সূরাঃ ৭৭/ আল-মুরসালাত | Al-Mursalat | سورة المرسلات
سورة المرسلات আয়াতঃ ৫০ মাক্কী
بِسْمِ
اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
وَ الۡمُرۡسَلٰتِ عُرۡفًا ۙ﴿۱﴾
১. শপথ কল্যাণ
স্বরূপ প্রেরিত অবিরাম বায়ুর। [1]
· [1] এই অর্থের দিক দিয়ে عُرْفًا এর মানে হবে
অবিরাম।
· কেউ কেউ مُرْسَلاَتٌ থেকে ফিরিশতা অথবা
আম্বিয়া অর্থ নিয়েছেন।
· এই ক্ষেত্রে عُرْفًا এর অর্থ হবে
আল্লাহর অহী বা শরীয়তের বিধি-বিধান।
· আরবী ব্যাকরণ
অনুযায়ী এটা হল ‘মাফউল লাহু’ অর্থাৎ,
لأَجْلِ الْعُرْفِ
অথবা ‘যের’ দানকারী হরফকে বাদ দেওয়ার কারণে তাতে ‘যবর’
হয়েছে;
আসলে ছিল بِالْعُرْفِ [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
فَالۡعٰصِفٰتِ عَصۡفًا ۙ﴿۲﴾
(২) আর প্রলয়ঙ্করী
ঝটিকার,
[1]
· [1] অথবা সেই ফিরিশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে,
যাদেরকে কোন কোন
সময় ঝড়ের আযাবের সাথে প্রেরণ করা হয়। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
وَّ النّٰشِرٰتِ نَشۡرًا ۙ﴿۳﴾
(৩) শপথ মেঘমালা-সঞ্চালনকারী বায়ুর। [1]
· [1] অথবা সেই ফিরিশতাদের শপথ! যারা মেঘমালা বিস্তৃত করে কিংবা
যারা মহাশূন্যে নিজেদের ডানা প্রসারিত করে।
· তবে ইমাম ইবনে
কাসীর (রঃ) এবং ইমাম ত্বাবারী (রঃ) (المرسَلات،
العاصِفَات، الناشِرات) এই তিন শব্দ থেকে হাওয়া অর্থ
নেওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
فَالۡفٰرِقٰتِ فَرۡقًا ۙ﴿۴﴾
(৪) শপথ
মেঘমালা-বিক্ষিপ্তকারী বায়ুর, [1]
· [1] অথবা সেই ফিরিশতাদের কসম! যারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে
পার্থক্যসূচক যাবতীয় বিধি-বিধান নিয়ে অবতরণ করে। অথবা উদ্দেশ্য কুরআনের আয়াতসমূহ;
যার দ্বারা সত্য
ও মিথ্যা এবং হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। কিংবা রসূল (সাঃ)-কে
বুঝানো হয়েছে, যিনি আল্লাহর অহীর মাধ্যমে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য
সুস্পষ্ট করেন। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
فَالۡمُلۡقِیٰتِ ذِکۡرًا ۙ﴿۵﴾
৫. অতঃপর তাদের, যারা মানুষের
অন্তরে পৌছে দেয় উপদেশ—(১)
· (১) এই সূরার প্রথমে আল্লাহ্ তা'আলা পাঁচটি বস্তুর শপথ করে কেয়ামতের
নিশ্চিত আগমনের কথা ব্যক্ত করেছেন। যে পাঁচটি জিনিসের শপথ করা হয়েছে কুরআনুল
কারাম সেগুলোকে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেনি, বরং সেগুলোর নামের পরিবর্তে পাঁচটি
বিশেষণ উল্লেখ করেছে। যেমন বলা হয়েছে,
· (এক) একের পর এক প্রেরিত বা কল্যাণ হিসেবে প্রেরিত,
· (দুই) অত্যন্ত দ্রুত এবং প্রচন্ডবেগে প্রবাহিত,
· (তিন) ভালভাবে বিক্ষিপ্তকারী,
· (চার) ভালভাবে বিচ্ছিন্নকারী এবং
· (পাঁচ) স্মরণকে
জাগ্রতকারী। লক্ষণীয় যে, এগুলো কোন প্ৰাণী বা বস্তুর বিশেষণ,
নাম নয়। কিন্তু
এগুলো কার বিশেষণ তা পুরোপুরি নির্দিষ্ট করা হয় নি।
عُذۡرًا اَوۡ نُذۡرًا ۙ﴿۶﴾
৬. ওযর-আপত্তি
রহিতকরণ ও সতর্ক করার জন্য(১),
· (১) এ আয়াতটি আগের আয়াতের সাথে সম্পূক্ত। বলা হয়েছে,
যে ফেরেশতারা যে
উপদেশ ও ওহী নিয়ে আসে তার মাধ্যমে সৃষ্টির পক্ষ থেকে ওজর পেশ করার সুযোগ বন্ধ করা
এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাবের ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য থাকে।
اِنَّمَا تُوۡعَدُوۡنَ لَوَاقِعٌ ؕ﴿۷﴾
(৭) নিশ্চয়ই
তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তা অবশ্যম্ভাবী। [1]
· [1] শপথ গ্রহণ করার অর্থ হল যে কথার জন্য শপথ গ্রহণ করা হয় সে
কথার গুরুত্বকে শ্রোতাদের কাছে স্পষ্ট করা এবং তার সত্যতাকে প্রকাশ করা। কসমের
জওয়াব হল, তোমাদের সাথে কিয়ামতের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে তা অবশ্যই
সংঘটিত হবে।
فَاِذَا النُّجُوۡمُ طُمِسَتۡ ۙ﴿۸﴾
(৮) যখন নক্ষত্ররাজির
আলো নির্বাপিত হবে। [1]
· [1] طَمْسٌ এর অর্থ,
মিটে যাওয়া এবং
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ, যখন তারকার জ্যোতি নিঃশেষ হয়ে যাবে;
এমন কি তার কোন
চিহ্ন পর্যন্ত থাকবে না। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
وَ اِذَا السَّمَآءُ فُرِجَتۡ ۙ﴿۹﴾
(৯) যখন আকাশ
বিদীর্ণ হবে।
وَ اِذَا الۡجِبَالُ نُسِفَتۡ ﴿ۙ۱۰﴾
১০. আর যখন
পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে,
وَ اِذَا الرُّسُلُ اُقِّتَتۡ ﴿ؕ۱۱﴾
(১১) এবং রসূলগণকে
নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত করা হবে। [1]
· [1] অর্থাৎ, বিচার-ফায়সালার জন্য। তাঁদের বয়ানসমূহ
শুনে তাঁদের সম্প্রদায়ের ব্যাপারে ফায়সালা করা হবে। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
لِاَیِّ یَوۡمٍ اُجِّلَتۡ ﴿ؕ۱۲﴾
(১২) এই সমুদয়
বিলম্বিত করা হয়েছে কোন্ দিবসের জন্য? [1]
· [1] এখানে জিজ্ঞাসা মাহাত্ম্য ও বিস্ময় প্রকাশের জন্য। অর্থাৎ,
কি মহান দিনের
জন্য, ঐ নবীদেরকে একত্রিত হওয়ার সময় বিলম্বিত করা হয়েছে;
যেদিনের কঠিনতা
এবং ভয়াবহতা মানুষের জন্য বড়ই বিস্ময়কর হবে। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
لِیَوۡمِ الۡفَصۡلِ ﴿ۚ۱۳﴾
(১৩) ফায়সালা দিবসের
জন্য। [1]
· [1] অর্থাৎ, যেদিন লোকদের মাঝে ফায়সালা
করা হবে। সেদিন কেউ যাবে জান্নাতে,
আর কেউ যাবে
জাহান্নামে। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
وَ مَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا یَوۡمُ الۡفَصۡلِ ﴿ؕ۱۴﴾
(১৪) কিসে তোমাকে
জানাল,
ফায়সালা দিবস কি?
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۱۵﴾
১৫. সেদিন দুর্ভোগ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য।(১)
· (১) ويل
দ্বারা উদ্দেশ্য ধ্বংস, দুর্ভোগ। অর্থাৎ কতই না দুর্ভোগ ও ধ্বংস রয়েছে
সেসব লোকের জন্য, যারা সেদিনের আগমনের খবরকে মিথ্যা বলে মনে করেছিল। আল্লাহ
তাদেরকে শপথ করে বলেছেন, কিন্তু তারা তা বিশ্বাস করে নি। ফলে তারা
কঠোর ও কঠিন শাস্তির যোগ্য হয়ে উঠল। [সা’দী]
اَلَمۡ نُهۡلِکِ الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿ؕ۱۶﴾
(১৬) আমি কি
পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করিনি?
ثُمَّ نُتۡبِعُهُمُ الۡاٰخِرِیۡنَ ﴿۱۷﴾
১৭. তারপর আমরা
পরবর্তীদেরকে তাদের অনুগামী করব।(১)
· (১) এটা আখেরাতের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক প্রমাণ। এতে বর্তমান
লোকদেরকে অতীত লোকদের অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ করতে বলা হয়েছে। আদ,
সামুদ,
কাওমে লুত,
কাওমে-ফিরআউন
ইত্যাদিকে আল্লাহ ধ্বংস করেছেন। সে ধারাবাহিকতায় মক্কার কাফেরদেরকেও তিনি ধ্বংস
করবেন। [দেখুন: তাবারী; ফাতহুল কাদীর]
· এই আযাব বদর,
ওহুদ প্রভৃতি
যুদ্ধে তাদের উপর পতিত হয়েছে। আর যদি দুনিয়াতে সে আযাব নাও আসে,
আখেরাতে তা
অবশ্যই আসবে। [ফাতহুল কাদীর]
کَذٰلِکَ نَفۡعَلُ بِالۡمُجۡرِمِیۡنَ ﴿۱۸﴾
(১৮) অপরাধীদের
প্রতি আমি এরূপই করে থাকি। [1]
· [1] অর্থাৎ, শাস্তি দিই দুনিয়াতে অথবা আখেরাতে। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۱۹﴾
(১৯) সেদিন দুর্ভোগ
মিথ্যাজ্ঞানকারীদের জন্য।
اَلَمۡ نَخۡلُقۡکُّمۡ مِّنۡ مَّآءٍ مَّهِیۡنٍ ﴿ۙ۲۰﴾
২০. আমরা কি
তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি হতে সৃষ্টি করিনি?
فَجَعَلۡنٰهُ فِیۡ قَرَارٍ مَّکِیۡنٍ ﴿ۙ۲۱﴾
২১. তারপর আমরা তা
রেখেছি নিরাপদ আধারে(১),
· (১) অর্থাৎ মায়ের গর্ভস্থল। একে মহান আল্লাহ তা'আলা মুক্ত বাতাস থেকেও সংরক্ষণ করেছেন।
[তাতিম্মাতু আদওয়াউল বায়ান]
اِلٰی قَدَرٍ مَّعۡلُوۡمٍ ﴿ۙ۲۲﴾
(২২) এক নির্দিষ্ট
কাল পর্যন্ত। [1]
· [1] অর্থাৎ, গর্ভের নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত;
ছয় থেকে নয় মাস। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
فَقَدَرۡنَا ٭ۖ فَنِعۡمَ الۡقٰدِرُوۡنَ ﴿۲۳﴾
২৩. অতঃপর আমরা পরিমাপ
করেছি,
সুতরাং আমরা কত নিপুণ পরিমাপকারী!(১)
· [১]
অর্থাৎ,
মাতৃগর্ভে তার
দৈহিক গঠন-বিন্যাসের ব্যাপারে সঠিক অনুমান করে নিয়েছি যে,
উভয় চোখ,
উভয় হাত,
উভয় পা এবং উভয়
কানের মধ্যে ও অন্যান্য আরো অঙ্গের মধ্যে পারস্পরিক কতটা ব্যবধান থাকা উচিত।
(কোথায় কোন্ অঙ্গ রাখা উচিত।) [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۲۴﴾
২৪. সেদিন দুর্ভোগ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য।(১)
· (১) এখানে এ আয়াতাংশ যে অর্থ প্রকাশ করছে তা হলো,
মৃত্যুর পরের
জীবনের সম্ভাব্যতার এ স্পষ্ট প্রমাণ সামনে থাকা সত্বেও যারা তা অস্বীকার করছে
তাদের জন্য ধ্বংস অনিবাৰ্য। [দেখুন: সা'দী] সুতরাং তারা আখেরাত ও পুনরুত্থান
নিয়ে যত ইচ্ছা! হাসি রঙ-তামাসা ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করুক এবং এর ওপর বিশ্বাস
স্থাপনকারী লোকদের তারা যত ইচ্ছা ‘সেকেলে’
অন্ধবিশ্বাসী
এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন বলতে থাকুক। যে দিনকে এরা মিথ্যা বলছে যখন সেদিনটি আসবে তখন
তারা জানতে পারবে, সেটিই তাদের জন্য ধ্বংসের দিন। [তাফসীরে জাকারিয়া]
اَلَمۡ نَجۡعَلِ الۡاَرۡضَ کِفَاتًا ﴿ۙ۲۵﴾
(২৫) আমি কি ভূমিকে
সৃষ্টি করিনি ধারণকারী রূপে।
اَحۡیَآءً وَّ اَمۡوَاتًا ﴿ۙ۲۶﴾
২৬. জীবিত ও মৃতের
জন্য?(১)
· (১) অর্থাৎ ভূমি জীবিত মানুষকে তার পৃষ্ঠে এবং
· সকল মৃতকে তার পেটে ধারণ করে। [সাদী;
মুয়াস্সার]
وَّ جَعَلۡنَا فِیۡهَا رَوَاسِیَ شٰمِخٰتٍ وَّ اَسۡقَیۡنٰکُمۡ مَّآءً
فُرَاتًا ﴿ؕ۲۷﴾
২৭. আর আমরা তাতে
স্থাপন করেছি সুদৃঢ় উচ্চ পর্বতমালা এবং তোমাদেরকে পান করিয়েছি সুপেয় পানি।(১)
· (১) অর্থাৎ এ পৃথিবীর অভ্যন্তরে সুপেয় পানি সৃষ্টি করা
হয়েছে। এর পৃষ্ঠদেশের উপরেও সুপেয় পানির নদী ও খাল প্রবাহিত করা হয়েছে।
· যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “তোমরা যে পানি পান কর তা সম্পর্কে আমাকে
জানাও তোমরা কি সেটা মেঘ হতে নামিয়ে আন, না আমরা সেটা বর্ষণ করি?
আমরা ইচ্ছে করলে
তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?”
[সূরা আল-ওয়াকি'আহ: ৬৮–৭০]
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۲۸﴾
২৮. সেদিন দুর্ভোগ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য।(১)
· (১) এখানে এ আয়াতাংশ। এ অর্থে বলা হয়েছে যে যেসব লোক
আল্লাহ তা'আলার কুদরত ও কর্মকৌশলের এ বিস্ময়কর নমুনা দেখেও আখেরাতের
সম্ভাব্যতা ও যৌক্তিকতা অস্বীকার করছে এবং এ দুনিয়ার ধ্বংসের পর আল্লাহ তা'আলা আরো একটি দুনিয়া সৃষ্টি করবেন এবং
সেখানে মানুষের কাছ থেকে তার কাজের হিসেব গ্রহণ করবেন এ বিষয়টিকেও যারা মিথ্যা
মনে করছে, তারা তাদের এ খামখেয়ালীতে মগ্ন থাকতে চাইলে থাকুক। তাদের
ধারণা ও বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত এসব কিছু যেদিন বাস্তব হয়ে দেখা দেবে,
সেদিন তারা
বুঝতে পারবে যে, এ বোকামির মাধ্যমে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের ব্যবস্থা
করেছে মাত্ৰ। [তাফসীরে জাকারিয়া]
اِنۡطَلِقُوۡۤا اِلٰی مَا کُنۡتُمۡ بِهٖ تُکَذِّبُوۡنَ ﴿ۚ۲۹﴾
(২৯) তোমরা যাকে
মিথ্যাজ্ঞান করতে,
চল তারই দিকে। [1]
· [1] এ কথা ফিরিশতারা জাহান্নামীদেরকে বলবেন।
اِنۡطَلِقُوۡۤا اِلٰی ظِلٍّ ذِیۡ ثَلٰثِ شُعَبٍ ﴿ۙ۳۰﴾
৩০. চল তিন
শাখাবিশিষ্ট আগুনের ছায়ার দিকে,
لَّا ظَلِیۡلٍ وَّ لَا یُغۡنِیۡ مِنَ اللَّهَبِ ﴿ؕ۳۱﴾
(৩১) যে ছায়া শীতল
নয় এবং যা রক্ষা করে না অগ্নিশিখা হতে।[1]
· [1] অর্থাৎ, জাহান্নামের উষ্ণতা থেকে বাঁচাও সম্ভব
হবে না। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
اِنَّهَا تَرۡمِیۡ بِشَرَرٍ کَالۡقَصۡرِ ﴿ۚ۳۲﴾
(৩২) এটা উৎক্ষেপ করবে
বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ অট্টালিকা তুল্য। [1]
· [1] এর আর একটা তর্জমা হল যে,
এটা উৎক্ষেপ
করবে বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ গাছের গুঁড়ির মত। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
کَاَنَّهٗ جِمٰلَتٌ صُفۡرٌ ﴿ؕ۳۳﴾
৩৩. তা যেন পীতবর্ণ
উটের শ্রেণী(১),
· (১) অর্থাৎ জাহান্নামের প্রত্যেকটি স্ফুলিঙ্গ প্রাসাদের মত
বড় হবে। আর যখন এসব বড় বড় স্ফূলিঙ্গ উত্থিত হয়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং চারদিকে
উড়তে থাকবে তখন মনে হবে যেন কালো কিছুটা হলুদ বর্ণের উটসমূহ লম্ফ ঝম্ফ করছে।
[মুয়াস্সার]
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۳۴﴾
(৩৪) সেদিন দুর্ভোগ
মিথ্যাজ্ঞানকারীদের জন্য।
هٰذَا یَوۡمُ لَا یَنۡطِقُوۡنَ ﴿ۙ۳۵﴾
৩৫. এটা এমন এক দিন
যেদিন না তারা কথা বলবে(১),
· (১) অর্থাৎ সেদিন কেউ কথা বলতে পারবে না এবং কাউকে কৃতকর্মের
ওযর পেশ করার অনুমতি দেয়া হবে না। অন্যান্য আয়াতে কাফেরদের কথা বলা এবং ওযর পেশ
করার কথা রয়েছে। সেটা এর পরিপন্থী নয়। কেননা,
হাশরের ময়দানে
বিভিন্ন স্থান আসবে। কোন স্থানে ওযর পেশ করা নিষিদ্ধ থাকবে এবং কোন স্থানে অনুমতি
দেয়া হবে। [ইবন কাসীর]
وَ لَا یُؤۡذَنُ لَهُمۡ فَیَعۡتَذِرُوۡنَ ﴿۳۶﴾
(৩৬) এবং তাদেরকে
ওজর পেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।[1]
· [1] অর্থাৎ, তাদের কাছে পেশ করার মত এমন কোন
গ্রহণযোগ্য ওজর থাকবে না, যা তারা পেশ করে মুক্তি পেতে সক্ষম হবে। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۳۷﴾
(৩৭) সেদিন দুর্ভোগ
মিথ্যাজ্ঞানকারীদের জন্য।
هٰذَا یَوۡمُ الۡفَصۡلِ ۚ جَمَعۡنٰکُمۡ وَ الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿۳۸﴾
৩৮. এটাই ফয়সালার
দিন,
আমরা একত্র করেছি তোমাদেরকে এবং পূর্ববর্তীদেরকে।
· فَاِنۡ
کَانَ لَکُمۡ کَیۡدٌ فَکِیۡدُوۡنِ ﴿۳۹﴾
· ৩৯. অতঃপর তোমাদের কোন কৌশল থাকলে তা প্রয়োগ কর আমার
বিরুদ্ধে।(১)
· (১) অর্থাৎ দুনিয়ায় তো তোমরা অনেক কৌশল ও চাতুর্যের আশ্রয়
নিতে। এখন এখানে কোন কৌশল বা আশ্রয় নিয়ে আমার পাকড়াও থেকে বাঁচতে পারলে তা একটু
করে। দেখাও। কিন্তু আজ তোমাদের কোন কৌশল কাজে আসবে না। আজ তোমরা পাকড়াও থেকে
বাঁচতে পারবে না। যেমন
· অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْأِنْسِ إِنِ
اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
فَانْفُذُوا অর্থাৎ,
হে জ্বিন ও
মানুষ সম্প্রদায়! আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সীমা তোমরা যদি অতিক্রম করতে পার,
তাহলে অতিক্রম
কর--। (সূরা রহমান ৩৩ আয়াত)
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۴۰﴾
(৪০) সেদিন দুর্ভোগ
মিথ্যাজ্ঞানকারীদের জন্য।
اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ ظِلٰلٍ وَّ عُیُوۡنٍ ﴿ۙ۴۱﴾
৪১. নিশ্চয়
মুত্তাকীরা(১) থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণ বহুল স্থানে,
· (১) মুত্তাকী শব্দ বলে এখানে সেসব লোকদের বুঝানো হয়েছে যারা
আখেরাতকে মিথ্যা বলে অস্বীকার করা থেকে বিরত থেকেছে এবং আখেরাতকে মেনে নিয়ে এ
বিশ্বাসে জীবন যাপন করেছে যে, আখেরাতে আমাদেরকে নিজেদের কথাবার্তা,
কাজ-কর্ম এবং
স্বভাব চরিত্র ও কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই কথাবার্তা,
কাজকর্মে
সত্যবাদিতার প্রমাণ রেখেছে এবং তারা ফরয ও ওয়াজিব সঠিক মত আদায় করেছে। [দেখুন:
সা’দী]
وَّ فَوَاکِهَ مِمَّا یَشۡتَهُوۡنَ ﴿ؕ۴۲﴾
(৪২) তাদের বাঞ্ছিত
ফলমূলের প্রাচুর্যের মধ্যে। [1]
· [1] সর্বপ্রকার ফল-মূল। যখনই তারা তা খেতে ইচ্ছা করবে,
তখনই তা এসে
উপস্থিত হয়ে যাবে। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
کُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا هَنِیۡٓــًٔۢا بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۴۳﴾
(৪৩) তোমরা তোমাদের
কর্মের পুরস্কার স্বরূপ তৃপ্তির সাথে পানাহার কর। [1]
· [1] এটা অনুগ্রহ স্বরূপ বলা হবে না। بِمَا
كُنْتُمْ এ بَ
হরফটি কারণ
বর্ণনাকারীরূপে ব্যবহূত হয়েছে। অর্থাৎ, জান্নাতের এই নিয়ামতগুলো সেই নেক
কাজগুলোর কারণে তোমরা পেয়েছ, যা তোমরা দুনিয়াতে করেছিলে। এর অর্থ হল,
আল্লাহর যে
রহমতের অসীলায় মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই রহমত লাভ করার মাধ্যম হল সৎকর্মাবলী।
যারা সৎকর্ম ছাড়াই আল্লাহর রহমত ও তাঁর ক্ষমা পাওয়ার আশাবাদী,
তাদের দৃষ্টান্ত
ঠিক সেই চাষীর মত, যে জমিতে চাষ না দিয়েই এবং বীজ না বুনেই ফসল পাওয়ার আশাবাদী
হয়ে বসে থাকে। অথবা তার মত যে নিম গাছের বীজ লাগিয়ে আঙ্গুর ফলের আশা রাখে। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ ﴿۴۴﴾
(৪৪) এভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে
পুরস্কৃত করে থাকি।[1]
· [1] এখানেও পূর্বোক্ত বিষয়ের উপর তাকীদ করা এবং তা স্মরণ করিয়ে
দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যদি আখেরাতে উত্তম পরিণাম পাওয়ার আশাবাদী
হও, তবে দুনিয়াতে নেকী ও কল্যাণের পথ অবলম্বন কর। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۴۵﴾
(৪৫) সেদিন দুর্ভোগ
মিথ্যাজ্ঞানকারীদের জন্য। [1]
· [1] আল্লাহভীরুদের ভাগে জুটবে জান্নাতের নিয়ামত এবং ওদের ভাগে
জুটবে বড়ই দুর্ভাগ্য। [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
کُلُوۡا وَ تَمَتَّعُوۡا قَلِیۡلًا اِنَّکُمۡ مُّجۡرِمُوۡنَ ﴿۴۶﴾
৪৬. তোমরা খাও এবং
ভোগ করে নাও অল্প কিছুদিন, তোমরা তো অপরাধী।(১)
· (১) অর্থাৎ কিছুদিন খেয়ে-দেয়ে নাও এবং আরাম করে নাও। তোমরা
তো অপরাধী; অবশেষে কঠোর আযাব ভোগ করতে হবে। নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে একথা
দুনিয়াতে মিথ্যারোপকারীদেরকে বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য এই যে,
ক্ষণস্থায়ী
আরাম-আয়েশের পর তোমাদের কপালে আযাবই আযাব রয়েছে। [দেখুন: সা’দী]
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۴۷﴾
(৪৭) সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যাজ্ঞানকারীদের জন্য।
وَ اِذَا قِیۡلَ لَهُمُ ارۡکَعُوۡا لَا یَرۡکَعُوۡنَ ﴿۴۸﴾
৪৮. যখন তাদেরকে
বলা হয় রুকু কর,
তখন তারা রুকু করে না।(১)
· (১) এখানে অধিকাংশ তফসীরবিদের মতে রুকুর পারিভাষিক অর্থই
উদ্দেশ্য। অর্থ এই যে, যখন তাদেরকে সালাতের দিকে আহবান করা হত,
তখন তারা সালাত
পড়ত না। কাজেই আয়াতে রুকু বলে পুরো সালাত বোঝানো হয়েছে। [বাগভী;
ইবন কাসীর;
সা’দী]
وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۴۹﴾
৪৯. সেদিন দুর্ভোগ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য।
فَبِاَیِّ حَدِیۡثٍۭ بَعۡدَهٗ یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۵۰﴾
৫০. কাজেই তারা
কুরআনের পরিবর্তে আর কোন কথায় ঈমান আনবে!(১)
· (১) অর্থাৎ মানুষকে হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝিয়ে দেয়ার
এবং হিদায়াতের পথ দেখানোর জন্য সবচেয়ে বড় জিনিস যা হতে পারতো তা কুরআন আকারে
নাযিল করা হয়েছে। তারা যখন কুরআনের মত অপূর্ব,
অলংকারপূর্ণ,
তত্ত্বপূর্ণ ও
সুস্পষ্ট প্রমাণাদিমণ্ডিত কিতাবে ঈমান আনল না,
তখন এরপর আর কোন
কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে? এ কুরআন পড়ে বা শুনেও যদি একে বাদ দিয়ে
আর অন্য কোন জিনিসের দিকে ধাবিত হয় তবে তাদের মত দুৰ্ভগা আর কে হতে পারে?
[দেখুন: সা’দী]