সূরা আল-মুলক-এর তাফসির-৫

   

সূরা আল-মুলক-এর তাফসির-৫

এ পর্বে আমরা সূরা মূলকের ২৩তম আয়াত  থেকে ৩০তম আয়াত তথা এ সূরার শেষ পর্যন্ত আলোচনা করব ইনশা-আল্লাহ্। আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ তাবারাক ওয়া তাআলার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানব জাতির সৃষ্টির প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। সুতরাং আজকের  আলোচ্য বিষয়- 

মানব জাতির সৃষ্টি


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

قُلۡ هُوَ ٱلَّذِيٓ أَنشَأَكُمۡ وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَٰرَ وَٱلۡأَفۡـِٔدَةَۚ قَلِيلٗا مَّا تَشۡكُرُونَ  
হে নবী আপনি বলুন, একমাত্র তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে শুনবার, দেখবার ও অনুধাবন করার অন্তর দিয়েছেন। কিন্তু তোমরা খুব কম সংখ্যকই শুকরিয়া আদায় কর।

قُلۡ هُوَ ٱلَّذِي ذَرَأَكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَإِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ  
হে নবী আপনি বলুন, একমাত্র তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন আর তাঁর দিকেই তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।

وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلۡوَعۡدُ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ  
এ লোকেরা বলে, তোমারা সত্যবাদী হলে বল, ক্বিয়ামতের এ নির্ধারিত দিনটি কবে ঘটবে? (1)

قُلۡ إِنَّمَا ٱلۡعِلۡمُ عِندَ ٱللَّهِ وَإِنَّمَآ أَنَا۠ نَذِيرٞ مُّبِينٞ  
বল, এ বিষয়ে জ্ঞান তো আল্লাহর নিকটেই রয়েছে। আমি তো শুধু সুষ্পষ্ট ভাষায় সাবধানকারী মাত্র।

فَلَمَّا رَأَوۡهُ زُلۡفَةٗ سِيٓـَٔتۡ وُجُوهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَقِيلَ هَٰذَا ٱلَّذِي كُنتُم بِهِۦ تَدَّعُونَ  
পরে তারা যখন এ ক্বিয়ামত নিকটে উপস্থিত দেখতে পাবে, তখন অমান্যকারীদের মুখ বিকৃত হয়ে যাবে। আর তখন তাদের বলা হবে, সেই সময় ক্বিয়ামত যার ব্যাপারে তোমরা জোর দাবী করছিলে।

قُلۡ أَرَءَيۡتُمۡ إِنۡ أَهۡلَكَنِيَ ٱللَّهُ وَمَن مَّعِيَ أَوۡ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ ٱلۡكَٰفِرِينَ مِنۡ عَذَابٍ أَلِيمٖ  
হে নাবী! আপনি এ লোকদেরকে বলুন, তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছ? যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সাথীদের ধ্বংস করেন অথবা আমার প্রতি দয়া করেন, তবে কাফেরদের কষ্টদায়ক শাস্তি হতে কে রক্ষা করবে?

قُلۡ هُوَ ٱلرَّحۡمَٰنُ ءَامَنَّا بِهِۦ وَعَلَيۡهِ تَوَكَّلۡنَاۖ فَسَتَعۡلَمُونَ مَنۡ هُوَ فِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ
হে নাবী! আপনি বলুন, তিনি রহমান আমরা তাঁর উপর ঈমান এনেছি, আমরা তাঁর উপর ভরসা করি। অচিরই তোমরা জানতে পারবে স্পষ্ট ভ্রান্তের মধ্যে কে রয়েছে?

قُلۡ أَرَءَيۡتُمۡ إِنۡ أَصۡبَحَ مَآؤُكُمۡ غَوۡرٗا فَمَن يَأۡتِيكُم بِمَآءٖ مَّعِينِۭ
হে নাবী! আপনি লোকদেরকে বলুন, তোমরা কি কখনও একথা ভেবে দেখেছে যে, তাহলে পানির প্রবাহমান ধারা কে এনে দিবে? (2)

  1. মুশরিক-কাফিরেরা ক্বিয়ামত কবে হবে তা  জানতে চেয়েছিল। এ কথার অর্থ এই নয় যে, ক্বিয়ামতের দিন তারিখ বলে দিলে তারা মেনে নিত। আসলে ক্বিয়ামত হবে এ কথাকে তারা অলীক ও বিবেক বুদ্ধি বহির্ভূত মনে করে আর ক্বিয়ামতকে অবিশ্বাস  ও অগ্রাহ্য  করার একটা অযুহাত হিসাবে তার দিন-তারিখের কথা জিজ্ঞেস করেছিল। তাদের কথার অর্থ হল মুহাম্মদ তুমি যে, আমাদেরকে হাশর নশরের আশ্চর্যজনক খবর শুনাচ্ছ, তা কার্যত কবে হতে পারে? কখন পাঠানোর জন্য তাকে তুলে রাখা হয়েছে?ক্বিয়ামত আমাদের চোখের সামনে এনে দেখিয়ে দাও। দেখিয়ে দিলে তো আমরা মেনে নেই,, এগুলো ছিল বিদ্রুপের সুর মাত্র।
  2. পানি যমীনের তথায় চলে গেলে পুনরায় তা প্রবাহমান করে দিবে, এমন শক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো আছে কি? যদি না থাকে তাহলে সকল মানুষের একথা মেনে নেয়া যরূরী যে, পানি ফিরিয়ে নিয়ে আসার ক্ষমরা একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে। অতএব সকল ক্ষমতার মালিক যিনি, একমাত্র তিনিই ইবাদতের হকদার।






Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url