সুরাঃ ৭৬/ আল-ইনসান (আদ-দাহর)-এর তাফসীর
সুরাঃ ৭৬/ আল-ইনসান
(আদ-দাহর)
আয়াতঃ ৩১ মাদানী
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
هَلۡ اَتٰی عَلَی الۡاِنۡسَانِ حِیۡنٌ مِّنَ الدَّهۡرِ لَمۡ یَکُنۡ شَیۡئًا مَّذۡکُوۡرًا ﴿ ۱ ﴾
১. কালপ্রবাহ মানুষের উপর কি এমন এক সময় আসে নি(১) যখন সে বিবেচনায় ছিল না ?( ২)
v( ১) هَلۡ
অব্যয়টি সত্য প্রশ্নবোধক বোঝায়। চারদিকে কোন জাজ্বল্যমান এবং প্রকাশ্য বিষয়কে প্রশ্ন উত্তরে বাধ্য করা যায় , যাতে তার প্রকাশ্যতা আরও জোরদার হয়। [ কাদীর ] এই যে ,
যা ফাকে উদ্দেশ্য করবে ,
এ উত্তরই যোগ করবে ,
অপর কোন প্রশ্নই নেই।
v( ২) আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে , মানুষের উপর দীর্ঘ এক সময় পরপর হয়েছে ,
যখন তার নাম-নিশানা এমন কি ,
আলোচনা পর্যন্ত ছিল। আয়াতে বর্নিত “ যখন অনেক কিছু ছিল না ”
এর অর্থ বর্ননায় অংশের মত রয়েছে ,
এক. এখানে মানবসৃষ্টির পূর্বের অবস্থা ব্যাক্ত করা হয়েছে। অন্যমনে অন্ত মহাকালের মধ্যে একটি দীর্ঘ সময় তো এমনটা অনেকটাই এগিয়েছে যখন মানব প্রজাতির আদৌ কোন খেলা ছিল না। তারপর মহাকাল প্রবাহে এমন একটি সময় আসলো যখন মানুষ একটি প্রজাতির সুচনা করা হল। [কুরতুবী] দুই. সে এক ধড় ছিল যার নাম-নিশানা ছিল না। পরবর্তীতে রূহ এর মাধ্যমে তাকে বহিঃপ্রকাশ করা হয়েছে। [বাগভী ; কুরুবী]
اِنَّا خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ اَمۡشَاجٍ ٭ۖ نَّبۡتَلِیۡهِ فَجَعَلۡنٰهُ سَمِیۡعًۢا بَصِیۡرًا ﴿ ২ )
২. আমরা তো অব্যাহত করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু থেকে(১) , আমরা তাকে পরীক্ষা করব(২) ; তাই আমরা তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন।(৩)
v ( ১) এখানে মানবতার সূচনা আমার কাছে হয়েছে , আমি পাস মিশ্র বীর্য থেকে বের করেছি। বলাবাহুল্য এখানে নর ও নারী মিশ্র বীর্যনো হয়েছে। পুরুষ মানুষেরা নারী ও নারীর সামনে বীর্য দ্বারা হয়নি। বিদেশী বীর্য সংমিশ্রিত যখন তখন একটি সংমিশ্রিত বীর্য থেকে মানুষ বের হয়েছে। অধিকাংশ তফসীরবিদ তাই লেখক। [বাগভী ; কুরুবী ; ইবন কাসীর ; ফতহুল কাদীর]
v ( ২) কথায় মানবতার উদ্দেশ্য ও এই আইন। অন্য পথে উদ্দেশ্য করতে তাকে পরীক্ষা করা। [কুরতুবী]
v ( ৩) বলা হয়েছে ' আমরা তাকে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি অধিকারী ' । বিবেক বুদ্ধির অধিকারী বলেছি এর সঠিক অর্থ প্রকাশ পায়। আল্লাহ তা'আলা তাকে জ্ঞান ও বিবেক-বুদ্ধির শক্তি যাতে সে চেষ্টা করতে পারে। [কুরতুবী]
اِنَّا هَدَیۡنٰهُ السَّبِیۡلَ اِمَّا شَاکِرًا وَّ اِمَّا کَفُوۡرًا ﴿ ৩ ﴾
( ৩) নিশ্চয় আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি ; সে জ্ঞান হবে ,
না সে অকৃতজ্ঞ হবে। [ ১]
v [১] উল্লিখিত শক্তি ও যোগ্যতার সাথে আমি নিজেও আসমানী কিতা , আম্বিয়া এবং ঠিকপী আহবানকারীর মাধ্যমে সঠিক পথকে সুস্পষ্ট করেছি। এখন তার ইচ্ছার আনুগত্যের পথ অবলম্বন করে তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা গণ্য অথবা তাঁর অবাধ্যতার পথ অবলম্বন করে অকৃতজ্ঞ বান্দা৷ যেমন ,
v এক সায়ঃ মহিলা করিম ( স ) লেখক , ' নিজের আত্মার বেচা-কেনা করে। তাই তাকে মুক্তি দেয়। '' ( মূলঃ ব্যক্তিতা অধ্যায় , ওযু পরিচ্ছেদ)
v অন্যভাবে ,
নিজের আমল ও কর্মকাণ্ড দ্বারা তাকে চাট করে অথবা মুক্ত করে। যদি সে পাপকাজ করে , তাহলে চ্যাট করে। আর যদি পুণ্যকাজ করে ,
তাহলে সে আত্মাকে মুক্তি দেয়। [ তাফসীরে আহসানুল বায়ান ]
اِنَّاۤ اَعۡتَدۡنَا لِلۡکٰفِرِیۡنَ سَلٰسِلَا۠ وَ اَغۡلٰلًا وَّ سَعِیۡرًا ﴿ ৪ ﴾
৪. আমরা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করছি শেকল ,
নিশ্চয়ই গলার বেড়ি ও লেলিহান আগুন।(১)
v ( ১) তাদের মধ্যকার কাফেরদের জন্য রয়েছে শিকল , বেড়ি ও জান্নাম । আর তথ্য ও ইবাদত পালনকারীদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত নি ' আমত। [কুরতুবী] তাফসীরে জাকারিয়া
اِنَّ الۡاَبۡرَارَ یَشۡرَبُوۡنَ مِنۡ کَاۡسٍ کَانَ مِزَاجُهَا کَافُوۡرًا ۚ ﴿ ৫ ﴾
৫. সৎ কর্মেরা(১) পান করবে এমন পূর্নপাত্র-পানীয় যার মিলন হবে কাফূর(২)
v ( ১) তারা এমন সব মানুষ যারা তাদের রবের আগত করেছে ,
তার পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব ও পালন করেছে এবং তার পক্ষ থেকে কর্তব্য থেকে কাজ করা হয়েছে। [কুরতুবী]
v ( ২) প্রথাম পানীয় কবের উল্লেখ করা হয়েছে যে , সর্ব্ব এমন শরাবের পাত্র দেওয়া হবে ,
যাতে কাফুরের মিল থাকবে। ভিন্নতা তা এমন একটি প্রাকৃতিক ঝর্ণাধারা যার পানি হবে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন এবং শীতল তার খোশবু আর সম্পূর্ণ কপূরের মত হবে।
v কোন কোন তফসীরকারক বলেনঃ কাফুর জান্নাতের একটি ঝরনার নাম। এই শরাবের শক্তি ও গুণ বৃদ্ধি করার জন্য এই শরাবের এই ঝরনার পানি মিলানো হবে। যদি কাফুরের প্রসিদ্ধ অর্থ হয় ,
তবে জরুরী নয় যে ,
জান্নাতের কাফুর দুনিয়া কাফুরের ন্যায় অখাদ্য হবে। সেই কাফুরের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হবে। [দেখুন: কুরুবী ;
ইবন কাসীর]
عَیۡنًا یَّشۡرَبُ بِهَا عِبَادُ اللّٰهِ یُفَجِّرُوۡنَهَا تَفۡجِیۡرًا ﴿ ৬ ﴾
৬. এমন একটি প্রস্রবণ যা থেকে ফরেন বান্দাগণ(১) পান করবে , তারা এ প্রস্রবণকে যথেচ্ছা প্রবাহিত করবে।(২)
v ( ১) ' ওয়ারনে বান্দাগণ '
' রহমানের বান্দাগণ '
শব্দগুলো আভিধানিক অর্থে সমস্ত মানুষের জন্য চিহ্নিত হতে পারে। কারণ ওয়ার্নিয়া বান্দা। কিন্তু তা সত্বা সতর্ক মদেকে এ ধরনের শব্দ গঠন করা হয়েছে। অসৎ লোক , যারা নিজেদেরকে ভয় দেখিয়ে বন্দেগীর দাসত্বের উল্লিখিত , তারা কোরার এর যোগ্য-ই নয় , আল্লাহ তা'আলা ' আলা পবিত্র নিজের মহান ব্যক্তিত্বের সাথে যুক্ত হবেন অথবা এর মতো সম্মানিত উপাধিতে ভূষিত হবেন৷
v ( ২) অন্যদের জান্নাতের মধ্যে যেখানে তারা চাইবে সেখানেই ঝর্ণা বইতে থাকবে। এ জন্য তাদের নির্দেশ বা ইঙ্গিতই যথেষ্ট। [ইবন কাসীর]
یُوۡفُوۡنَ بِالنَّذۡرِ وَ یَخَافُوۡنَ یَوۡمًا کَانَ شَرُّهٗ مُسۡتَطِیۡرًا ﴿ ৭ ﴾
৭. তারা মানত করে(১) এবং সে সম্পূর্ণ ভয় করে ,
যে নিরাপদ অকল্যাণ হবে।
v ( ১) গানতৃত যে ,
সৎকর্মশীল বান্দা গণকে মুসলিম নি ' আম কিসের বিধান প্রকাশ করতে হবে। অন্যরা তারা ওয়াস্তে যে জানায় তা মানত করে , তা পূর্ণ করে।
v ' মান '
বলা হয় নিজের জন্য কোন কাজ ওয়াজিব করে , যা শরীয়তের তরফ থেকে তার দায়িত্বে ওয়াজিব নয়। এরূপ মানত পূর্ণ করা শরীয়তের আইনে ওয়াজিব। [কুরতুবী]
v
v কেবলমাত্র এক ওয়ারেন্ডার ইবাদত ও আনুগত্য করে । মানতাও কেবল সতর্কতার জন্য এবং তা পূরণ করে। ' এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে ,
মানত পূরণ করা জরুরী। তবে শর্ত হল ,
তা কোন পাপ না করা হয়। কেননা ,
v যে ব্যক্তি তার কাছে , ' যে এই মানত সে , সে তার আনুগত্য করবে ,
সে তার আনুগত্য করবে। আর যে ব্যক্তি মানত করে সে , সে ভয়ে অবাধ্যতা করবে , সে তার আবদীয়তা না করবে। ''
( বুখারীঃ তথ্য অধ্যায় , নেক কর্মে নযর পূরণ করা)
وَ یُطۡعِمُوۡنَ الطَّعَامَ عَلٰی حُبِّهٖ مِسۡکِیۡنًا وَّ یَتِیۡمًا وَّ اَسِیۡرًا ﴿ ৮ ﴾
৮. আর তারা মহব্বত শান্তি সাপেক্ষে(১) অভাবগ্রস্ত ,
ইয়াতীম ও বন্দীকে (২) খাবারদান করে(৩) ,
v ( ১) অন্যান্য জান্নাতের ইসলাম মতবাদ এ কারণেও যে , তারা দুনিয়াতে অভাবগ্রস্ত ,
এতিম ও বন্দকে আহার্য দান করত। অধিকাংশ তাফসীরকারের , এখানে হাبه এর সর্বনাম দ্বারা طعام বা খাবার উদ্দেশ্য। অন্য খাদ্য অত্যন্ত ও প্রিয় সত্বেও এবং নিজের খাদ্যের মুখাপেক্ষী সত্বেও নেককার তা অন্যদেরকে দেখেন।
v আবু সুলাইমান আদ-দারনী বলেন , হাبه এর সর্বনাম দ্বারা বলাঃ তা ' আলা উদ্দেশ্য দ্বারা বলা হয়েছে। তারা আল্লাহ তা ' আলার মহব্বতে এরূপ করে থাকে। পরবর্তী আয়াত ' আমরা সন্তুষ্টিভের উদ্দেশ্যের কথা '
এ অর্থ সমর্থন করে। [কুরতুবী ;
ইবন কাসীর]
v ( ২) এ আয়াতে বন্দী বলতে কাফের পালক বা গ্রুপ , যুদ্ধবন্দী বা অপরাধের কারণে বন্দীকে সব বন্দীকে বলা হয়েছে। বন্দী পবিত্র খাদ্য সংগ্রহ ,
মুসলিম সহ অমুসলিম ,
সর্বোত্তম একজন একজন অজ্ঞায়- যে তার খাবারের চেষ্টা করতে পারে না- নিজের কাজকে আরও বড় সওয়াবের। [দেখুন: কুর্তুবী]
v ( ৩) গরীবকে চিহ্নিত করার জন্য বড় নেক কাজ , কিন্তু কোন অভাবী মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা একজন খুধার্ত নিজের সক্রিয় মতই নেক কাজ। এ
v কল্লে থানা পুলিশ নেতাকে বলেন ,
“ তোমরা কয়েদি মুক্তি ,
ক্ষুধাকে আন্দোলনও এবং অনুরোধদের সুশ্রুষা কর ” । [বুখারী: ৩০৪৬]
اِنَّمَا نُطۡعِمُکُمۡ لِوَجۡهِ اللّٰهِ لَا نُرِیۡدُ مِنۡکُمۡ جَزَآءً وَّ لَا شُکُوۡرًا ﴿ ۹ ﴾
৯. এবং বলে , শুধু ওয়ার্করা সস্তু আমরা কাছের কাছে লাভের উদ্দেশ্যে আমরা আমাদেরকে খাবার দান করি , আমরা থেকে প্রতিদান চাই না ,
জ্ঞানতাও নয়।(১)
v ( ১) গরীবদের খাবার সময় একথা বলতে হবে
এমনটা জরুরী নয়। মনে মনে একথা বলা যেতে পারে। যে মর্যাদা অন্তরেও সে একই মর্যাদা। তবে একথা উল্লেখ করা হয়েছে যে এ জন্য , যাকে সাহায্য করা হবে তাকে নিশ্চিত করা যায় , আমরা তার জন্য কোন প্রকার কৃতজ্ঞতা বা উত্তর দিতে চাই না ,
যাতে চিন্তামুক্ত হতে জানতে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। [ইবন কাসীর]
اِنَّا نَخَافُ مِنۡ رَّبِّنَا یَوۡمًا عَبُوۡسًا قَمۡطَرِیۡرًا ﴿ ১০ ﴾
১০. আমরা নিশ্চয়ই আশংকা করি আমাদের কাছের কাছ থেকে এক ভীতিপ্রদ ভয়ঙ্কর।
فَوَقٰهُمُ اللّٰهُ شَرَّ ذٰلِکَ الۡیَوۡمِ وَ لَقّٰهُمۡ نَضۡرَۃً وَّ سُرُوۡرًا ﴿ۚ ۱۱ ﴾
১১. পরিণামে আল্লাহ পাক তিনি অনিষ্ট হতে পারবেন এবং বর্ণন প্রদান করবেন হাস্যোজ্জ্বলতা ওপল্লতা (১)
v ( ১) অন্য চেহারার সজীবতা ও মনের আনন্দ। অন্য কথায় কিয়ামতের তীব্রতা ও শক্তিতা শুধু কাফেরদের জন্য নির্দিষ্ট হবে। নেকারের সাথে কথোপকথন সব ধরনের দুঃখ-কষ্ট থেকে পাঠ থাকবে এবং আনন্দিত ও পড়ফুল্ল হবে।
v একথাটি অন্যত্র বলা হয়েছেঃ “ কথাটা জ্ঞান কর সে অবস্থা অস্থির ও বিহবল করবে না। ফেরেশতারা অগ্রসর হওয়া অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাদের গ্রহণ করবে এবং বলবে এটা আমার প্রতিশ্রুতি ” [ সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৩]
v এ বিষয়ে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি ব্যক্তি ব্যক্তি আরোগ্য করে , " যে ব্যক্তি সৎকাজ নিয়ে তার পক্ষে আরো উত্তম প্রতিদান লাভ করবে। সর্বলোক লোকের সংখ্যারতা থেকে পাঠও থাকবে। ” [ সূরা আন-নামল: ৮৯]
وَ جَزٰىهُمۡ بِمَا صَبَرُوۡا جَنَّۃً وَّ حَرِیۡرًا ﴿ۙ ১২ ﴾
১২. আর তাদের সবরের(১) তিনি পছন্দ করবেন। উদ্যান ও রেশমী সভা।
v ( ১) এখানে সবর '
শব্দটি ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থে গঠন করা হয়েছে। কথায়পক্ষে সৎ কর্মশীল জ্ঞানদার গণের গোটা পার্থিব জীবন ' সবর ' বা ধৈর্যের জীবন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জ্ঞান বা তথ্য জানানোর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কোন আমার নিজের আশা আকাখাকে অবদমিত করা হয়েছে , সতর্ক করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ,
ফরয ফরয পালন করা হচ্ছে , হাওয়া পালন
করতে হবে এই রূপ লাভ ও ভোগের সীমারেখা সত্য পরিমাপ করা , ওপ্রীতি সেই কারণে। মর্মবেদনা ও দুঃখ-কষ্টে এসে পৌঁছেছে তা বরদাশত করা- এসবই ওয়াদারের উপর আস্থা রাখা যে , এ সদাচরণের সুফল খুব সুন্দরভাবে সম্ভব হবে না। এটা এমন একটা কর্মপন্থী যা মুর গোটা জীবন সব কিছু রূপান্তরিত করে। এটা সাংসনিক সবর , স্থায়ী সবর ,
সর্বাত্মক এবং সর্বজীবনের সবর। [দেখুন: সা ' দী]
مُّتَّکِـِٕیۡنَ فِیۡهَا عَلَی الۡاَرَآئِکِ ۚ لَا یَرَوۡنَ فِیۡهَا شَمۡسًا وَّ لَا زَمۡهَرِیۡرًا ﴿ۚ ১৩ ﴾
১৩। সেখানে তারা হেলান আসীন সুসজ্জিত থাকবে (,
তারা সেখানে খুব গরম অথবা খুব শীত দেখবে না।
v ( ১) কারণ খুব গরম ও খুব শীত তো জাহান্নাম থেকে নিরত হয়। নাগরিকরা খুশি কোনভাবেই তুমি না।
v অনেকের কাছে ,
গুরুত্বপূর্ণ পদে সাল্লাম বলেন , “ জাহান্নাম তার রাবের কাছে অভিযোগ করেছেন যে ,
হেরব! আমার এক অংশ (গরম অংশ) অপর অংশ (ঠাণ্ডা অংশ)কে শেষ করে দিল। তখন তাকে নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দেওয়া। একটি শীতকাল অপর কালে গ্রীষ্ম কাল। অন্তর্ভুক্তি তা তোমরা কঠিন উত্তেজিত উত্তেজিত গ্রীষ্ম কাল পাও এবং কঠিন উত্তেজিত ঠান্ডা কালেও। ” [ বুখারী: ৩২৬০ ,
মুসলিম: ৬১৭]
وَ دَانِیَۃً عَلَیۡهِمۡ ظِلٰلُهَا وَ ذُلِّلَتۡ قُطُوۡفُهَا تَذۡلِیۡلًا ﴿ ১৪ ﴾
১৪। আর তাদের উপর সন্নিহিত গাছের ছায়া থাকবে এবং তার ফলমূল থোকাসমূহ সম্পূর্ণ তাদের আয়ত্তে আনতে হবে।
وَ یُطَافُ عَلَیۡهِمۡ بِاٰنِیَۃٍ مِّنۡ فِضَّۃٍ وَّ اَکۡوَابٍ کَانَتۡ قَؔوَارِیۡرَا۠ ﴿ۙ ۱۵ ﴾
১৫। আর তাদের উপর প্রাকৃতিক পরিবেশ করতে হবে রপ্যপাত(১) এবং স্ফটিক-স্বচ্ছ পানপাত্রে —
قَؔوَارِیۡرَا۠ مِنۡ فِضَّۃٍ قَدَّرُوۡهَا تَقۡدِیۡرًا ﴿ ১৬ ﴾
১৬। রূপ স্ফটিক পাত্রে(১) , তারা তাতার করবে সম্পূর্ণ-পরিমিত।(২)
v ( ১) দুনিয়ার রৌপ্য-পাত্র গাঢ় ও মোটা হয়ে থাকে-আয়নার মত স্বচ্ছ না হয়। পার্টির কাঞ্চ নির্মিত পাত্র রৌপ্যের মত শুভ্র না। দুইয়ের মধ্যে বৈপরীত্য আছে ,
কিন্তু জান্নাতের বৈশিষ্ট্য এই যে ,
বহিকার রৌপ্য আয়নার মত স্বচ্ছ হবে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন জান্নাতের সব নজীর দুনিয়াতেও পাওয়া যায়। তবে দুনিয়ার রৌপ্য নির্মিত গ্রাস পাত্র: জান্নাত পাত্রের ন্যায় স্বচ্ছ নয়। [ইবন কাসীর]
v ( ২) অন্য ব্যক্তিকে তার চাহিদাপত্রে ভরে দিতে হবে। তাদের চাহিদা কম হবে না। অন্য কথায় ,
জান্নাতের খাদেমরা এত সতর্কতা এবং সুবিবেচক হবে যে , যাকে তারা পানিপাত্র পরিবেশন করবে: সে কি হবে শরাব পান করতে চায় সে সম্পর্কে তারা সম্পর্কে আন্দাজ করতে সুবিধা। এর ব্যাসিক অর্থ হতে পারে , আমার নিজের ইচ্ছা তাদের ইচ্ছানুসারে জান্নাত জানাতে হবে। [সা ' দী]
وَ یُسۡقَوۡنَ فِیۡهَا کَاۡسًا کَانَ مِزَاجُهَا زَنۡجَبِیۡلًا ﴿ۚ ۱۷ ﴾
১৭। আর সেখানে খাবার পান করা হবে যাজাবীল মিশ্রিত পূর্ণতা পানীয় (১) ,
v ( ১) যানজল এর প্রসিদ্ধ অর্থ শুকনা আদা। কাতাদা বলেন , যানজাবিল বা আদা মিশ্রিত হবে। [আত-তাফসীরুস সহীহ] সর্বরা শরাবে এর পছন্দ করা। তাইও জান্নাত পছন্দ করা হয়েছে। স্থায়ী: ও দুনিয়ার কেপই কেবল অভিন্ন। বৈশিষ্ট্য দুইয়ের মধ্যে অনেক ব্যাবধান। তাই দুনিয়ার আদার আলোকে আদাকে জান্নাতের উপায় নেই। [হুহুল কাদীর] মুজাহিদ বলেন , যান একটি ঝর্ণাধারা বর্ণনা করা হয়েছে , যা থেকে ' তবে মুকারবীন ' বা নৈকট্যবান ব্যক্তি গণ পান করবে। [ফাতহুল কাদির]
عَیۡنًا فِیۡهَا تُسَمّٰی سَلۡسَبِیۡلًا ﴿ ১৮ ﴾
১৮. এমন এক প্রস্রব করা ,
যার নাম সালসাবীল জান্নাত।(১)
v ( ১) অন্য তা একটি প্রাকৃতিক ঝর্ণাধারা যার নাম হবে ' সালসাবীল ' ৷
v এক জোটে আসমী আসমী ,
জনৈক দীঘি খোলার সাল্লামকে কেন্দ্র করে , যখন এ যমান ও অন্য আসান ও আসমান পরিবর্তন হবে তখন মানুষ নিচে থাকবে ? স্থান উত্তোলন ওয়াসাল্লাম বললেন , তারা পুলসিরাতের কাছে অন্ধকারে থাকবে। ইয়াহুদী আবার যোগ ,
সর্বপ্রথম পারবে ?
দরদ্র মুহাজির গণ ।
ইয়াহুদী বলে ,
জান্নাতের সময় তাদের উপঢৌকন কি ?
মহাদেব বললেন ,
মাছের পেটের কলিজা ,
ইয়াহু দত্ত ,
তাকে কি বোঝানো হবে ?
স্থান বললেন ,
জান্নাতের একটি ষাড় তাদের জন্য জবাই করা হবে তারা তার অংশ থেকে খাবে। ইয়াহুদী কথা , তাদের পানীয় কি হবে ?
স্থান উত্তোলন ওয়াসাল্লাম বললেন , একটি ঝর্ণাধারা থেকে যার নাম হবে সালসাবীল। সম্প্রদায়: ৩১৫]
وَ یَطُوۡفُ عَلَیۡهِمۡ وِلۡدَانٌ مُّخَلَّدُوۡنَ ۚ اِذَا رَاَیۡتَهُمۡ حَسِبۡتَهُمۡ لُؤۡلُؤًا مَّنۡثُوۡرًا ﴿ ১৯ ﴾
১৯। আর তাদের উপর প্রদক্ষিণ চির শান্তি গণ ,
যখন আলোচনা দেখবেন তখন মনে করবেন আপনি তারা বিক্ষিপ্ত মুক্ত করবেন।
وَ اِذَا رَاَیۡتَ ثَمَّ رَاَیۡتَ نَعِیۡمًا وَّ مُلۡکًا کَبِیۡرًا ﴿ ২০ ﴾
২০। আর আপনি যখন সেখানে দেখবেন , দেখতে পাবেন স্বচ্ছন্দ্য এবং বড় গ্রুপ।
عٰلِیَهُمۡ ثِیَابُ سُنۡدُسٍ خُضۡرٌ وَّ اِسۡتَبۡرَقٌ ۫ وَّ حُلُّوۡۤا اَسَاوِرَ مِنۡ فِضَّۃٍ ۚ وَ سَقٰهُمۡ رَبُّهُمۡ رَبُّهُ ﴿ وَ سَقٰهُمۡ رَبُّہُ ﴾
২১। তাদের আবরণ হবে সুক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম ,
আর তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কঙ্কনে(১) , আর তাদের রব কালে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।
v ( ১) আয়াতে হবে أساور শব্দটি সওয়ার এর বহুবচন অর্থ কঙ্কন যা হাতে পালন করার অলংকারবিশেষ। এই আয়াতে রূপার কঙ্কন এবং অন্য আয়াতে স্বর্ণের কঙ্কন উল্লেখ করা হয়েছে [যেমন: সূরা আল-কাহফ: ৩১ ,
আল-হাজ্জ: ২৩ ,
ফাতির: ৩৩] কয়েক দুইজনের মধ্যে বিরোধ নেই। কোন সময় রূপার এবং কোন সময় স্বর্ণের কঙ্কন হতে পারে। অথবা মনমতো কেউ রূপার এবং কেউ স্বর্ণের ব্যবহার করতে পারে। [ফাতহুল কাদির]
اِنَّ هٰذَا کَانَ لَکُمۡ جَزَآءً وَّ کَانَ سَعۡیُکُمۡ مَّشۡکُوۡرًا ﴿ ۲۲ ﴾
( ২২) (বলা হবে) নিশ্চয়ই আমাদেরকে জানাবেন এবং তাদের কর্মপ্রস্তার স্বীকৃত।
اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ تَنۡزِیۡلًا ﴿ۚ ۲۳ ﴾
২৩। আমরা নিশ্চয়ই আপনার প্রতি নাযিল করেছি।
فَاصۡبِرۡ لِحُکۡمِ رَبِّکَ وَ لَا تُطِعۡ مِنۡهُمۡ اٰثِمًا اَوۡ کَفُوۡرًا ﴿٤ ﴾
২৪। আপনিই আপনার ধৈর্যের সাথে আপনার রাবের নির্দেশ প্রতীক্ষা করুন এবং তাদের মধ্য থেকে কোন পাপিষ্ঠ বা ঘোর অজ্ঞান কাফির অনুগত করবেন না।
وَ اذۡکُرِ اسۡمَ رَبِّکَ بُکۡرَۃً وَّ اَصِیۡلًا ﴿ۖۚ ২৫ ﴾
২৫। আর আপনার বেরের নাম প্রকাশ করুন সকাল ও সন্ধ্যায়।
وَ مِنَ الَّیۡلِ فَاسۡجُدۡ لَهٗ وَ سَبِّحۡهُ لَیۡلًا طَوِیۡلًا ﴿২৬ ﴾
২৬। আর রাতের কিছু অংশে তাঁর প্রতি সিদাবনত হোন আর রাতের দীর্ঘ সময় তার নীতিতা ও মহিমা চলে যান।
اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ یُحِبُّوۡنَ الۡعَاجِلَۃَ وَ یَذَرُوۡنَ وَرَآءَهُمۡ یَوۡمًا ثَقِیۡلًا ﴿ ۲۷ ﴾
২৭। নিশ্চয় তারা শান্তিতে দুনিয়ার জীবনকে আর তারা তাদের কঠিন দিনকে উপেক্ষা করে।(১)
v ( ১) দ্বিতীয় মক্কার কাফেররা যে আখলাক আকীদা-বিশ্বাসের যোগসূত্রের কারণে গোমরাহীকে আঁকড়ে ধরেন এবং তাদের কান নারী স্বাল্লামের সত্যের প্রতি বানের অমনী , আমার পক্ষের সে কারণ , তাদের দুনিয়া-পূজা এবং আখেরাত সম্পর্কে নিরুদ্বগ্নতা , উদাসীন ভাবাতা ওপরোয়া । [দেখুন: ফতহুল কাদীর]
نَحۡنُ خَلَقۡنٰهُمۡ وَ شَدَدۡنَاۤ اَسۡرَهُمۡ ۚ وَ اِذَا شِئۡنَا بَدَّلۡنَاۤ اَمۡثَالَهُمۡ تَبۡدِیۡلًا ﴿ ۲۸ ﴾
২৮। আমরা শুরু করেছি এবং তাদের গঠন করেছি সুদৃঢ়। আর আমরা যখন চাইব তাদের মত (কাউকে) পরিবর্তন করে দেব(১)
v ( ১) আয়াতের অংশের অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ হতে পারে ,
যখনই ইচ্ছা আমি তাদের চতুর্মাত্রিক ব্যক্তিদের নিয়ে আসতে পারি , তাদের কাজ-কর্ম আচার-আচরণে ভিন্ন প্রকৃতির হতে হবে। এর দ্বিতীয় অর্থ ,
যখনই ইচ্ছা আমি হতে পারে উত্তর-আকৃতি ও গুণাগুণ নিকৃষ্ট পরিবর্তন করতে পারি। [কুরতুবী]
اِنَّ هٰذِهٖ تَذۡکِرَۃٌ ۚ فَمَنۡ شَآءَ اتَّخَذَ اِلٰی رَبِّهٖ سَبِیۡلًا ﴿ ২৯ ﴾
২৯। নিশ্চয় এটা এক উপদেশ , তাই ইচ্ছা করে তার রাবের দিকে একটি পথ গ্রহণ করে।
وَ مَا تَشَآءُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ﴿٭ۖ ৩০ ﴾
৩০। আর তোমরা ইচ্ছা করতে পারবে না। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞ , প্রজ্ঞাময়।
v ( যথাযজ্ঞ ,
ব্যর্থতা ইচ্ছা ব্যাতিরেকে তাদের ইচ্ছা কোন সফল হতে পারে না।) বোঝাবে , তাদের মধ্যে এ সামর্থ্য নেই ,
সে হিদায়াতের পথ প্রতিষ্ঠা করবে এবং নিজের জন্য কোন কল্যাণ ব্যবস্থা করবে। হ্যাঁ , যদি আমি চান তবে এ রকম করা সম্ভব হবে। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া তোমরা করতে পারবে না। তবে মনের নিয়ত (সংকল্প) সৎ ও সঠিক হলে তিনি নেকি দেবেন।
v إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى '' সমস্ত কাজ (এর নেকী) নিয়তের উপর নেকিশীল। আর কোন ব্যক্তি তা-ই তুমি , যার সে নিয়ত করবে। '' ( বুখারী)
یُّدۡخِلُ مَنۡ یَّشَآءُ فِیۡ رَحۡمَتِهٖ ؕ وَ الظّٰلِمِیۡنَ اَعَدَّ لَهُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ﴿ ৩১ ﴾
৩১। তিনি যাকে চান তাঁর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত , কিন্তু যালেমরা — তাদের জন্য তিনি প্রস্তুত প্লেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
.jpeg)