মুনাফিকদের চরিত্র এবং তাদের গন্তব্য স্থল
মুনাফিক হলো দ্বিমুখী স্বভাবের, কপট। যাদের ভিতরে এক, বাইরে আরেক। ইসলামী শরীয়তের ভাষায়, যারা অন্তরে কুফরী লালন করে এবং বাহ্যিকভাবে ইসলামী বেশ ধারণ করে সুবিধা নিতে চাই। কিন্তু সে মূলত ইসলাম ও মুসলমানের ক্ষতিই কামনা এবং ফন্দি ফিকির করতেই তৎপর থাকে। আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদের প্রসঙ্গে বলেনঃ
بَشِّرِ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ بِأَنَّ لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمًا- ٱلَّذِينَ يَتَّخِذُونَ ٱلۡكَٰفِرِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۚ أَيَبۡتَغُونَ عِندَهُمُ ٱلۡعِزَّةَ فَإِنَّ ٱلۡعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعٗا- وَقَدۡ نَزَّلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلۡكِتَٰبِ أَنۡ إِذَا سَمِعۡتُمۡ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ يُكۡفَرُ بِهَا وَيُسۡتَهۡزَأُ بِهَا فَلَا تَقۡعُدُواْ مَعَهُمۡ حَتَّىٰ يَخُوضُواْ فِي حَدِيثٍ غَيۡرِهِۦٓ إِنَّكُمۡ إِذٗا مِّثۡلُهُمۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ جَامِعُ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ وَٱلۡكَٰفِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا-
“মুনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। (১৩৮) যারা মু’মিনদেরকে পরিত্যাগ করে কাফিরদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করে, তারা কি তাদের নিকট সম্মান অনুসন্ধান করে? কিন্তু যাবতীয় সম্মানই আল্লাহর। (১৩৯) এবং নিশ্চয়ই তিনি গ্রন্থের মাধ্যমে তোমাদের আদেশ করছেন যে, তোমরা যখন আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি অবিশ্বাস করা এবং তাঁর প্রতি উপহাস করা হচ্ছে শ্রবণ কর তখন তাদের সাথে (বৈঠকে) উপবেশন করনা, যে পর্যন্ত না তারা অন্য কথার আলোচনা করে; অন্যথায় তোমরাও তাদের সদৃশ হয়ে যাবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই সমস্ত মুনাফিক ও কাফিরদেরকে জাহান্নামে একত্রিত করবেন। (১৪০)” (সূরা নিসা)
কুরআন মাজিদের বিভিন্ন স্থানে মুনাফিকদের চরিত্র চিত্রায়িত করা হয়েছে। যেমন- তারা মু’মিনদের ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। এদিকে বাহ্যতঃ মু’মিনদের সাথে মিলেমিশে থাকে, আর ওদিকে কাফিরদের নিকট বসে তাদের সামনে মু’মিনদের সম্পর্কে উপহাসমূলক কথা বলে আনন্দ উপভোগ করে। তাদেরকে বলেঃ ‘আমরা মুসলিমদেরকে বোকা বানিয়ে দিয়েছি আসলে আমরা তোমাদের সঙ্গেই রয়েছি। এধরণের অনেক দৃষ্টান্ত কুরআনে রয়েছে। আল্লাহ তা’আলা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের সামনে পেশ করে তাতে তাদের অকৃতকার্যতার কথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ
أَيَبۡتَغُونَ عِندَهُمُ ٱلۡعِزَّةَ
তোমরা চাও যে, কাফিরদের নিকট যেন তোমাদের সম্মান লাভ হয়। কিন্তু তোমাদের ধারণা মোটেই ঠিক নয়। তারা তোমাদের সাথে প্রতারণা করছে। জেনে রেখ যে, সম্মানের মালিক হচ্ছেন এক এবং অংশীবিহীন আল্লাহ তা’আলা। তিনি যাকে ইচ্ছা করেন, সম্মান দান করেন। অন্য আয়াতে বলেনঃ
مَن كَانَ يُرِيدُ ٱلۡعِزَّةَ فَلِلَّهِ ٱلۡعِزَّةُ جَمِيعًاۚ
“কেহ ক্ষমতা চাইলে সে জেনে রাখুক যে, সমস্ত ক্ষমতা তো আল্লাহরই। (সূরা ফাতির : ১০)
ভাবার্থ এই যে, হে মুনাফিকের দাল! যদি তোমরা প্রকৃত সম্মান পেতে চাও তাহলে আল্লাহর সৎ বান্দাদের সাথে মিলিত হও তাঁর ইবাদাতের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড় এবং তাঁর নিকট সম্মান যাঞ্চা কর। তাহলেই তিনি তোমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান দান করবেন। মুনাফিকদের সঙ্গ দিতে এবং তাদেরকে উপেক্ষা করতে নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেনঃ
وَإِذَا رَأَيۡتَ ٱلَّذِينَ يَخُوضُونَ فِيٓ ءَايَٰتِنَا فَأَعۡرِضۡ عَنۡهُمۡ -
“যখন তুমি দেখবে যে, লোকেরা আমার আয়াতসমূহে দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করছে তখন তুমি তাদের নিকট হতে দূরে সরে যাবে।” (সূরা আন‘আম : ৬৮)
মুনাফিকদের চূড়ান্ত পরিণতি
আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত মুনাফিক ও কাফিরকে জাহান্নামে একত্রিত করবেন। অর্থাৎ যেমন এ মুনাফিকরা এখানে ঐ কাফিরদের কুফরীতে অংশীদার রয়েছে তেমনই কিয়ামাতের দিন চিরস্থায়ী ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মধ্যে, কয়েদখানার লৌহ শৃংখলে গরম পানি ও রক্ত-পুঁজ পান করায় তাদের সঙ্গেই থাকবে এবং তাদের সকলকেই একই সাথে চিরস্থায়ী শাস্তির ঘোষণা শুনিয়ে দেয়া হবে। (তাফসীর ইবনে কাসীর)
মহান আল্লাহ আমাদেরকে এহেন করুন পরিণত বরণ করা হতে রক্ষা করুন, ঈমানওয়ালা হওয়া হওয়ার করার তৌফিক দিন এবং সুমহান জান্নাত লাভে ধন্য করুন। আ-মী-ন!!
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا