৭ শ্রেণির মানুষ অভিশপ্ত
আহমাদ আল-মুসনাদ, হাকিম আল-মুসতাদরাক এবং আলবানী সহীহুল জামি কিতাবে সহীহ্ সূত্রে বর্ণিত হাদিসে ৭ শ্রেণির মানুষকে অভিশপ্ত বলা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
مَلْعُونٌ مَنْ سَبَّ أبَاهُ، مَلْعُونٌ مَنْ سَبَّ أُمَّهُ، مَلْعُونٌ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللهِ، مَلْعُونٌ مَنْ غَيَّرَ تُخُومَ الأرْضِ، مَلْعُونٌ مَنْ كَمَّهَ أعْمَى عَنِ الطَّرِيقِ، مَلْعُونٌ مَنْ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ، مَلْعُونٌ مَنْ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ.
(১) অভিশপ্ত মালউন যে তার পিতাকে গালি দেয়,
(২) অভিশপ্ত মালউন যে তার মাতাকে গালি দেয়,
(৩) অভিশপ্ত মালউন যে আল্লাহ্ ছাড়া কারো জন্য (নামে) জবাই করে,
(৪) অভিশপ্ত মালউন যে জমিজমার আইল পরিবর্তন করে,
(৫) অভিশপ্ত মালউন যে কোন অন্ধ ব্যক্তিকে বিপথে পরিচালিক করে,
(৬) অভিশপ্ত মালউন যে কোনো প্রাণীতে উপগত হয়,
(৭) অভিশপ্ত মালউন যে সমকামিতায় লিপ্ত হয়।
(আহমাদ আল-মুসনাদ ১/২১৭, ৩১৭, হাকিম আল-মুসতাদরাক ৪/৩৯৬ এবং আলবানী সহীহুল জামি ২/১২৪; হদীসটি সহীহ্)
পিতামাতাকে গালি দেয়া কবীরা গোনাহ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “কবীরা গোনাগুলির একটি হলো মানুষ তার পিতামাতাকে গালি দিবে। তখন সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল, কোনো মানুষ কি তার পিতামাতাকে গালি দেয়? তিনি বলেন : হ্যাঁ, ব্যক্তি যখন অন্য ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয় তখন সেই ব্যক্তি প্রথম গালিদাতার পিতাকে গালি দেয়। অনুরূপভাবে যখন সে কারো মাতাকে গালি দেয় তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির মাতাকে গালি দেয়। (সহীহ্ মুসলিম ১/৯২)
অভিশপ্ত সে যে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো জন্য জবাই করে
এমর্মে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ইরশাদ করেন:
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحۡمَ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ بِهِۦ لِغَيۡرِ ٱللَّهِۖ فَمَنِ ٱضۡطُرَّ غَيۡرَ بَاغٖ وَلَا عَادٖ فَلَآ إِثۡمَ عَلَيۡهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٌ ۞
“তিনি (আল্লাহ্) শুধু তোমাদের জন্য মৃত জীব, রক্ত,শুকরের মাংস এবং যা আল্লাহ্ ব্যতীত অপরের উদ্দেশ্যে নিবেদিত- তদ্ব্যতীত অবৈধ করেননি; বস্তুত যে ব্যক্তি নিরূপায়, কিন্তু সীমা লংঘনকারী নয়, তার জন্য পাপ নেই; এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, করুণাময়।” (সূরা বাকারা : ১৭৩)
উল্লেখিত আয়াতে কারীমায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘যা আল্লাহ্ ব্যতীত অপরের উদ্দেশ্যে নিবেদি’ অর্থাৎ, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো জন্য বা অন্য কারো নামে যবেহ বা উৎসর্গ করলে তা হারাম হয়ে যায়; যবেহকৃত পশু হালাল হলেও। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন পীর-বুজুর্গ বা দেব-দেবীর নামে কোন পশু যবেহ করে সে অভিশপ্ত।
অভিশপ্ত সে যে জমিজমার আইল বা সীমানা পরিবর্তন করে,
আমাদের সমাজে এ ঘটনাও অহরহ ঘটে। ঝগড়া-মারামারি, কেস-কারবারও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ কারণেই ঘটে। এর মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট করা হয় এবং অন্যায়ভাগে অন্যের অংশ ভোগ করা হয়। এটাও এক ভয়াভহ অপরাধ। অন্যের হক এমন একটা বিষয় যা কখনো না দিয়ে উপায় নেই। দুনিয়াতে কেউ না দিলে আখিরাতে তাকে অবশ্যই দিতে হবে। আর সেখানে দেওয়ার পদ্ধতি হবে নেকী দিয়ে তা মেকাপ দেওয়া। যদি দেওয়ার মতো তার কোন নেকী না থাকে তবে হকদারের পাপ গ্রহণের মাধ্যমে তা মেকাপ দিতে হবে। তাই এই পাপীও অভিশপ্ত।
অভিশপ্ত সে যে কোন অন্ধ ব্যক্তিকে ভুল পথ দেখায়
এটা অনেকে ঠাট্টা করেও করতে পারে। অনেকে আবার ইচ্ছে করেও করতে পারে। যেভাবে হোক এটা কিন্তু মস্ত বড় একটা গর্হিত অপরাধ। ‘ভুল পথ দেখানো বা বিপথে পরিচালনা’-এর আরেকটি তাত্বিক অর্থ হতে পারে তা হলো, অজ্ঞরূপী (মূর্খ) লোককে সঠিক পরামর্শ না দিয়ে ভুল বা কোন ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর পরামর্শ দেওয়া (হিংসা বশত বা কোন স্বার্থে)। এহেন কর্ম নেহাৎ দুর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচার। তাই এই কাজ যে করবে সে অভিশপ্ত হিসেবে গন্য হবে।
অভিশপ্ত সে যে কোন প্রাণীত উপগত হয়
এটা এক জঘন্য ও নিন্দনীয় অপরাধ। আমরা জানি, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এই সেরা জীব হয়ে কোন মানুষ যদি কোন পশুর সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করে তাহলে মনুষত্ব থাকে কিভাবে? অথচ বর্তমান বিশ্বের সভ্যদাবীদার অনেকেই এই গর্হিত অপরাধ করে থাকে। যায় হোক, যে এই কাজ করবে সেও অভিশপ্ত হবে।
অভিশপ্ত সে যে সমকামিতায় লিপ্ত হয়
এটাও এক জঘন্য ও নিন্দনীয় অপরাধ। অনেক সভ্য দেশ বর্তমানে এটা এখন আইন করে বৈধ করে ফেলেছে। সেখানে পুরুষ আরেক পুরুষকে দিয়ে জৈবিক চাহিদা পুরুণ করে, নারী আরেক নারীকে দিয়ে জৈবিক চাহিদা পূরণ করে। এটা এমন এক অপরাধ যে অপরাধের কারণে ইতিপূর্বে আল্লাহ গযব নাযিল করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। সুতরাং, এই কাজ যে করবে সে স্বভবতই অভিশপ্ত হবে।
আসুন, আমরা সবাই এইসব গর্হিত কর্ম-কান্ড থেকে বিরত থাকি এবং অভিশপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ্ আমাদের তাওফিক দান করুন। আ-মী-ন।
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا