সূরা আল-ক্বালাম-এর তাফসির-২

     

সূরা আল-ক্বালাম-এর তাফসির-২

এ পর্বে আমরা সূরা ক্বালামের ১০ম আয়াত  থেকে ১৬তম আয়াত পর্যন্ত আলোচনা করব ইনশা-আল্লাহ্। আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ তাবারাক ওয়া তাআলা ‘কাদেরকে অনুসরণ করতে হবে’ সেসম্পর্কে   আলোকপাত করেছেন। সুতরাং আজকের  আলোচ্য বিষয়- 

কাদেরকে অনুসরণ করতে হবে? 

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

আপনি এমন ব্যক্তির অনুসরণ করবেন না যে, খুব কসম করে এবং হীন-নীচু মনের ব্যক্তি,

যে লোক গাল গল্প করে, অভিশাপ দেয়, চোগলখুরি করে বেড়ায়। (1)*


ভালো কাজে বাধা দেয়, যে লোক সীমালঙ্ঘনকারী, অপরাধী।


যে লোক জুলুমবাজ,বদমেজাজী এর পরেও সে বদজাত।


এ কারণে যে, সে বিপুল ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির অধিকারী হয়েছে।


আমার আয়াত যখন তার সামনে তেলাওয়াত করা হয়, তখন  সে বলে এতো পূর্বের লোকের গল্প-কাহিনী।


অ িচরেই আমারা তার শুঁড়ের উপর দাগ লাগিয়ে দিব।

---------------------------------------------
(১)* আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, একদা নাবী কারীম (স) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন,              এদের     উভয়কে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন বড় পাপের কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। এদের              একজন   পেশাব থেকে বেঁচে থাকতো না আর অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াতো। (বুখারী,               মুসলিম, মিশকাত হা/৩১১)
    হুযায়ফা (রা) বলেন, আমি রাসূল (স) কে বলতে শুনেছি, ‘চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না ’         (বুখারী, হা/৬০৫৬. মুসলিম হা/১৫০-১৬৯)
    * আবু ওয়ায়েল (রা) বলেন, হুযায়ফা (রা) জানতে পারলেন যে, অমুক ব্যক্তি গীবত করে বেড়ায়। তখন         তিনি বললেন, আমি রাসূল (স) কে বলতে শুনেছি ,‘চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না’                    (আহমাদ, ইবনু কাসির, হা/৬৯৫৭)
    * আসমা বিনতে ইয়াযিদ আস সাকান বলেন, নাবী কারীম (সা) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে                     সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তির কথা বলব না? সাহাবী বললেন, হ্যাঁ বলেন। রাসূল (স) বললেন, যাকে দেখে             আল্লাহকে স্মরণ হয়। আর আমি তোমাদের সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তির কথা বলব কী?                                     যারা চোগলখোরী করে বেড়ায়। বন্ধুদের মাঝে সৃষ্টি করে আর সৎ ও পবিত্র লোকদের উপর মিথ্যা          অপবাদ দেয়। (ইবনু মাজাহ হা/৪১১৯)
    *   সাহল ইবনু সা’দ (রা) বলেন, রাসূল (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি জিহবা এবং লজ্জাস্থান জিম্মাদার হবে             আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব।’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/ ৪৮২২)     
    *   আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা) বলেন, রাসূল (স) বলেছেন, তোমরা সত্যকে আঁকড়ে ধর। কারণ সত্য         নেকীর দিকে নিয়ে যায়। আর নেকী  জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বলে         এবং সত্য বলতে চেষ্টা করে আল্লাহর কাছে তাকে সত্যবাদী বলে লিখা হয়। আর তোমরা মিথ্যা হতে         বেঁচে থাকো। মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায়, তার পর জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। যে ব্যক্তি সর্বদা         কথা বলে এবং মিথ্যা বলতে চেষ্টা করে, আল্লাহর কাছে তাকে মিথ্যাবাদী বলে লেখা হয়।’ (মুসলিম,             মিশকাত হা/৪৮২৪)
*       আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (সা) ছাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি জান গীবত কাকে         বলে? ছাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেন, তোমাদের কোন                 ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে। আর এটাই হল গীবত। কোন ছাহাবী                     বললেন, আমি যা বলি, তা যদি আমার ভাইয়ের মাঝে বিদ্যমান থাকে, সে ব্যাপারে আপনার কি                 অভিমত? তখন তিনি বললেন, তুমি যা বল, তা তার তার মাঝে বিদ্যমান থাকলে তুমি তার গীবত             করলে। আর তুমি যা বলছ, তা তার মাঝে বিদ্যমান না থাকলে তুমি তার উপর অপবাদ দিলে।’                 (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২৮)

    *   আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (স) বলেছেন, ‘তোমরা কি জান মানুষকে কোন জিনিস বেশী বেশী জান্নাতে প্রবেশ করায়?   






Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url