আল্লাহর আইন পালনে শাসকের অনুসরণ করতে হবে
আল্লাহ্ সুবহানাহু ইরশাদ করেনঃ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَأُوْلِي ٱلۡأَمۡرِ مِنكُمۡۖ فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ وَأَحۡسَنُ تَأۡوِيلًا-
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর ও রাসূলের অনুগত হও এবং তোমাদের জন্য যারা বিচারক তাদের; অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে কোন মতবিরোধ হয় তাহলে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে থাক; এটাই কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠতর পরিসমাপ্তি। ” (সূরা নিসা : ৫৯)
সহীহ্ বুখারীতে আব্দুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম একটি ছোট নৌবাহিনীতে আব্দুল্লাহ্ ইব্ন হুযাইফা ইব্ন কায়েসকে (রাঃ) প্রেরণ করেন। তার ব্যাপারে উক্ত আয়াতে কারীমা অবতীর্ণ হয়। (ফাতহুল বারী ৮/১০১, মুসলিম ৩/১৪৬৫, আবূ দাঊদ ৩/৯২, তিরমিযী ৫/৩৬৪, নাসাঈ ৭/১৫৪)
মুসনাদ আহমাদে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম এক সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং একজন আনসারীকে তার নেতৃত্ব দান করেন। একদা তিনি সৈন্যদের উপর কি এক ব্যাপারে ভীষণ রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্যের নির্দেশ দেননি?’ তারা বলেন, হ্যা। তিনি বলেন, ‘তোমরা জ্বালানী কাষ্ঠ জমা কর।’ অতঃপর তিনি আগুন আনার ব্যবস্থা করে কাষ্ঠগুলো দেন। তারপর তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে এ আগুনের মধ্যে প্রবেশ করার নির্দেশ দিলাম। সেনাবাহিনীর লোকেরা আগুনে প্রায় ঝাপ দিচ্ছিল। তখন একজন্য নব্য যুবক সৈন্যদেরকে বলেন, ‘আপনারা আগুন হতে রাক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালামের নিকট আশ্রয় নিয়েছেন। আপনারা তাড়াহুড়া করবেননা যে পর্যন্ত না আপনারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অতঃপর তিনিও যদি আপনাদেরকে আগুনে প্রবেশ করার নির্দেশ দেন তাহলে ওতে প্রবেশ করবেন।’ অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালামের নিকট ফিরে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। তখন তিনি বললেনঃ ‘তোমরা যদি আগুনে ঝাপ দিতে তাহলে আর কখনও সে আগুন হতে বের হতে পারতেনা। জেনে রেখ, আনুগত্য শুধু আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টির কাজেই রয়েছে।’ (আহমাদ ১/৮২,ফাতহুল বারী ৭/৬৫৫,মুসলিম ৩/১৪৬৯)
সুনান আবূ দাঊদে আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিথ আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেনঃ ‘শ্রবণ করা ও মান্য করা মুসলিমের উপর ফারয, তা তার নিকট প্রিয়ই হোক বা অপছন্দনীয়ই হোক, যে পর্যন্ত না (আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের) অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়া হয়। যখন অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়া হবে তখন শ্রবণও করতে হবেনা এবং মান্যও করতে হবেনা।’ (সহীহ্ বুখারী ৭১৪৪,সহীহ্ মুসলিম ১৮৩৯, আবু দাঊদ ২৬২৬)
সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে উবাদা ইব্ন সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা শ্রবণ করা ও মান্য করার উপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালামের নিকট বাইআত গ্রহণ করি, তাতে আমাদের সন্তুষ্টিই হোক অথবা অসন্তুষ্টিই হোক, আমরা কঠিন অবস্থায়ই থাকি বা সহজ অবস্থায়ই থাকি এবং যদিও আমাদের উপর অপরকে প্রাধান্য দেয়া হয়, আর আমরা কাজের যোগ্য ব্যক্তি হতে যেন কাজ ছিনিয়ে না নেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম বললেনঃ কিন্তু তোমরা যদি স্পষ্ট কুফরী দেখতে পাও যার ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহ্ প্রদত্ত কোন প্রকাশ্য দলীল রয়েছে। (সে সময় তোমাদেরকে শ্রবণও করতে হবেনা, মান্যত করতে হবেনা।) (ফাতহুল বারী ১৩/২০৪, মুসলিম ৩/৪৭০)
সহীহ্ বুখারীতে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেনঃ ‘তোমরা শ্রবণ কর ও মান্য কর যদিও তোমাদের উপর একজন ক্ষুদ্র মস্তক বিশিষ্ট হাবশী ক্রীতদাসকে আমীর বানিয়ে দেয়া হয়।’ (ফাতহুল বারী ১৩/১৩০)
সহীহ্ মুসলিমে উম্মুল হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালামকে তাঁর বিদায় হাজ্জের ভাষণে বলতে শুনেছেনঃ ‘যদি তোমাদের উপর একজন ক্রীতদাসকে শাসক নির্বাচন করা হয় এবং সে তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার কিতাব অনুযায়ী পরিচালিত করে তাহলে তোমরা তার কথা শ্রবণ করবে ও মান্য করবে।’ (মুসলিম ১৮৩৮) অন্য বর্ণনায় ‘কর্তিত নাক বিশিষ্ট হাবশী ক্রীতদাসও হয়’ এ শব্দগুলি রয়েছে।
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, أُوْلِي ٱلۡأَمۡرِ দ্বারা বোধশক্তি সম্পন্ন ও ধার্মিক ব্যক্তিদেরকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আলেমগণ। বাহ্যিক কথা তো এটাই মনে হচ্ছে, তবে প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলারই রয়েছে। এ সব্দটি সাধারণ, এর ভাবার্থ ‘আমীর’ ও ‘আলেম’ উভয়েই হতে পারে, যেমন পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কুরআন কারীমে ইরশাদ হচ্ছেঃ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ ‘তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার অনুগত হও’ অর্থাৎ তাঁর কিতাবের অনুসারী হও। ‘আল্লাহ্ তা‘আলার রাসূলের অনুগত হও’ অর্থাৎ তাঁর সুন্নাতের উপর আমল কর। وَأُوْلِي ٱلۡأَمۡرِ مِنكُمۡۖ আর তোমাদের আদেশদাতাদের আনুগত্য স্বীকার কর। অর্থাৎ তাদের ঐ নির্দেশের প্রতি অনুগত হও যেখানে আল্লাহ তা‘আলার আনগত্য রয়েছে। তারা যদি আল্লাহ্ তা‘আলার নির্দেশের বিপরীত কোন আদেশ করে তাহলে তাদের সে আদেশ মান্য করা মোটেই উচিত নয়। (তাফসীর ইবনে কাসীর) কেননা সহীহ্ হাদীসে বর্ণিত আছেঃ আনুগত্য শুধু সৎ কাজের জন্য (ফাতহুল বারী ১৩/১৩০)
Visit Our English Site : Click Here
Thanks for reading. جزاك الله خيرا
