সুরাঃ ৭৫/ আল-ক্বিয়াম-Sura Al Qiamah

 



সূরাঃ ৭৫/ আল-ক্বিয়ামাহ

আয়াতঃ ৪০ মাক্কী

 

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

لَاۤ اُقۡسِمُ بِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ۙ﴿۱

(১) আমি শপথ করছি কিয়ামত দিবসের। [1]

v [1] لاَ أُقْسِمُ তে لاَ হরফটি অতিরিক্ত। আর এটা আরবী বাকপদ্ধতির বিশেষ রীতি। যেমন,{ مَا مَنَعَكَ أَلاَّ تَسْجُدَ} (সূরা আরাফ ১২ আয়াত) {لِئَلاَّ يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ} (সূরা হাদীদ ২৯ আয়াত) আরো অন্যান্য সূরাতেও এইরূপ ব্যবহার হয়েছে।

v কেউ কেউ বলেছেন, এই শপথের পূর্বে কাফেরদের কথার খন্ডন করা হয়েছে। তারা বলত যে, মরণের পর আর কোন জীবন নেই। لاَ এর দ্বারা বলা হল যে, তোমরা যেমন বলছ, ব্যাপারটা তেমন নয়। আমি কিয়ামতের দিনের কসম খেয়ে বলছি। আর কিয়ামতের দিনের কসম খাওয়ার উদ্দেশ্য তার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্যকে স্পষ্ট করা। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]

وَ لَاۤ اُقۡسِمُ بِالنَّفۡسِ اللَّوَّامَۃِ ؕ﴿۲

২. আমি আরও শপথ করছি ভর্ৎসনাকারী আত্মার।(১)

v  (১) لوامة শব্দটি لوم থেকে উদ্ভুত। অর্থ তিরস্কার ও ধিক্কার দেয়া। নাফসে লাওয়ামাবলে এমন নফস বোঝানো হয়েছে, যে নিজের কাজকর্মের হিসাব নিয়ে নিজেকে ধিক্কার দেয়। অর্থাৎ কৃত গোনাহ অথবা ওয়াজিব কর্মে ত্রুটির কারণে নিজেকে ভর্ৎসনা করে বলে যে, তুই এমন করলি কেন? সৎকর্ম সম্পর্কেও নিজেকে এই বলে তিরস্কার করে যে, আরও বেশী সৎকাজ সম্পাদন করে উচ্চমর্যাদা লাভ করলে না কেন? সারকথা, কামেল মুমিন ব্যক্তি সর্বদাই তার প্রত্যেক সৎ ও অসৎ কাজের জন্যে নিজেকে তিরস্কারই করে।

v  মূলতঃ নফস তিনটি গুণে গুণান্বিত হয়। নফসে আম্মারা, লাওয়ামা ও মুতমায়িন্নাহ। সাধারণত নাফসে আম্মারা বা খারাপ কাজে উদগ্ৰীবকারী আত্মা প্রতিটি মানুষেরই মজ্জগত ও স্বভাবগত। সে মানুষকে মন্দ কাজে লিপ্ত হতে জোরদার আদেশ করে। কিন্তু ঈমান, সৎকর্ম ও সাধনার বলে সে নফসে-লাওয়ামা হয়ে যায় এবং মন্দ কাজ ও ত্রুটির কারণে অনুতপ্ত হতে শুরু করে। এটাকেই অনেকে বিবেক বলে। কিন্তু মন্দ কাজ থেকে সে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয় না। অতঃপর সৎকর্মে উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্যলাভে চেষ্টা করতে করতে যখন শরীয়তের আদেশ-নিষেধ প্রতিপালন তার মজ্জাগত ব্যাপার হয়ে যায় এবং শরীয়তবিরোধী কাজের প্রতি স্বভাবগত ঘৃণা অনুভব করতে থাকে, তখন এই নফসই মুতমায়িন্নাহ বা সন্তুষ্টচিত্ত উপাধি প্ৰাপ্ত হয়। [তাফসীরে জাকারিয়া]

اَیَحۡسَبُ الۡاِنۡسَانُ اَلَّنۡ نَّجۡمَعَ عِظَامَهٗ ؕ﴿۳

(৩) মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারব না? [1]

v  [1] এটা কসমের জওয়াব। এখানে ইনসানবলতে কাফের ও নাস্তিককে বুঝানো হয়েছে, যারা কিয়ামতকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল। মহান আল্লাহ অবশ্যই মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে একত্রিত করবেন। এখানে বিশেষ করে অস্থি বা হাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, অস্থিই হল (মানবদেহ) সৃষ্টির মৌলিক কাঠামো। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]

بَلٰی قٰدِرِیۡنَ عَلٰۤی اَنۡ نُّسَوِّیَ بَنَانَهٗ ﴿۴

৪. অবশ্যই হ্যাঁ, আমরা তার আঙ্গুলের আগা পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।(১)

v  (৪) অবশ্যই। আমি ওর আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত সুবিন্যস্ত করতে সক্ষম।[1]

v  [1] بَنَانٌ  হাত-পায়ের (আঙ্গুলের) অগ্রভাগকে বলা হয়; যা জোড়, নখ, সূক্ষ্ম উপশিরা এবং পাতলা হাড় (চামড়ার উপর সূক্ষ্ম রেখা) ইত্যাদি সমন্বিত থাকে। এত সূক্ষ্ম জিনিসগুলোকে তো আমি ঠিক ঠিকভাবে জুড়ে দেব। তাহলে বড় বড় অংশগুলোকে জোড়া দেওয়া কি আমার জন্য কোন কঠিন কাজ হবে? (আঙ্গুলের অগ্রভাগে যে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রেখা আছে এবং তা এমন সূক্ষ্মভাবে সুবিন্যস্ত আছে যে, একজনের আঙ্গুলের ছাপ অন্যজনের সাথে মিলে না। সুতরাং কী আজব কুদরত সেই মহান স্রষ্টার! -সম্পাদক) [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]

بَلۡ یُرِیۡدُ الۡاِنۡسَانُ لِیَفۡجُرَ اَمَامَهٗ ۚ﴿۵

৫. বরং মানুষ তার ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে চায়।(১)

v  (১) তারা যে কিয়ামত ও আখেরাতকে অস্বীকার করে তার মূল কারণ হলো, তারা চায় আজ পর্যন্ত তারা পৃথিবীতে যেরূপ লাগামহীন জীবন যাপন করে এসেছে ভবিষ্যতেও ঠিক তেমনি করতে পারে। আজ পর্যন্ত তারা যে ধরনের জুলুম-অত্যাচার, বেঈমানী, পাপাচার ও দুষ্কর্ম করে এসেছে। ভবিষ্যতেও তা করার অবাধ স্বাধীনতা যেন তাদের থাকে। এভাবে সে অসৎকাজ করতেই থাকে, সৎপথে ফিরে আসতে চায় না। [মুয়াস্‌সার, ফাতহুল কাদীর]

v কোন কোন মুফাসসির বলেন, আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, “বরং সে তার সম্মুখস্থ বস্তু অর্থাৎ কিয়ামতকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করতে চায়।কারণ, এর পরই বলা হয়েছে, “সে প্রশ্ন করে কখন কিয়ামত আসবেএ তাফসীরটি ইবনে কাসীর প্রাধান্য দিয়েছেন। [তাফসীরে জাকারিয়া]

یَسۡـَٔلُ اَیَّانَ یَوۡمُ الۡقِیٰمَۃِ ؕ﴿۶

(৬) সে প্রশ্ন করে, কখন কিয়ামত দিবস আসবে? [1]

v  [1] তারা এ প্রশ্ন এই জন্য করে না যে, কৃতপাপ হতে তওবা করবে। বরং কিয়ামত সংঘটিত হওয়াকে তারা অসম্ভব মনে করে। আর এই কারণেই তারা অন্যায়-অনাচার থেকে ফিরে আসে না। পরের আয়াতে মহান আল্লাহ কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় বর্ণনা করছেন। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]

فَاِذَا بَرِقَ الۡبَصَرُ ۙ﴿۷

৭. যখন চোখ স্থির হয়ে যাবে(১),

v  (১)برق  এর আভিধানিক অর্থ হলো বিদ্যুতের ঝলকে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া। কিন্তু প্রচলিত আরবী বাকরীতিতে কথাটি শুধু এ একটি অর্থ জ্ঞাপকই নয় বরং ভীতি-বিহবলতা, বিস্ময় অথবা কোন দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় যদি কেউ হতবুদ্ধি হয়ে যায় এবং সে ভীতিকর দৃশ্যের প্রতি তার চক্ষু স্থির-নিবদ্ধ হয়ে যায় যা সে দেখতে পাচ্ছে তাহলে এ অবস্থা বুঝাতেও একথাটি বলা হয়ে থাকে। [দেখুন: ইবন কাসীর]

وَ خَسَفَ الۡقَمَرُ ۙ﴿۸

৮. এবং চাঁদ হয়ে পড়বে কিরণহীন(১),

v   (১) এখানে কেয়ামতের পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ যখন চক্ষুতে ধাঁধা লেগে গেলকেয়ামতের দিন সবার দৃষ্টিতে ধাঁধা লেগে যাবে। ফলে চক্ষু স্থির কোন বস্তু দেখতে পারবে না এবং চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে যাবে। [ইবন কাসীর]

v   তাছাড়া আরেকটি অনুবাদ হচ্ছে, চন্দ্র গায়েব হয়ে যাবে, চন্দ্র বলতে কিছু আর থাকবে না। [কুরতুবী]

وَ جُمِعَ الشَّمۡسُ وَ الۡقَمَرُ ۙ﴿۹

৯. আর যখন সূর্য ও চাঁদকে একত্র করা হবে(১)

v (১) চাঁদের আলোহীন হয়ে যাওয়া এবং চাঁদ ও সূর্যের পরস্পর একাকার হয়ে যাওয়ার অর্থ, মুজাহিদ বলেন, দু'টিকে একত্রে পেচানো হবে। [আত-তাফসীরুস সহীহ]

یَقُوۡلُ الۡاِنۡسَانُ یَوۡمَئِذٍ اَیۡنَ الۡمَفَرُّ ﴿ۚ۱۰

(১০) সেদিন মানুষ বলবে, আজ পালাবার স্থান কোথায়? [1]

v [1] অর্থাৎ, যখন এ সব ঘটনাবলী ঘটবে, তখন মানুষ আল্লাহ অথবা জাহান্নামের আযাব থেকে পলায়নের পথ খুঁজবে, কিন্তু তখন পলায়নের পথ কোথায় পাবে?

کَلَّا لَا وَزَرَ ﴿ؕ۱۱

(১১) না, কোন আশ্রয়স্থল নেই। [1]

v [1] وَزَرَ এমন পাহাড় বা দুর্গকে বলা হয়, যেখানে মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করে। তখন কিন্তু এ রকম কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না।

اِلٰی رَبِّکَ یَوۡمَئِذِۣ الۡمُسۡتَقَرُّ ﴿ؕ۱۲

(১২) সেদিন ঠাঁই হবে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট। [1]

v [1] যেখানে তিনি বান্দার মাঝে বিচার-ফায়সালা করবেন। এ সম্ভব হবে না যে, কেউ আল্লাহর এই আদালত থেকে নিজেকে গোপন করে নেবে।

یُنَبَّؤُا الۡاِنۡسَانُ یَوۡمَئِذٍۭ بِمَا قَدَّمَ وَ اَخَّرَ ﴿ؕ۱۳

১৩. সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে কী আগে পাঠিয়েছে ও কী পিছনে রেখে গেছে।(১)

v   আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন, মানুষ মৃত্যুর পূর্বে যে সৎকাজ করে নেয়, তা সে অগ্ৰে প্রেরণ করে এবং যে সৎ অথবা অসৎ উপকারী অথবা অপকারী কাজ ও প্রথা এমন ছেড়ে যায়, যা তার মৃত্যুর পর মানুষ বাস্তবায়িত করে, তা সে পশ্চাতে রেখে আসে। (এর সওয়াব অথবা শাস্তি সে পেতে থাকবে।) [দেখুন: বাগাভী; কুরতুবী]

v   দ্বিতীয় অর্থ হলো, যেসব কাজ সে আগে করেছে এবং যেসব কাজ সে পরে করেছে দিন তারিখ সহ তার পুরো হিসেব তার সামনে পেশ করা হবে।

بَلِ الۡاِنۡسَانُ عَلٰی نَفۡسِهٖ بَصِیۡرَۃٌ ﴿ۙ۱۴

১৪. বরং মানুষ নিজের সম্পর্কে সম্যক অবগত (১),

v  (১) আয়াতে بَصِيرَةٌ  শব্দটির অর্থ যদি চক্ষুম্মানধরা হয়, তখন আয়াতের অর্থ এই যে, যদিও ন্যায়বিচারের বিধি অনুযায়ী মানুষকে তার প্রত্যেকটি কর্ম সম্পর্কে হাশরের মাঠে অবহিত করা হবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর প্রয়োজন নেই। কেননা, মানুষ তার কর্ম সম্পর্কে খুব জ্ঞাত। সে কি করেছে, তা সে নিজেই জানে। তাই আখেরাতের আদালতে হাজির করার সময় প্রত্যেক কাফের, মুনাফিক, পাপী ও অপরাধী নিজেই বুঝতে পারবে যে, সে কি কাজ করে এসেছে এবং কোন অবস্থায় নিজ প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে আছে; সে যতই অস্বীকার করুক বা ওযর পেশ করুক। [ইবন কাসীর]

v  এছাড়া হাশরের মাঠে প্ৰত্যেকে তার সৎ কর্ম স্বচক্ষে দেখতেও পাবে। অন্য আয়াতে আছে, (وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا) অর্থাৎ দুনিয়াতে মানুষ যা করেছে, হাশরের মাঠে তাকে উপস্থিত পাবে” [সূরা আল-কাহাফ: ৪৯]

وَّ لَوۡ اَلۡقٰی مَعَاذِیۡرَهٗ ﴿ؕ۱۵

(১৫) যদিও সে নানা অজুহাতের অবতারণা করে। [1]

v [1] অর্থাৎ লড়াই করুক, ঝগড়া করুক, আর যত অপব্যাখ্যা করবে করুক; এ রকম করে তার না কোন লাভ হবে, আর না সে নিজ বিবেককে সন্তুষ্ট করতে পারবে। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]

لَا تُحَرِّکۡ بِهٖ لِسَانَکَ لِتَعۡجَلَ بِهٖ ﴿ؕ۱۶

(১৬) তাড়াতাড়ি অহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা ওর সাথে সঞ্চালন করো না। [1]

v  [1] জিবরীল (আঃ) যখন অহী নিয়ে আসতেন, তখন নবী (সাঃ)ও তাঁর সাথে সাথে তাড়াতাড়ি করে পড়ে যেতেন। যাতে কোন শব্দ যেন ভুলে না যান। আল্লাহ তাঁকে ফিরিশতার সাথে এইভাবে পড়তে নিষেধ করলেন। (বুখারীঃ সূরা কিয়ামার তফসীর) এ বিষয় আরো বলা হয়েছে-  وَلَا تَعْجَلْ بِالقُرْآنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ  (সূরা ত্বাহা ১১৪ আয়াত দ্রঃ) সুতরাং এই নির্দেশের পর রসূল (সাঃ) চুপ করে কেবল শুনতেন।

اِنَّ عَلَیۡنَا جَمۡعَهٗ وَ قُرۡاٰنَهٗ ﴿ۚۖ۱۷

(১৭) নিশ্চয় এটার সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমারই। [1]

v [1] অর্থাৎ, তোমার বক্ষে তা সংরক্ষণ করে দেওয়া এবং জবানে তার পঠন কাজ চালু করে দেওয়া হল আমার দায়িত্ব। যাতে তার কোন অংশ তোমার স্মরণচ্যুত না হয় এবং কোন কিছু তোমার স্মৃতি থেকে মুছে না যায়।

فَاِذَا قَرَاۡنٰهُ فَاتَّبِعۡ قُرۡاٰنَهٗ ﴿ۚ۱۸

(১৮) সুতরাং যখন আমি ওটা (জিব্রাঈলের মাধ্যমে) পাঠ করি,[1] তখন তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর।[2]

v [1] অর্থাৎ, ফিরিশতা [জিবরীল (আঃ)] এর দ্বারা যখন আমি তোমার উপর এর পঠন কাজ সম্পূর্ণ করে নিই।

v [2] অর্থাৎ, তার যাবতীয় বিধি-বিধান লোকদেরকে পাঠ করে শুনাও এবং তার অনুসরণও কর। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]

ثُمَّ اِنَّ عَلَیۡنَا بَیَانَهٗ ﴿ؕ۱۹

১৯. তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব নিশ্চিতভাবে আমাদেরই।(১)

v   (১) এ আয়াতসমূহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে একটি বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যা ওহী নাযিল হওয়ার সময় অবতীর্ণ আয়াতগুলো সম্পর্কিত। নির্দেশ এই যে, যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম কুরআনের কিছু আয়াত নিয়ে আগমন করতেন, তখন তা পাঠ করার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বিবিধ চিন্তায় জড়িত হয়ে পড়তেন যেন কোথায়ও এর শ্রবণ ও তদনুযায়ী পাঠে কোন পার্থক্য না হয়ে যায় বা কোথাও এর কোন অংশ, কোন বাক্য স্মৃতি থেকে উধাও না হয়ে যায়। এই চিন্তার কারণে যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম কোন আয়াত শোনাতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে সাথে পাঠ করতেন এবং জিহবা নেড়ে দ্রুত আবৃত্তি করতেন, যাতে বার বার পড়ে তা মুখস্থ করে নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই পরিশ্রম ও কষ্ট দূর করার উদ্দেশ্যে এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তাআলা কুরআন পাঠ করানো, মুখস্থ করানো ও মুসলিমদের কাছে হুবহু পেশ করানোর দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলে দিয়েছেন যে, আপনি এই উদ্দেশ্যে জিহবাকে দ্রুত নাড়া দেয়ার কষ্ট করবেন না।

v আয়াতসমুহকে আপনার অন্তরে সংরক্ষণ করা এবং হুবহু আপনার দ্বারা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। কাজেই আপনি এ চিন্তা পরিত্যাগ করুন। সুতরাং যখন আমি অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে জিবরীল আলাইহিস সালাম কুরআন পাঠ করে, তখন আপনি সাথে সাথে পাঠ করবেন না; বরং চুপ করে শুনবেন এবং আমার পাঠের পর পাঠ করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাই করতেন। তিনি জিবরীল থেকে শুনতেন তারপর জিবরীল চলে গেলে তা অনুরূপ পড়তেন যেমন জিবরীল পড়েছেন। [দেখুন: বুখারী: ৫, মুসলিম, ৪৪৮]

کَلَّا بَلۡ تُحِبُّوۡنَ الۡعَاجِلَۃَ ﴿ۙ۲۰

(২০) না, তোমরা বরং ত্বরান্বিত (পার্থিব) জীবনকে ভালবাস।

v  وَ تَذَرُوۡنَ الۡاٰخِرَۃَ ﴿ؕ۲۱

v ২১. আর তোমরা আখেরাতকে উপেক্ষা কর।(১)

v  (১) অর্থাৎ মানুষ আখেরাত অস্বীকার করে কারণ তারা সংকীর্ণমনা ও স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন; তাই তাদের দৃষ্টি কেবল এ দুনিয়ার ফলাফলের প্রতি নিবদ্ধ থাকে। আর আখেরাতে যে ফলাফলের প্রকাশ ঘটবে তাকে তারা আদৌ কোন গুরুত্ব দেয় না। তারা মনে করে, যে স্বাৰ্থ বা ভোগের উপকরণ বা আনন্দ এখানে লাভ করা সম্ভব তারই অন্বেষণে সবটুকু পরিশ্রম করা এবং প্রচেষ্টা চালানো উচিত, এভাবে তারা দুনিয়াকে চিরস্থায়ী মনে করে। [ইবন কাসীর; মুয়াসসার]

وُجُوۡهٌ یَّوۡمَئِذٍ نَّاضِرَۃٌ ﴿ۙ۲۲

(২২) সেদিন বহু মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে।

اِلٰی رَبِّهَا نَاظِرَۃٌ ﴿ۚ۲۳

২৩. তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।(১)

v    (১) অর্থাৎ সেদিন কিছু মুখমন্ডল হাসি-খুশী ও সজীব হবে এবং তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আখেরাতে জান্নাতীগণ স্বচক্ষে আল্লাহ তা'আলার দীদার (দর্শন) লাভ করবে। আহলে সুন্নাত-ওয়াল-জামা'আতের সকল আলেম ও ফেকাহবিদ এ বিষয়ে একমত। বহু সংখ্যক হাদীসে এর যে ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে তাহলো, আখেরাতে আল্লাহর নেককার বান্দাদের আল্লাহর সাক্ষাত লাভের সৌভাগ্য হবে। এক হাদীসে এসেছে, “তোমরা প্রকাশ্যে সুস্পষ্টভাবে তোমাদের রবকে দেখতে পাবে” [বুখারী: ৭৪৩৫, ৫৫৪, ৪৭৩, ৪৮৫১, ৭৪৩৪, ৭৪৩৬]

v    অন্য হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বেহশতবাসীরা বেহেশতে প্ৰবেশ করার পর আল্লাহ তা'আলা তাদের জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কি চাও যে, আমি তোমাদের আরো কিছু দান করি? তারা আরয করবে, আপনি কি আমাদের চেহারা দীপ্তিময় করেননি? আপনি কি আমাদের জান্নাতে প্ৰবেশ করাননি এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেননি? তখন আল্লাহ তাআলা পর্দা সরিয়ে দেবেন। ইতিপুর্বে তারা যেসব পুরস্কার লাভ করেছে তার কোনটিই তাদের কাছে তাদের রবের সাক্ষাতলাভের সম্মান ও সৌভাগ্য থেকে অধিক প্রিয় হবে না। এটিই হচ্ছে সে অতিরিক্ত পুরস্কার যার কথা কুরআনে এভাবে বলা হয়েছে, অর্থাৎ যারা নেক কাজ করেছে তাদের জন্য উত্তম পুরস্কার রয়েছে। আর এ ছাড়া অতিরিক্ত পুরস্কারও রয়েছে।” [সূরা ইউনুস: ২৬] [মুসলিম: ১৮১, তিরমিযী: ২৫৫২, মুসনাদে আহমাদ: ৪/৩৩৩]

v অন্য হাদীসে এসেছে, সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাবো? জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যখন মেঘের আড়াল থাকে না তখন সূর্য ও চাঁদকে দেখতে তোমাদের কি কোন কষ্ট হয়? সবাই বলল, না। তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের রবকে এরকমই স্পষ্ট দেখতে পাবে। [বুখারী: ৭৪৩৭, মুসলিম: ১৮২]

وَ وُجُوۡهٌ یَّوۡمَئِذٍۭ بَاسِرَۃٌ ﴿ۙ۲۴

(২৪) আর বহু মুখমন্ডল হয়ে পড়বে বিবর্ণ। [1]

v [1] এ রকম হবে কাফেরদের চেহারা। بَاسِرَةٌ  বিবর্ণ, ফ্যাকাসে এবং দুঃখ-দুশ্চিন্তায় কালো ও দীপ্তিহীন হবে।

تَظُنُّ اَنۡ یُّفۡعَلَ بِهَا فَاقِرَۃٌ ﴿ؕ۲۵

(২৫) এই ধারণা করবে যে, তাদের সাথে মেরুদন্ড-ভাঙ্গা আচরণ করা হবে। [1]

v [1] আর তা এই যে, জাহান্নামে তাদেরকে নিক্ষেপ করা হবে।

کَلَّاۤ اِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِیَ ﴿ۙ۲۶

২৬. অবশ্যই(১), যখন প্ৰাণ কণ্ঠাগত হবে,

v (১) এখানে كَلَّا শব্দ দ্বারা অবশ্যইঅর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। [মুয়াস্‌সার]

وَ قِیۡلَ مَنۡ ٜ رَاقٍ ﴿ۙ۲۷

(২৭) এবং বলা হবে, কেউ ঝাড়ফুঁককারী আছে কি? [1]

v  [1] অর্থাৎ, উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্য হতে কেউ এমন আছে কি, যে ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে তোমাদেরকে মৃত্যুর হাত থেকে নিষ্কৃতি দেবে। কেউ কেউ এর তরজমা এইভাবেও করেছেন যে, ‘এবং বলা হবে, (তার আত্মাকে নিয়ে আসমানে) আরোহণকারী কে?’ রহমতের ফিরিশতা, না আযাবের ফিরিশতা? এই অর্থে এটা হবে ফিরিশতাদের কথা।

وَّ ظَنَّ اَنَّهُ الۡفِرَاقُ ﴿ۙ۲۸

(২৮) সে দৃঢ়-বিশ্বাস করে নেবে, এটাই তার বিদায়ের সময়। [1]

v [1] অর্থাৎ, যার আত্মা তার কণ্ঠনালীতে এসে উপস্থিত হয়ে যাবে, সে নিশ্চিত হয়ে যাবে যে, এখন তার মাল-ধন, সন্তান-সন্ততি এবং দুনিয়ার প্রতিটি জিনিস থেকে পৃথক হয়ে বিদায় নেওয়ার পালা।

وَ الۡتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ ﴿ۙ۲۹

২৯. আর পায়ের গোছার সঙ্গে পায়ের গোছা জড়িয়ে যাবে।(১)

v   (১) ساق এর প্রসিদ্ধ অর্থ পায়ের গোছা। গোছার সাথে জড়িয়ে পড়ার এক অর্থ এই যে, তখন অস্থিরতার কারণে এক গোছা দ্বারা অন্য গোছার উপর আঘাত করবে। দ্বিতীয় অর্থ এই যে, দুর্বলতার আতিশয্যে এক পা অপর পায়ের উপর থাকলে তা সরাতে চাইলেও সক্ষম হবে নাইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তখন হবে দুনিয়ার শেষ দিন এবং আখেরাতের প্রথম দিনের সম্মিলন। তাই মানুষ দুনিয়ার শেষ দিন এবং আখেরাতের বিরহ-বেদনা এবং আখেরাতে কি হবে না হবে তার চিন্তায় পেরেশান থাকবে। অর্থাৎ সে সময় দুটি বিপদ একসাথে এসে হাজির হবে। একটি এ পৃথিবী এবং এর সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার বিপদ।। আরেকটি, একজন অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার হয়ে আখেরাতের জীবনে যাওয়ার বিপদ যার মুখোমুখি হতে হবে প্রত্যেক কাফের মুনাফিক এবং পাপীকে। [দেখুন: ইবন কাসীর]

اِلٰی رَبِّکَ یَوۡمَئِذِۣ الۡمَسَاقُ ﴿ؕ۳۰

(৩০) সেদিন তোমার প্রতিপালকের দিকেই যাত্রা হবে।

فَلَا صَدَّقَ وَ لَا صَلّٰی ﴿ۙ۳۱

(৩১) সে সত্য বলে মানেনি এবং নামায পড়েনি। [1]

v [1] অর্থাৎ, এই ব্যক্তি না রসূল (সাঃ) এবং কুরআনকে সত্যজ্ঞান করেছে, আর না নামায আদায় করেছে। অর্থাৎ, সে আল্লাহর ইবাদতও করেনি।

وَ لٰکِنۡ کَذَّبَ وَ تَوَلّٰی ﴿ۙ۳۲

(৩২) বরং সে মিথ্যা মনে করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। [1]

v [1] অর্থাৎ, রসূল (সাঃ)-কে মিথ্যাজ্ঞান করেছে এবং ঈমান আনয়ন ও আনুগত্য করা হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

ثُمَّ ذَهَبَ اِلٰۤی اَهۡلِهٖ یَتَمَطّٰی ﴿ؕ۳۳

(৩৩) অতঃপর সে তার পরিবার পরিজনের নিকট ফিরে গিয়েছিল দম্ভভরে। [1]

v [1] يَتَمَطَّى  অর্থাৎ দম্ভভরে ও অহংকারের সাথে।

اَوۡلٰی لَکَ فَاَوۡلٰی ﴿ۙ۳۴

(৩৪) দুর্ভোগ তোমার জন্য দুর্ভোগ।

ثُمَّ اَوۡلٰی لَکَ فَاَوۡلٰی ﴿ؕ۳۵

৩৫. আবার দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ!(১)

v  (১) أَوْلَىٰ  অর্থ ধ্বংস, দুর্ভোগ। সর্বনাশ হোক তোমার! মন্দ, ধ্বংস এবং দুর্ভাগ্য হোক তোমার! এখানে কাফিরদেরকে খুবই মারাত্মকভাবে সাবধান করে দেয়া হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]

v  ইবন কাসীর বলেনঃ এটি একটি শ্লেষ বাক্যও হতে পারে। কুরআন মজীদের আরো এক জায়গায় এ ধরনের বাক্য প্রয়োগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, জাহান্নামে আযাব দেয়ার সময় পাপী লোকদের বলা হবেঃ নাও, এর মজা আস্বাধন করে নাও। তুমি অতি বড় সম্মানী মানুষ কিনা।” [সূরা আদ-দুখান: ৪৯]

اَیَحۡسَبُ الۡاِنۡسَانُ اَنۡ یُّتۡرَکَ سُدًی ﴿ؕ۳۶

৩৬. মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে(১)?

v  (১) আয়াতের অর্থ হলো, মানুষ কি নিজেকে মনে করে যে তার স্রষ্টা তাকে এ পৃথিবীতে দায়িত্বহীন করে ছেড়ে দিয়েছেন? এ-কথাটিই কুরআন মজীদের অন্য একস্থানে এভাবে বলা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা কাফেরদের বলবেন, “তোমরা কি মনে করেছে যে, আমি তোমাদের অনৰ্থক সৃষ্টি করেছি? তোমাদেরকে কখনো আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না?” [সূরা আল মুমিনুন: ১১৫]

اَلَمۡ یَکُ نُطۡفَۃً مِّنۡ مَّنِیٍّ یُّمۡنٰی ﴿ۙ۳۷

(৩৭) সে কি স্খলিত শুক্রবিন্দু ছিল না?

ثُمَّ کَانَ عَلَقَۃً فَخَلَقَ فَسَوّٰی ﴿ۙ۳۸

(৩৮) অতঃপর সে রক্তপিন্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেন এবং সুঠাম বানান। [1]

v  [1] فَسَوَّى  অর্থাৎ, তাকে সুন্দর সুবিন্যস্ত করে পূর্ণ আকৃতি দিয়ে তার মধ্যে আত্মা দান করেছেন।

v        فَجَعَلَ مِنۡهُ الزَّوۡجَیۡنِ الذَّکَرَ وَ الۡاُنۡثٰی ﴿ؕ۳۹

v  (৩৯) অতঃপর তিনি তা হতে সৃষ্টি করেন জোড়া জোড়া নর ও নারী।

v        اَلَیۡسَ ذٰلِکَ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنۡ یُّحۡیِۦَ الۡمَوۡتٰی ﴿۴۰

v  ৪০. তবুও কি সে স্রষ্টা মৃতকে পুনর্জীবিত করতে সক্ষম নন?(১)

v  (১) এক বর্ণনায় এসেছে, সাহাবীগণের একজন তার ঘরের ছাদে সালাত আদায় করত; যখনই সূরা আল-কিয়ামাহ এর এ আয়াতে পৌছত তখনই সে বলত: পবিত্র ও মহান তুমি, অবশ্যই হ্যাঁ, লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে তা শুনেছি।” [আবু দাউদ: ৮৮৪]

v উক্ত আয়াত পাঠ করে বলতে হয় سُبْحَانَكَ فَبَلى (সুবহা-নাকা ফাবালা), অর্থাৎ তুমি পবিত্র, অবশ্যই (তুমি সক্ষম)। (আবূ দাঊদ ৮৮৩, ৮৮৪নং, বাইহাক্বী)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url