সালাম দেওয়া ও নেওয়ার নিয়ম
সালাম বিনিময়
সালাম বিনিময় ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল এবং খুব সহজে নেকী বা পূন্য লাভের মাধ্যম। এর মাধ্যমে আমরা অতি সহজে অন্যের প্রিয়ভাজনও হতে পারি। মূলত সালাম হলো অপর মুমিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা, তাকে বলা যে, আপনি আমার অনিষ্ট হতে নিরাপদ এবং আপনার জন্য আমি দোয়া করছি, আপনি আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি ও রহমত লাভ করুন। কি চমৎকার অভিভাবদন! একইভাবে সালাম গ্রহণকারীও তাই বলবে, বরং আরো কিছু বাড়িয়ে বলবে। হদীস সূত্রে জানা যায়, সালাম প্রদানকারী গ্রহণ কারী অপেক্ষা বেশী নেকী লাভ করবে। তাই আমাদের উচিত বেশি বেশি সালাম প্রদানে অভ্যস্ত হওয়া। মহাগ্রন্ত্র আল কুরআন-এর সূরা নিসার ৮৬ নং আয়াতে ইরশাদ করেনঃ
وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٖ فَحَيُّواْ بِأَحۡسَنَ مِنۡهَآ أَوۡ رُدُّوهَآۗ -
‘(হে মু’মিনগণ!) যখন তোমাদেরকে কেহ সালাম করে তখন তোমরা তার অপেক্ষা উৎকৃষ্ট বাক্যে তার সালামের উত্তর দাও, অথবা তদ্রূপ শব্দই বলে দাও।’
সুতরাং তার অপেক্ষা উত্তম শব্দে উত্তর দেয়া উত্তম এবং তার অনুরূপ শব্দে উত্তর দেয়া ফারয। (তাফসীর ইবনে কাসীর)
সালাম দেওয়া-নেওয়ার পদ্ধতি
মুসনাদ আহমাদে ইমরান ইব্ন হুসাইন (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আগমন করে ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া রাসূলুল্লাহ্’ বলে বসে পড়ে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিয়ে বললেনঃ সে দশটি সাওয়া পেল; দ্বিতীয় একজন এসে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ইয়া রাসূলুল্লাহ’ বলে বসে পড়ে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ‘সে বিশটি সাওয়াব পেল।’ তৃতীয় একজন এসে বলেঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।’ তিনি বললেনঃ ‘সে ত্রিশটি সাওয়াব লাভ করল।’ (আহমাদ ৪/৪৩৯, আবূ দাঊদ ৫/৩৭৯, তিরমিযী ৭/৪৬৩) ইমাম তিরমিযী (রহ) এ হাদসিটিকে হাসান গারীব বলেছেন। এর ভাবার্থ হচ্ছে, ‘তার সালামের চেয়ে উত্তম উত্তর দিবে (যেমন, কেউ বলল: আসসালামু আলােইকুম; উত্তরে বলতে হবে ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ) এবং যদি ঐ মুসলিম সালামের সমস্ত শব্দই বলে দেয় তাহলে উত্তরদাতাকে ওটাই ফিরিয়ে দিতে হবে।’
সহীহ্ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে ইব্ন উমার (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘যখন কোন ইয়াহুদী সালাম করে তখন খেয়াল রেখ, কেননা তাদের কেহ ‘আসসালামু আলাইকা’ বলে থাকে, তখন তোমরা ‘ওয়া আলাইকা’ বলবে।’ (ফাতহুল বারী ১২/২৯৩, মুসলিম ৪/১৭০৬)
সহীহ্ মুসলিমে আবূ হুরাইরাহ (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘ইয়াহুদী ও খৃষ্টানকে তোমরা প্রথমে সালাম করনা। পথে যদি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে যায় তাহলে তাদেরকে পথের সংকীর্ণতার দিকে যেতে বাধ্য কর।’ (সহীহ্ মুসলিম ৪/১৭০৭)
সালাম বিনিময়ের ফজিলত
সুনান আবূ দাঊদে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা যে পর্যন্ত পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা স্থাপন না করবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজের কথা বলে দিবনা যা করলে তোমাদের পরস্পরের ভালবাসা স্থাপিত হবে? তা হচ্ছে এই যে, তোমরা পরস্পর সালাম বিনিময় করবে।’ (আবূ দাঊদ ৫/৩৭৮)
এছাড়াও আল কুরআন ও হাদীস গ্রন্থসমূহে আরো অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, সালাম আদান-প্রদানের ফযিলত অনেক। তাই আসুন! বেশি বেশি সালামের চর্চা করি। নিজের আখিরাতের একাউন্ট আরো সমৃদ্ধ করি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আ-মী-ন!!
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا