বা জনগণের সম্পদ কোনো নেতা, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা নাগরিক কর্তৃক দখল, গ্রাস বা ভক্ষণ করাকে গুলুল বলা হয়। পাপী ছাড়া কোনো নবী-রাসূল বা কোনো সৎ মানুষের জন্য এভাবে সরকারী বা অন্যের ধন সম্পদ গোপন করে গ্রাস করা সম্ভব নয়। আল্লাহ্ বলেন:
وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَغُلَّۚ وَمَن يَغۡلُلۡ يَأۡتِ بِمَا غَلَّ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفۡسٖ مَّا كَسَبَتۡ وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُونَ.
“কোনো নবীর পক্ষে অসম্ভব যে তিনি অবৈধভাবে কিছু গোপন করবেন এবং কেউ অবৈধভাবে কিছু গোপন করে তাহলে কেয়ামতের দিন সে তা নিয়ে আসবে। অতঃপর প্রত্যেককে যা যে অর্জন করেছে তা পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হবে। তাদের প্রতি কোনো জুলুম কর হবে না।” (সূরা আল ইমরান: ১৬১ নং আয়াত)
অবৈধ উপার্জনের অন্যতম পদ্ধতি ঘুষ। যে ব্যক্তি কোনো কর্মের জন্য বেতন, সম্মানী বা ভাতা গ্রহণ করেন, সেই কাজের জন্য ‘সেবা গ্রহণকারী’, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা অন্য কারো থেকে কোনো প্রকার হাদীয়া, বখশিশ বা বদলা নেওয়াই ঘুষ। এ ছাড়া নেতা, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিচারক প্রমুখকে তাদের কৃপাদৃষ্টি আকৃষ্ট করার জন্য যে হাদিয়া প্রদান করা হয় তাও ঘুষ বলে হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي.
“ঘুষ গ্রহিতা ও ঘুষদাতাকে লানত (অভিশাপ) করেছেন রাসূল ﷺ। (সুনানে তিরমিযী ৩/৬২২)
অবৈধ উপার্জনের অন্যতম আরেকটি মাধ্যম হলো রিবা বা সুদ। ঋণ হিসাবে প্রদত্ত অর্থের উপরে সময়ের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণেই ইসলামী শরীয়তে সুদ। এছাড়া একই জাতীয় দ্রব্যের লেনদেনে কমবেশি করাও ইসলামে সুদ বলে গণ্য। কুরআন ও হাদীসে অত্যন্ত কঠিনভাবে সুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা বাক্বারাহ্-এর ২৭৫-২৭৯ নং আয়াতে এরশাদ করা হেয়েছে,
ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ ٱلرِّبَوٰاْ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِي يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيۡطَٰنُ مِنَ ٱلۡمَسِّۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَالُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡبَيۡعُ مِثۡلُ ٱلرِّبَوٰاْۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ فَمَن جَآءَهُۥ مَوۡعِظَةٞ مِّن رَّبِّهِۦ فَٱنتَهَىٰ فَلَهُۥ مَا سَلَفَ وَأَمۡرُهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِۖ وَمَنۡ عَادَ فَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ(٢٧٥) يَمۡحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰاْ وَيُرۡبِي ٱلصَّدَقَٰتِۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ(٢٧٦) … يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ ٱلرِّبَوٰٓاْ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ(٢٧٨) فَإِن لَّمۡ تَفۡعَلُواْ فَأۡذَنُواْ بِحَرۡبٖ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ …
“যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির মত দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে। তা এজন্য যে, ‘তারা বলে, ব্যবসা তো সুদের মত।’ অথচ আল্লাহ্ ব্যবসাকে বৈধ করেছেন এবং সুদকে অবৈধ করেছেন। যার নিকট তার প্রতিপালকের উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই এবং তার বিষয় আল্লাহর এখতিয়ারে। আর যারা (এই নিষেধাজ্ঞার পরে) পুনরায় (সুদের কারবার) আরম্ভ করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আল্লাহ্ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ কোন অকৃজ্ঞ পাপীকে ভালোবাসেন না। … হে মু’মিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মু’মিন হও। যদি তোমরা তা না ছাড়া তবে জেনে রাখ যে, ইহা আল্লাহ্ ত তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ (!) …।
বিভিন্ন হাদীসে সুদের পাপের ভয়াবহতা ও ঘৃণ্যতা বুঝাতে বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে সুদকে ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্যতর ও ভয়ঙ্করতর পাপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হারাম উপার্জনের অন্যতম ভয়াবহ দিক হলো, হারামের পাপ ছাড়াও এর কারণে অন্যান্য ইবাদত কবুল হয় না। বিভিন্ন হাদীসে বারংবার তা বলা হয়েছে।
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا