আল্লাহর ভয়ের প্রয়োজনীয়তা

আল্লাহভীতি,আল্লাহর ভয়ের প্রয়োজনীয়তা,মহামারি রোধে আল্লাহর ভয়ের প্রয়োজনীয়তা,আল্লাহভীতি বা তাকওয়া,আল্লাহভীতি অর্জনের চেষ্টা করা,আল্লাহ ভীতি,আল্লাহর ভয়ে ভীত,আল্লাহ ভয়,আল্লাহর প্রশংসার দোয়া,সর্ব অবস্থায় আল্লাহ্ ভয় অন্তরে থাকা প্রয়োজন,আল্লাহর,আল্লাহর ভয়,অন্তরে আল্লাহ ভীতি সৃষ্টিকারী হাদীসসমূহ,আল্লাহর কাছে,আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা,আল্লাহর অসীম অনুগ্রহে,আল্লাহর বড়ত্ব,মহামারি রোধে আল্লাহর ভয়,আল্লাহ ওয়ালাদের পরিচয়,আল্লাহ্ ভয়ের ওয়াজ,আল্লাহ্ ভয় কারে কয়


আল্লাহ তা‘আলা এই বিশাল আকাশ ও পৃথিবীর একমাত্র অধিকারী। তিনি কুরআন মাজিদ বলেছেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে, তাঁর একাত্মবাদে বিশ্বাস করবে, তাঁর ইবাদাত করবে এবং তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত করবেনা, এ নির্দেশাবলীই তোমাদের পূর্বে আহলে কিতাবকেও দেয়া হয়েছিল। আর যদি তোমরা অস্বীকার কর তাহলে তাঁর কি ক্ষতি করতে পারবে? তিনি তো একাই আকাশ ও পৃথিবীর মালিক। (সূরা নিসা  : ১৩১)

মূসা (আ) তাঁর গোত্রের লোকদের বলেছিলেনঃ

إِن تَكۡفُرُوٓاْ أَنتُمۡ وَمَن فِي ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعٗا فَإِنَّ ٱللَّهَ لَغَنِيٌّ حَمِيدٌ-

“তোমরা এবং পৃথিবীর সকলেও যদি অকৃতজ্ঞ হও তথাপি আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং প্রশংসার্হ।” (সূরা ইবরাহীম : ৮)

আল কুরআনে আরো বলা হয়েছেঃ

فَكَفَرُواْ وَتَوَلَّواْۖ وَّٱسۡتَغۡنَى ٱللَّهُۚ وَٱللَّهُ غَنِيٌّ حَمِيدٞ-

“অতঃপর তারা কুফরী করল ও মুখ ফিরিয়ে নিল; কিন্তু এতে আল্লাহর কিছু আসে যায়না। আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ। (সূরা তাগাবুন : ৬)

বলা হচ্ছে, তিনি আকাশ ও পৃথিবীর সমুদয় জিনিসের মালিক ও তিনি প্রত্যেকের সমস্ত কাজের উপর সাক্ষী। কোন কিছুই তাঁর অজানা নেই। তিনি এ ক্ষমতাও রাখেন যে, তোমরা যদি তাঁর অবাধ্যাচরণ কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করে তোমাদের স্থলে অন্য মাখলূক আনয়ন করবেন। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেনঃ

وَإِن تَتَوَلَّوۡاْ يَسۡتَبۡدِلۡ قَوۡمًا غَيۡرَكُمۡ ثُمَّ لَا يَكُونُوٓاْ أَمۡثَٰلَكُم-

“যদি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর তাহলে তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন; তারা তোমাদের মত হবেনা। (সূরা মুহাম্মাদ : ৩৮)

এ আয়াতে এটাও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলার নিকট এ কাজ মোটেই কঠিন নয়! অতঃপর তিনি বলেন, হে ঐ ব্যক্তি! যার মনোবাসনা ও চেষ্টা একমাত্র দুনিয়ার জন্য সে যেন জেনে নেয় যে, দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত মঙ্গল আল্লাহ তা‘আলার অধিকারেই রয়েছে। সুতরাং যখন তুমি তাঁর নিকট দুটিই যাঞ্চা করবে তখন তিনি তোমাকে দুটিই দান করবেন। আর তিনি তোমাদেরকে অমুখাপেক্ষী করে দিবেন এবং পরিতৃপ্ত করবেন। অন্য জায়গায় আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

فَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا وَمَا لَهُۥ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنۡ خَلَٰقٖ- وَمِنۡهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ حَسَنَةٗ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ- أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمۡ نَصِيبٞ مِّمَّا كَسَبُواْۚ -

কিন্তু মানবমন্ডলীর মধ্যে কেহ কেহ এরূপ আছে যারা বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! আমাদেরকে ইহকালেই দান করুন এবং তাদের জন্য আখিরাতে কোনই অংশ নেই। আর তাদের মধ্যে কেহ কেহ বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দান করুন ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে আমাদেরকে রক্ষা করুন। তারা যা অর্জন করেছে, তাদের জন্য তারই অংশ রয়েছে। (সূরা বাকারাহ : ২০০-২০২) আর এক আয়াতে আছেঃ

مَن كَانَ يُرِيدُ حَرۡثَ ٱلۡأٓخِرَةِ نَزِدۡ لَهُۥ فِي حَرۡثِهِۦۖ

“যে কেহ আখিরাতের প্রতিদান কামনা করে তার জন্য আমি তার ফসল বর্ধিত করে দিই। (সূরা শূরা : ২০) অন্য স্থানে রয়েছেঃ

مَّن كَانَ يُرِيدُ ٱلۡعَاجِلَةَ عَجَّلۡنَا لَهُۥ فِيهَا مَا نَشَآءُ لِمَن نُّرِيدُ 

“কেহ পার্থিব সুখ সম্ভোগ কামনা করলে আমি যাকে যা ইচ্ছা সত্ত্বর দিয়ে থাকি।” (সূরা ইসরা : ১৮) অন্যত্র তিনি বলেনঃ

ٱنظُرۡ كَيۡفَ فَضَّلۡنَا بَعۡضَهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖۚ 

“লক্ষ্য কর, আমি কিভাবে তাদের এক দলকে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।” (সূরা ইসরা : ২১)

বলা হচ্ছে, যে তোমাদেরকে দুনিয়ায় দিচ্ছেন, আখিরাতের অধিকারীও তিনিই। এটা বড়ই কাপুরুষতার পরিচয় যে, তোমরা তোমাদের চক্ষু বন্ধ করে নিবে এবং অধিক প্রদানকারীর নিকট অল্প যাঞ্চা করবে। না, বরং তোমরা ইহকাল ও পরকালের বড় বড় কাজ ও উত্তম উদ্দেশ্য লাভের চেষ্টা কর। স্বীয় লক্ষ্যস্থল শুধু দুনিয়াকে বানিয়ে নিওনা, বরং উচ্চাকাংখার দ্বারা দৃষ্টি প্রসারিত করে উভয় জগতে শান্তি লাভের চেষ্টা কর। তোমাদের তো এটা চিন্তা করা উচিত যে, যিনি তোমাদেরকে দেখা-শুনার ক্ষমতা দান করেছেন, তাঁর নিজের দর্শন ও শ্রবণ কেমন হতে পারে। (তাফসীর ইবনে কাসীর)

মহান আল্লাহ আমাদেরকে বেশি পরিমাণে তাঁকে ভয় করে চলার, বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন এবং সুমহান জান্নাত লাভে ধন্য করুন। আ-মী-ন!!


 Visit Our English Site Click Here 



Thanks for reading. جزاك الله خيرا

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url