সূরা আল-মুলক-এর তাফসির-৪
সূরা আল-মুলক-এর তাফসির-৪
এ পর্বে আমরা সূরা মূলকের ১৬তম আয়াত থেকে ২২তম আয়াত পর্যন্ত আলোচনা করব ইনশা-আল্লাহ্। আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ তাবারাক ওয়া তাআলার গযব তথা দুনিয়ায় তাঁর প্রেরিত শাস্তি প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। সুতরাং আজকের আলোচ্য বিষয়-
আল্লাহ্ তাআলার গযব
ءَأَمِنتُم مَّن فِي ٱلسَّمَآءِ أَن يَخۡسِفَ بِكُمُ ٱلۡأَرۡضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ
তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ সেই মহান সত্তা সম্পর্কে, যিনি আকাশে রয়েছেন এ ব্যাপারে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটিতে বিধ্বস্ত করে দিবেন এবং এ পৃথিবীে সহসা টলটলায়মান হয়ে কাঁপতে শুরু করবে।
أَمۡ أَمِنتُم مَّن فِي ٱلسَّمَآءِ أَن يُرۡسِلَ عَلَيۡكُمۡ حَاصِبٗاۖ فَسَتَعۡلَمُونَ كَيۡفَ نَذِيرِ
তোমরা কি এ ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গেছ যে, যিনি আকাশে রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী প্রবল বায়ু প্রবাহিত করবেন? পরে তোমরা জানতে পারবে যে, আমার সতর্কীকরণ কেমন ছিল।
وَلَقَدۡ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ فَكَيۡفَ كَانَ نَكِيرِ
এদের পূর্বের লোকেরা অস্বীকার করেছিল। অতএব লক্ষ্য কর, আমার ধরা কত কঠোর ও কঠিন ছিল।
أَوَلَمۡ يَرَوۡاْ إِلَى ٱلطَّيۡرِ فَوۡقَهُمۡ صَٰٓفَّٰتٖ وَيَقۡبِضۡنَۚ مَا يُمۡسِكُهُنَّ إِلَّا ٱلرَّحۡمَٰنُۚ إِنَّهُۥ بِكُلِّ شَيۡءِۭ بَصِيرٌ
লোকেরা কি নিজেদের উপর উড়ন্ত পাখিগুলোকে পাখা বিস্তার করতে ও গুটিয়ে নিতে দেখে না? একমাত্র রহমান ছাড়া তাদেরকে অন্য কেউ ধরে রাখে না। তিনিই সব কিছুর দর্শক ও সংরক্ষক।
আল্লাহ কি নিরাকার?
আল্লাহ তাআলার আকার আছে, তিনি নিরাকার নন। এ মর্মে অসংখ্য আয়াত এবং হাদীস রয়েছে। উল্লেখ আয়াতসমূহের মধ্যে প্রথম দুই আয়াতও এর দলীল হিসেবে বিবচ্যে।
আল্লাহ কি সর্বত্র বিরাজমান?
আল্লাহ তাআলা সর্বত্র বিরাজমান নন। তাঁর ক্ষমতা সর্বত্র। কিন্তু তিনি আরশে সমাসীন রয়েছেন। এ মর্মেও অসংখ্য আয়াত এবং হাদীস রয়েছে। আর এখানে তো পরিস্কার করেই বলেছেন যে, তিনি আকাশে রয়েছেন। আর আল্লাহর আরশও আকাশের উপরেই অবস্থিত।
তাই অমুসলিমরা যেমন মনে করে, ‘ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান ও নিরাকার’-এমন ভ্রান্ত আক্বিদা-বিশ্বাস লালন করে কেউ ঈমানকে নষ্ট করবেন না।
আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (ছা) বলেছেন, যখন তোমরা আল্লাহর নিকট চাইবে তখন জান্নাতুল ফিরদাউস চাও। তা জান্নাতের মাঝখানে রয়েছে। জান্নাতের সবচেয়ে উপরে রয়েছে। তার উপরে রহমানের আরশ রয়েছে। (বুখারী, মিশকাত হা/৩৭৮৩)
أَمَّنۡ هَٰذَا ٱلَّذِي هُوَ جُندٞ لَّكُمۡ يَنصُرُكُم مِّن دُونِ ٱلرَّحۡمَٰنِۚ إِنِ ٱلۡكَٰفِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ
বল, তোমাদের নিকট এমন কোন েসৈন্যবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে, যারা রহমানের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে? সত্য কথা এই যে, এ অমান্যকারীরা ধোঁকায় পড়ে রয়েছে।
أَمَّنۡ هَٰذَا ٱلَّذِي يَرۡزُقُكُمۡ إِنۡ أَمۡسَكَ رِزۡقَهُۥۚ بَل لَّجُّواْ فِي عُتُوّٖ وَنُفُورٍ
অথবা বল, তোমাদেরকে কে রূযী দিতে পারে, রহমান যদি রূযী বন্ধ করে দেন? আসল কথা হল এ লোকেরা অবাধ্যতা ও সত্য পরিহার করার উপর অবিচল রয়েছে।
أَفَمَن يَمۡشِي مُكِبًّا عَلَىٰ وَجۡهِهِۦٓ أَهۡدَىٰٓ أَمَّن يَمۡشِي سَوِيًّا عَلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ
যে লোক উল্টা দিকে মুখ করে চলছে, সে অধিক সত্য পথে চলে, সে অধিক সত্য পথ প্রাপ্ত?
মুশরিক কাফেররা ক্বিয়ামত কবে হবে তা জানতে চেয়েছিল। এ কথার অর্থ এই নয় যে, ক্বিয়ামতের বছর দিন তারিখ বলে তারা মেনে নিত। আসলে ক্বিয়ামত হবে এ কথাকে তারা অলীৈক ও বিবেক বুদ্ধি বহির্ভূত মনে করে আর ক্বিয়ামতকে অবিশ্বাস ও অগ্রাহ্য করার একটা অযুহাত হিসাবে তার দিন-তারিখের কথা জিজ্ঞেস করেছিল।
قُلۡ هُوَ ٱلَّذِيٓ أَنشَأَكُمۡ وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَٰرَ وَٱلۡأَفۡـِٔدَةَۚ قَلِيلٗا مَّا تَشۡكُرُونَ قُلۡ هُوَ ٱلَّذِي ذَرَأَكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَإِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلۡوَعۡدُ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ قُلۡ إِنَّمَا ٱلۡعِلۡمُ عِندَ ٱللَّهِ وَإِنَّمَآ أَنَا۠ نَذِيرٞ مُّبِينٞ فَلَمَّا رَأَوۡهُ زُلۡفَةٗ سِيٓـَٔتۡ وُجُوهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَقِيلَ هَٰذَا ٱلَّذِي كُنتُم بِهِۦ تَدَّعُونَ قُلۡ أَرَءَيۡتُمۡ إِنۡ أَهۡلَكَنِيَ ٱللَّهُ وَمَن مَّعِيَ أَوۡ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ ٱلۡكَٰفِرِينَ مِنۡ عَذَابٍ أَلِيمٖ قُلۡ هُوَ ٱلرَّحۡمَٰنُ ءَامَنَّا بِهِۦ وَعَلَيۡهِ تَوَكَّلۡنَاۖ فَسَتَعۡلَمُونَ مَنۡ هُوَ فِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ قُلۡ أَرَءَيۡتُمۡ إِنۡ أَصۡبَحَ مَآؤُكُمۡ غَوۡرٗا فَمَن يَأۡتِيكُم بِمَآءٖ مَّعِينِۭ