আল কুরআন কি ও কেন-What is the Quran and why

আল কুরআন কি ও কেন,আল-কুরআন কি ও কেন,আল কোরআন কি এবং কেন নাযিল হল,আল্লাহ কি নিরাকার কুরআন,আল কুরআন,আল কোরআন কেন নাযিল হয়েছে,গাউছিয়া কমিটি কি ও কেন ?,আল কুরআন একত্রে নাজিল হয়নি কেন?,আল কুরআন একত্রে নাযিল হয়নি কেন?,আল কোরআন,আল্লাহ কোরআন কেন পাঠিয়েছেন আমাদের মাঝে জানেন কি ।,কুরআন কেন আরবী ভাষায় নাযিল হলো,কি কেন কিভাবে,কোরআন কেন নাযিল হয়েছে,আল কোরআন মর্যাদা,কুরআন,কেন বিশ্বাস করব কোরআন আল্লাহর কালাম?,কোরআন,হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছেই কেন কোরআন নাযিল হলো



আল কুরআন কি?

মহাগ্রন্ত্র আল কুরআন সর্বশেষ ও সর্বশেষ্ঠ আসমানী কিতাব যা সর্বশেষ নাবী ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর সন্দেহাতীত ও নির্ভুলভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি এমন একটি কিতাব যার রচয়িতা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা নিজেই। আল মহাবিশ্বের মহা বিস্ময়, মহা সত্য, সুন্দর, মনোগ্য, মনোমুগ্ধকার, মর্মস্পশী, হৃদয়গাহী বাণী এবং গবেষণা করার শ্রেষ্ঠ্য উপাদান সমৃদ্ধ অপ্রতিন্দী একটি কিতাব। 

আল কুরআন কেন?

বিশ্বের মানবমন্ডীকে সর্বাধিক সঠিক ও নির্ভুল পথ নির্দেশনা সমৃদ্ধ কিতাব হলো আল কুরআন। যা ফলো করলে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে সাফল্য লাভ করবে। তাই বলা যায়, প্রধাণত এ কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আল কুরআন নাযিল করেছেন। সুতরাং বিশ্ববাসীর উচিত, এই কিতাবের বানীসমূহ অধ্যয়ণ করা, অনুধাবন ও গবেষণা। এমর্মে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلۡقُرۡءَانَۚ وَلَوۡ كَانَ مِنۡ عِندِ غَيۡرِ ٱللَّهِ لَوَجَدُواْ فِيهِ ٱخۡتِلَٰفٗا كَثِيرٗا

“তারা কেন কুরআন সম্বন্ধে গবেষণ করেনা? আর যদি ওটা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কারও নিকট হতে হত তাহলে তারা ওতে বহু বৈপরীত্য দেখতে পেত।” (সূরা নিসা : ৮২)

অত্র আয়াতে কারীমায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা স্বীয় বান্দাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন কুরআন কারীমকে চিন্তা ও গবেষণা সহকারে পাঠ করে। উহা হতে যেন তারা বিমুখ না হয়, অবজ্ঞা না করে। ওর মযবুত রচনা শৈলি, নৈপুণ্য পূর্ণ নির্দেশাবলী এবং বাকচাতুর্য সম্বন্ধে যেন চিন্তা করে। সাথে সাথে এ সংবাদও দিচ্ছেন যে, এ পবিত্র গ্রন্থটি মতভেদ ও মতানৈক্য হতে সম্পূর্ণ পবিত্র। কেননা ইহা মহাবিজ্ঞানময় ও পরম প্রশংসিত আল্লাহরই বাণী। তিনি নিজে সত্য এবং তদ্রূপ তাঁর কালামও সম্পূর্ণ সত্য। যেমন অন্য আয়াতে ঘোষণা করেছেনঃ

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلۡقُرۡءَانَ أَمۡ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقۡفَالُهَآ-

“তাহলে কি তারা কুরআন সম্বন্ধে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করেনা? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ। (সূরা মুহাম্মাদ : ২৪)

মুশরিক ও মুনাফিকদের ধারণা হিসাবে এ কুরআন যদি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে নাযিলকৃত না হত এবং কারও মনগড়া কথা হত তাহলে অবশ্যই মানুষ ওর মধ্যে বহু মতভেদ লক্ষ্য করত। সুতরাং এ পবিত্র গ্রন্থের এসব ত্রুটি হতে মুক্ত হওয়া এরই পরিষ্কার দলীল যে, এটা আল্লাহরই বাণী। যেমন আল্লাহ তা‘আলা জ্ঞানে পরিপক্ক আলেমদের কথা বর্ণনা করেন যে, তারা বলেঃ আমরা এগুলির উপর ঈমান এনেছি, এগুলি সবই আমাদের প্রভূর পক্ষ হতে আগত। অর্থাৎ ইহা স্পষ্ট আয়াত ও অস্পষ্ট আয়াত সবই সত্য। এ জন্যই তারা অস্পষ্ট আয়াতগুলিকে স্পষ্ট আয়াতগুলির দিকে ফিরেয়ে থাকে এবং এর ফলে তারা সুপথ প্রাপ্ত হয়। পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে মুনাফিকীর বক্রতা রয়েছে তারা স্পষ্ট আয়াতগুলি অস্পষ্ট আয়াতগুলির দিকে ফিরিয়ে থাকে এবং এর ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা প্রথম প্রকারের লোকদের প্রশংসা করেছেন এবং দ্বিতীয় প্রকারের লোকদের নিন্দা করেছেন। 

মুসনাদ আহমাদে রয়েছে, আমর ইবন শুয়াইব (রা) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, তাঁর দাদা বলেনঃ আমি এবং আমার ভাই এমন এক সমাবেশে বসেছিলাম যা আমার নিকট এত প্রিয় ছিল যে, আমি একটি লাল বর্ণের উট পেলেও এ মাজলিসের তুলনায় ওটাকে নগণ্য মনে করতাম। আমরা গিয়ে দেখি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরজার উপর কয়েকজন মর্যতাবান সাহাবী (রা) দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমরা ওখান থেকে চলে যাওয়া সমীচীন মনে না করে এক দিকে বসে পড়ি। সেখানে কুরআন মাজীদের কোন আয়াত নিয়ে আলোচনা চলছিল এবং তাঁদের মধ্যে কিছু মতানৈক্য দেখা দিয়েছিল। অবশেষে কথা বেড়ে যায় এবং তাঁরা পরস্পর উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এটা শুনতে পেয়ে রাগান্বিত অবস্থায় বাইরে আগমন করেন এবং তাঁর মুখমন্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছিল। তাঁদের উপর মাটি নিক্ষেপ করে বললেনঃ

‘তোমরা নীরবতা অবলম্বন কর। তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণ এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তারা তাদের নাবীগণের উপর মতানৈক্য আনয়ন করেছিল এবং আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াতকে অপর আয়াতের বিপরীত বলেছিল। জেনে রেখ যে, কুরআন মাজীদের কোন আয়াত অপর আয়াতের বৈপরীত্য বহন করেনা, বরং সত্যতা প্রতিপাদন করে। তোমরা যেটা জান তার উপর আমল কর এবং যেটা জাননা সেটা যারা জানে তাদের উপর ছেড়ে দাও।’ (আহমাদ ২/১৮১)

আব্দুল্লাহ ইব্ন আমর (রাঃ) বলেনঃ আমি দুপুরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম কাছে উপস্থিত হই। আমি বসে রয়েছি এমন সময় দু’টি লোকের মধ্যে একটি আয়াতের ব্যাপারে মতভেদ সৃষ্টি হয় এবং কন্ঠস্বর উচ্চ হতে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বললেনঃ ‘তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণের ধ্বংসের একমাত্র কারণই ছিল আল্লাহ তা‘লার কিতাবে তাদের মতভেদ সৃষ্টি করা।’ (আহমাদ ২/১৯২, মুসলিম ৪/২০৫৩, নাসাঈ ৫/৩৩)

প্রিয় পাঠক! আসুন, কুরআনুল কারীমকে আমরা পরশ পাথর হিসেবে গ্রহণ করি, পড়ি, অনুধাবন করি, গবেষণা করি, মনের মনি কঠায় স্থান দিয়ে চলার পথের পাথেয়-গাইড বুক হিসেবে গণ্য করি এবং জান্নাতীগণের মধ্যে নিজেকে শামিল করার সুযোগ নিয়ে নিজের জীবনকে ধন্য করি। মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে তাওফীক প্রদান করুন। আ-মী-ন!!




 Visit Our English Site Click Here 



Thanks for reading. جزاك الله خيرا

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url